১৫ বছরেই মা হচ্ছেন মেয়েরা

0

womenউইমেন চ্যাপ্টার: জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে , বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ মেয়েদেরই বিয়ে হয় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। কিশোরী বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বরে। আর সারা বিশ্বে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তিন নম্বরে।

রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, এর ফলে এদেশে প্রতি ১০জন নারীর অন্তত একজন ১৫ বছরের পৌঁছানোর আগেই মা হচ্ছেন। বুধবার প্রকাশিত হয় এই রিপোর্ট। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোরী বয়সে বিয়ে আর গর্ভধারণের কারণে নানা শারীরিক ও সামাজিক সমস্যার মুখে পড়তে হয় মেয়েদের।

বিবিসির প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:
রাজধানীর কারওয়ান বাজার বস্তিতে বাস করেন নার্গিস বেগম। ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার। তখনও তিনি বিয়ে কি জিনিস সেটিই বুঝতেন না।

“বিয়ে কি জিনিষ এটা তো আমি বুঝতামই না। আমার বাপ মা দেশে (গ্রামে) গেছে। সবাই মিলে ধরছে। হ্যাগো (ওদের) ছেলে পছন্দ হইছে। কাবিন করে রাখবো ছয়মাস। পরে ছয়মাস কাবিন করে রাখছে, ১২ বছরের মাথায় তুলে নিছে।”

বিয়ের পরই জীবন বদলে যায় নার্গিসের। বিয়ের পর এক বছরের মাথায়ই সন্তানের মা হন তিনি।

গর্ভকালীন জটিলতায় পড়তে হয় তাকেও। সন্তান গর্ভে আসার ৭ মাসের মাথায় পেটের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।

তার ভাষায়, “সাত মাসের মাথায় পেটের বাম পাশে ব্যথা উঠে। পরে ডাক্তারের কাছে নিলে বলে টিকার অভাবে এরকম হয়েছে।”

এভাবেই অসাবধানতায় অনেক কিশোরীর গর্ভকালীন জটিলতা ভয়াবহ রূপ নেয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের জন্য বাচ্চা প্রসবের সময় দেখা দেয় নানান জটিলতা। এতে বাচ্চা ও মায়ের স্থায়ী সমস্যা দেখা দেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে মায়ের ফিস্টুলার মত ভয়াবহ অসুখও হয়ে থাকে। তখন পরিবারের আপনজনদের কেউই কাছে আসতে চায়না। শুরু হয় অভিশপ্ত এক জীবন।

নার্গিস বেগমের বয়স এখন মাত্র ১৭ বছর। এরই মধ্যে তিনি দুই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

ইউএনএফপিএর তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন মেয়েদের মধ্যে অন্তত ১ জন মেয়ে ১৫ বছর না পেরুতেই মা হন।

এর ফলে বদলে যাচ্ছে এসব কিশোরীর জীবন। গর্ভকালীন জটিলতায় মাতৃমৃত্যুর হারও এসব কিশোরীদের মাঝেই বেশি। এই হার প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের চাইতে দ্বিগুণ।

ইউএনএফপিএর মাতৃ-স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শামীমা শারমিন এ বিষয়ে বলেন, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ করলে মায়ের শারীরিক গঠন সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে সন্তান প্রসবের সময় মাথা আটকে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। এতে মা ও শিশু দুজনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকক্ষেত্রে ফিস্টুলার মত দীর্ঘস্থায়ী অসুখও দেখা যায় মায়ের।

বাংলাদেশে এই সমস্যার কারণ হিসেবে রয়েছে আর্থ সামাজিক অবস্থা। এ ধরনের প্রবণতা দারিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যেই বেশি প্রবল। সাধারণত মেয়েদের বেশিদিন পরিবারে রেখে খরচ করতে চায় না পরিবারের সদস্যরা। তাছাড়া সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। ধর্মীয় কারণেও মাঝে মাঝে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হয় পরিবার।

গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় মা নিজে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েও নিজের মেয়েকেও বিয়ে দেন কৈশোরে পা দেবার আগেই। নার্গিস বেগমের পাশেই ছিলেন এমন একজন। যিনি নিজে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছেন। আবার নিজের মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.