নতুন জীবন পেল ‘আদুরী’

aduriউইমেন চ্যাপ্টার: ডাস্টবিন থেকে মৃতপ্রায় উদ্ধার পাওয়া গৃহকর্মী আদুরী (১১) কি ভাবতে পেরেছিল, সে আবার বেঁচে উঠবে? আবার ফিরে পাবে মায়ের সান্নিধ্য? স্বপ্ন দেখবে আর পাঁচটা শিশুর মতোনই? কিন্তু এসবই সম্ভব হয়েছে কিছু মানুষের মানবিকতার জন্য। অমানবিকতার শিকার হয়েও মানবিকতাই এখন তার জীবনে পাথেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আজ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি রিকশার মালিকানা। এই রিকশা থেকে আয় দিয়ে চলবে তার জীবন, লেখাপড়া, স্বপ্ন দেখাও। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমদ আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিকশাগুলো হস্তান্তর করেন।

শুধু তাই নয়, এ ছাড়া পুলিশের একজন কর্মকর্তার বোন আদুরীকে ৭৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আদুরী ও তার মা সাফিয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে কঙ্কালসার মৃতপ্রায় আদুরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে প্রথমে নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। বিশেষ সতর্কতার সাথে এবং গুরুত্ব দিয়ে তার চিকিৎসার ২৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।  প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে গত শনিবার সে ছাড়া পায় হাসপাতাল থেকে।

গত শনিবার হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আদুরী এখন প্রায় সুস্থ।  তার শরীরে নির্যাতনের দাগগুলো আছে, তা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মুছে যাবে বলে জানান একজন চিকিৎসক। আদুরীকে ডাস্টবিন থেকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে একাধিক দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে আদুরীর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান ওরফে নদীকে ও ৩ অক্টোবর তার মা ইশরাত জাহানকে আটক করা হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর আদুরীর মামা নজরুল চৌধুরী বাদী হয়ে নওরীন, তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় নওরীন ও তাঁর মা ইশরাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটির তদন্ত করে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গত ১০ অক্টোবর নওরীন ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংকের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখায় আদুরীর সাহায্যার্থে তার মা সাফিয়া বেগমের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে (নম্বর-২৫৬০৫)। সাহায্য করতে ইচ্ছুক যে কেউ ওই হিসাবে অর্থ সাহায্য পাঠাতে পারেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.