বিডিআর হত্যাকাণ্ডের রায় আজ

bdrউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: চার বছর আগে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। আসামীদের কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়েছে। আসামী সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিচার কোর্ট ভবনে করা সম্ভব হয়নি। তাই ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস।

রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আখতারুজ্জামান।

রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বকশিবাজার ও উর্দু রোড দিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আসামির সংখ্যার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। এ মামলায় কারাবন্দি ৮১৩ আসামির সবাইকে সকালেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

জামিনে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই উপস্থিত হয়েছেন রায় ঘোষণার দিনে। বাকী তিনজন নওগাঁ ও যশোরে আছেন। হরতালের কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি বলে আদালতকে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

গত রোববার যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবি আনিসুল হক এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। আদালত উভয়পক্ষকেই ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন।

বিচারকাজ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিজস্ব আইনে সম্পন্ন হয়েছে। আর পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে ৭৩ জনকে হত্যা, লুণ্ঠনসহ অন্য অভিযোগের বিচার হচ্ছে প্রচলিত আইনে।

নাসির উদ্দিন পিন্টুকে রাজনৈতিক কারণে আসামি করা হয়েছে বলে ওইদিন অভিযোগ করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলেই তাকে আসামি করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মমলার বিচারকাজ ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয় বিচারক জহুরুল হকের অধীনে। বর্তমানে তার স্থলে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিচারকাজ সম্পন্ন করেন

মামলায় মন্ত্রী, সংসদসদস্য, সাবেক ও বর্তমান সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান আইজি, বেসামরিক ব্যাক্তিসহ এ মামলার এক হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করা হয়।

এ দুইটি মামলায় ২০জন আসামি পলাতক রয়েছে। বিচার কার্যক্রম চলার সময়ে ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭০ জন নিহত হন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.