ককটেল, সংঘর্ষের হরতালে নিহত ২

hortalউইমেন চ্যাপ্টার: দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল সহিংসতায় এ পর্যন্ত দুজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে লালমনিরহাটে একজন, নাটোরের গুরুদাসপুরে অপরজন মারা গেছে। এছাড়া, গতকাল সাভারে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ একজন অটোরিকশা যাত্রী আজ সোমবার সকালে মারা গেছেন।

এছাড়া দেশজুড়ে মিছিল-পাল্টা মিছিল, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার ভোর ছয়টা থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতাল চলছে। লালমনিরহাট পুলিশ বিবিসিকে জানায়, পাটগ্রামে আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও বিএনপির মধ্যে সকাল থেকে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হয়। এসময় সংঘর্ষে নাসির হোসেন (২২) নামের একজন মারা যায়, আহত হয় ১০জন পুলিশ সদস্যসহ উভয় দলের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, গাজীপুরে তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে পিকেটাররা। এতে একটি কভার্ড ভ্যানের চালক আহত ও তার ছেলে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। কিশোর বয়সী ওই ছেলে তখন কভার্ড ভ্যানে ঘুমাচ্ছিল। আগুনে তার শরীরের অধিকাংশই পুড়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে বিরোধী দল এই হরতালের ডাক দেয়।

 মাত্র পাঁচদিন আগে একই রকম ৬০ ঘন্টার আরেকটি হরতাল পালন করে বিরোধী জোট। এতে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গত হরতালে ব্যাপক সহিংসতার পর এবার পুলিশকে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তিপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।

সকালে হরতাল শুরুর পর থেকে যান চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা খুবই কম।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তায় প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশি তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে সাঁজোয়া যান।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিস, বুড়িমারী স্থলবন্দর,পাটগ্রাম বাজার, চৌরঙ্গি মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াত শিবিরকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে নাসির হোসেন নামের এক যুবক নিহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.