জামায়াতের ‘সঙ্গ’ ছেড়ে ‘সমঝোতা’ করতে খালেদার প্রতি আহ্বান

0

Khaleda-CPBউইমেন চ্যাপ্টার: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামায়াতে ইসলামির সঙ্গ ছেড়ে ‘সমঝোতার’ পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন সিপিবি-বাসদ নেতারা। সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেয়ার একদিন পরই তারা এক বৈঠকে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই পরামর্শ দেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই নেত্রীর সাথে বৈঠকেই  নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বাম নেতারা। নইলে অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতা দখলের আশঙ্কার কথাও প্রধান বিরোধী দলকে জানিয়েছেন তারা।

সিপিবি ও বাসদের সঙ্গে বৈঠকেকে ‘ফলপ্রসূ’ অভিহিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরাও সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই।”

দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের বাইরে থাকা বামপন্থী দল দুটির নেতারা।

ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র সুসংহত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানালে সিপিবি-বাসদের নেতারা সব দলকে নিয়ে নির্বাচনের ওপর জোর দেন।

এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি, কোনো প্রটোকলের কথা চিন্তা না করে অথবা নিজের দেওয়া প্রস্তাবের দিকে না তাকিয়ে সমঝোতার পথে অগ্রসর হন।

“আমরা মনে করি, সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অন্য পথে গেলে দেশ বিপদগ্রস্ত হবে। একতরফা নির্বাচন ও এক-এগারোর পুনরাবৃত্তিতে চলমান সঙ্কটের সমাধান আসবে না।”

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে দুই প্রধান দলের মতভেদ এখন চরম পর্যায়ে গেছে। দুই নেত্রীর অনড় অবস্থানের কারণে দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসনেই প্রগতিশীল দলগুলো এই উদ্যোগ নেয়।

সিপিবি সভাপতি জানান, তারা সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতাও ফর্মুলা দিয়েছেন। সেইসাথে সিপিবি-বাসদেরও কয়েকটি প্রস্তাব আছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করতে হবে।

’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে সেলিম বর্তমান পরিসিস্থিতিতেও সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন।

“তখন এরশাদ বলেছিল- ‘আমার কোনো ভয় নেই, কারণ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু এক হবে না’। ওই সময়ে আমরা প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেবকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সঙ্কট সমাধানে এক হয়েছিলাম।”

বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, “আমরা মনে করি, দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কর্তৃত্ব রেখে চলমান সঙ্কটের সমাধান হবে না। সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট উত্তরণে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নইলে এর দায়-দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।”

নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে খালেকুজ্জামান বলেন, “ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আগামী দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল।

“আমরা মনে করি, এই কথাটি গ্রহণ করা উচিৎ। দলীয় অহমিকা ছেড়ে তারা বাস্তব উপযোগী গ্রহণযোগ্য পথ বের  করবেন- এটাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা।”

দুই বাম দলের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির মুখপাত্র ফখরুল বলেন, “সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

“তারা (সিপিবি-বাসদ) মনে করে, এ সঙ্কট সমাধানে সব দলের অংশ গ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমরাও সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সদ্য সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, কূটনীতিকদের তৎপরতা নিয়েও আলোচনা হয়।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের সমালোচনা করে সিপিবি সভাপতি বলেন, “এর মাধ্যমে অন্য দল থেকে লোক ভাগানো ও কালো টাকার মালিকদের নির্বাচন করার রাস্তা আবার চালু করা হয়েছে।”

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও মধ্য ডানপন্থী দল বিএনপির কাছে তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়তে বিরোধীদলীয় নেতাকে পরামর্শ দেন তারা।

সেলিম বলেন, “বিএনপির সঙ্গে আমাদের অনেক মতপার্থক্য আছে। আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেরুকরণের ফলে দেশে এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

“এই দুই আপদ-বিপদকে রেখেই আমরা দেশে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে চাই। এটি বিরোধীদলীয় নেতাকে আমরা জানিয়েছি।”

বৈঠকে সিপিবি নেতাদের মধ্যে ছিলেন মনজুরুল আহসান খান, সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, হায়দার আকবর খান রনো, মো. শাহ আলম, শামছুজ্জামান সেলিম, আহসান হাবিব লাবলু, রফিকুজ্জামান লায়েক, রুহিন হোসেন প্রিন্স ও অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন।

১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলে বাসদ নেতা ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহেদুল হক মিলু ও রাজেকুজ্জামান রতন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফখরুল ছাড়াও ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক ও সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী।

শেয়ার করুন:

লেখাটি ৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.