দুই নেত্রীর ফোনালাপ নিয়ে সবমহলে তোলপাড়

0

PM-khaledaউইমেন চ্যাপ্টার: “দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া যে ভাষায় এবং ধমকের সুরে কথা বললেন তাতে মনে হয়, হাসিনা খালেদার বাসার কাজের বুয়া। বাংলাদেশে যে সব ভয়ংকর, দজ্জাল গৃহকর্ত্রী কাজের মেয়েদের গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করে পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয় এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়, খালেদা জিয়াকে তার থেকে অন্যকিছু মনে হয় নি। আর হাসিনাকে মনে হয়েছে খুনী গৃহকর্ত্রীর হাতের মার থেকে কোনোক্রমে বাঁচার চেষ্টা করতে করতে ক্ষীন গলায় বলছেন, “আমি কাঁচের গ্লাস ভাঙিনি !” সত্যি শেখ হাসিনার ধৈর্য্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।

আওয়ামীলীগ যদি এইবার নির্বাচনে জিততে চায়, তাহলে তাদের বেশী কিছু করার দরকার নেই, এই ফোনালাপটিকে নির্বাচনী জনসভায় জনগণকে বাজিয়ে শোনান। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার কথা ভেবে আওয়ামীলীগকেই ভোট দেবে, নিশ্চিত” ! সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই একজন তার প্রতিক্রিয়া জানালেন।

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বহুল আলোচিত ফোনালাপ মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার পরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অনলাইনে। শুরু হয় এ নিয়ে তোলপাড়।

অধিকাংশ শ্রোতাই এই ফোনালাপে বিরোধী দলীয় নেত্রীর বক্তব্যকে অসহিষ্ণু ও উত্তেজিত বলে সমালোচনা করেছেন। পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী সেক্ষেত্রে যথেষ্ট ধৈর্য্য এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এর মাঝেও প্রশ্ন উঠেছে, এই ফোনালাপ রেকর্ড করার সময় দুপক্ষের কাছ থেকেই অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা বা নিয়ে থাকলে তা জাতির সামনে প্রকাশ করা কতটা শিষ্টাচার হয়েছে!

ফেসবুকের আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারই সহিষ্ণু থাকতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, মোটামুটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়া একটি দলের নেত্রী আপাতদৃষ্টিতে জামায়াত-শিবিরকে পাশে নিয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হওয়ায় তার কণ্ঠ উত্তেজিত হওয়াটাই স্বাভাবিক’।

অপর একজন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও কিন্তু কম যাননি। তিনি আস্তে আস্তে কথা বললেও যেসব পয়েন্ট অবতারণা করেছেন, তাতে করে বিরোধী দলীয় নেত্রীর উত্তেজিত হওয়ারই কথা’।

প্রধানমন্ত্রী ফোন করে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বলেন, “আমি আপনাকে অনুরোধ করছি আপনি জাতির স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে হরতালটা প্রত্যাহার করে নেন”- প্রধানমন্ত্রীর এমন কথার জবাবে কিছুটা ধমকের সুরেই কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। সাফ জানিয়ে দেন, নির্দলীয় সরকার মেনে না নিলে হরতাল প্রত্যাহার করা হবেনা। এ সময় তিনি জনগণের স্বার্থেই হরতাল দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি তার ভাষণে সরকারকে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। অন্যথায় ৬০ ঘন্টা হরতাল পালন করা হবে বলে হুমকি দেন।

ফোনালাপ অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলার কোন সুযোগই দেননি। একতরফা ভাবেই বলে গেছেন নিজের কথা। প্রধানমন্ত্রী কিছু বলতে গেলে ধমকের সুরে তার জবাব দিচ্ছিলেন।

শুরুটা ছিলো রেড ফোন নষ্টের বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে ওইদিন দুপুরে ফোন করার দাবি করলে বেগম জিয়া এ কথাকে “সম্পূর্ণ সত্য নয়” বলে উড়িয়ে দেন। উপরন্তু দোষ চাপান প্রধানমন্ত্রীর উপর। তিনি তার রেড ফোন নষ্টের অজুহাত দেন এবং সময়মত এটিকে ঠিক না করার প্রধানমন্ত্রীকে দোষারোপ করেন।

“আপনি সরকার চালাচ্ছেন এই খবরটুকুও রাখেননা বিরোধীদলীয় নেতার ফোন ঠিকাছে কি না”

নিজেদের সমাবেশের অনুমতি দেয়ার দেরি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে “মিন মাইন্ড” বলে উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোন কথা না বলে আবারও সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বার বার বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে “উচ্চস্বরে” কথা বলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা তোলেন। বিরোধী দলীয় নেতা তখন এটিকে “আপনাদের কাজ” বলে আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা তখন ‘হত্যা খুনের রাজনীতি আওয়ামী লীগই করে’ উল্লখ করে একাত্তরের সরকারকে টানেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “একাত্তরে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন, তখনও তো আপনারা হত্যা করেছেন। কত মানুষ হত্যা করেছেন, এগুলো ভুলে গেছেন আপনি?”
জবাবে প্রধানমন্ত্রী একাত্তরে আমরা হত্যা করেছি বলে প্রশ্ন করলে বিরোধীদলীয় নেতা “হ্যাঁ অবশ্যই” বলেন এবং একাত্তরের পরেও হত্যার দায় দেন আওয়ামী লীগকে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ইস্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠিক মত করছেনা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠিক মত করলে আমরা পূর্ণ সমর্থন দিতাম। কিন্তু আপনারা একতরফা ট্রাইব্যুনাল করেছেন।”

এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা তুললে বিরোধীদলীয় নেতা এসবকে অতীতের কথা বলেন। এ সময় শেখ রাসেলের কথা টেনে প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগস্ট বিরোধীদলীয় নেতার কেক কাটার কথা আনলে খালেদা জিয়া তার জন্মদিনে ‘কেক কাটবেনই’ বলে জবাব দেন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমান সঙ্কট নিরসনে দু’নেত্রীর এই ফোনালাপ নিয়ে রাজনীতিতে বইছে ঝড়ো হাওয়া। ৩৭ মিনিটের ফোনালাপে কি কথা হয়েছিল দু’জনের? শুধুই কি কুশল বিনিময়? এ কৌতূহল বাংলাদেশের ষোলকোটি মানুষের।

উইমেন চ্যাপ্টারের পাঠকদের জন্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরে প্রচারিত অডিও থেকে ধারনকৃত সেই কথোপকথন বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

খালেদা- হ্যালো, হ্যালো।
হাসিনা- হ্যালো। কেমন আছেন?
খালেদা- ভালো।
হাসিনা- দুপুর থেকে ফোন করছি।
খালেদা- দুপুরে কোন ফোন আসেনি।
হাসিনা- ফোন করেছি তো।
খালেদা- কথা সত্য নয়। দীর্ঘদিন ধরেই টেলিফোনটি বিকল। দেশ চালান, সব খবর রাখেন, এ খবর রাখেন না। লোক পাঠান।
হাসিনা- আপনি তো জানেন, রেড ফোন বিকল থাকে না।
খালেদা- ফোন বিকল, এটাই সত্য।
হাসিনা- আমি ফোন করেছি।
খালেদা- দীর্ঘদিন ধরে ফোন ডেড। মৃত ফোন কি হঠাৎ জেগে উঠবে?
হাসিনা- যে কোন কারণে ফোন ধরতে পারেন নি।
খালেদা- না ফোন বাজেনি। আমি ফোনের কাছেই থাকি। ফোন বাজলে না ধরার কথা নয়।
হাসিনা- ফোন বেজেছে, ধরেন নি। আমি আগামীকাল দেখব।
খালেদা- …
হাসিনা- আমি ফোন করলাম। ২৮ তারিখ (২৮শে অক্টোবর) আপনাকে দাওয়াত দিচ্ছি। জানেন তো, আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছি।
খালেদা- দাওয়াত কেন দিচ্ছেন?
হাসিনা- আমার সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।
খালেদা- ২৮ তারিখ আমি যেতে পারব না। ওই দিন হরতাল আছে। হরতাল থাকলে আমি বের হই না।
হাসিনা- আপনি বলেছেন, দুইদিনের মধ্যে…
খালেদা- বলেছি। আমার আন্তরিকতা আছে। আমি একা যাব না।
হাসিনা- যাকে ইচ্ছা আনেন, যতজন ইচ্ছা আনেন।
খালেদা- যতজন না। আমার দলের প্রয়োজনীয় নেতাদের নেব।
হাসিনা- দেশ জাতির স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করুন।
খালেদা- হরতাল প্রত্যাহার করতে পারব না।
হাসিনা- মানুষ হত্যা বন্ধ করুন।
খালেদা- মানুষ হত্যা আপনারা করছেন। আপনারা গান পাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। এসব হত্যার নির্দেশ আপনার মুখ থেকেই বেরিয়েছে। এর দায় আপনাদের।
হাসিনা- জনগনের স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করুন।
খালেদা- জনগনের স্বার্থে হরতাল দিয়েছি।
হাসিনা- আমরা আলোচনা করতে চাই।
খালেদা- আপনার মন্ত্রীরা তো বলেছেন, আলোচনা হবে না। আলোচনা হতে পারে, হরতালের পর।
হাসিনা- আপনি তো দুইদিনের কথা বলেছিলেন।
খালেদা- আপনি একদিন পর ফোন করেছেন। তখন সুযোগ ছিল না।
হাসিনা- আমি তো ব্যস্ত।
খালেদা- আপনার মতো অত ব্যস্ত না হলেও আমরাও ব্যস্ত।
হাসিনা- ….
খালেদা- আপনি তো মিন মাইন্ডের পরিচয় দিলেন। কাল আমাদের সমাবেশের এত দেরি করে অনুমতি দিলেন কেন? অনুমতি দিলেন মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিলেন না কেন? লোকজন আমাদের বক্তব্য শুনতে পায়নি। অতীতে আপনাদের তো এমন করিনি।
হাসিনা- আমি বলেছি, আলোচনার কথা।
খালেদা- সমাবেশে মাইকের অনুমতি কেন দিলেন না?
হাসিনা- অনুমতি তো দিয়েছি।
খালেদা- আমরা সমাবেশ করতে গেলে আপনারা ১৪৪ ধারা জারি করেন। দেশে কি ইমার্জেন্সি জারি হয়েছে। দেশে কি যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
হাসিনা- এ ব্যাপারে কথা বলতে চাই না।
খালেদা- কথা তো আপনাকে বলতে হবে। মিটিং করতে চাইলে মাইকের অনুমতি দেবেন না। আপনারা আগে মিটিং করেননি।
হাসিনা- আমাদের গ্রেনেড হামলার কথা মনে আছে।
খালেদা- আমরা নই, আপনারা করিয়েছেন গ্রেনেড হামলা।
হাসিনা- আপনারাও কিন্তু রাত ১১টায় অনুমতি দিয়েছিলেন।
খালেদা- আপনার দলের নেতারা ভেন্যু পরিবর্তন করেছিল।
হাসিনা- আপনি মুক্তাঙ্গনে অনুমতি…
খালেদা- অনুমতি দিয়েছি, রেকর্ড আছে। সে রেকর্ড দেখেন না।
হাসিনা- ….
খালেদা- এখন বলছি, সত্যিকার আন্তরিক হন। তবে ২৯ তারিখের পর বলেন, আমি যাব।
হাসিনা- আমি ঝগড়া করতে চাই না। আপনি একতরফা কথা বলছেন।
খালেদা- কথা আপনিও বলছেন।
হাসিনা- হরতাল প্রত্যাহার করেন। আসেন।
খালেদা- হরতালের পর।
হাসিনা- হরতালের মাধ্যমে মানুষ খুন করছেন।
খালেদা- আপনারা মানুষ খুন করছেন। আপনার ছাত্রলীগ, যুবলীগ মানুষ খুন করছে।
হাসিনা- খুনের রাজনীতি আমরা করি না।
খালেদা- খুনের রাজনীতি আপনার পুরনো অভ্যোস। আপনাদের পুরনো অভ্যোস। একাত্তরে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন তখনও তো আপনারা হত্যা করেছেন। কত মানুষ হত্যা করেছেন, এগুলো ভুলে গেছেন আপনি?
হাসিনা- ৭১-এ মানুষ খুন করেছি?
খালেদা- হ্যাঁ অবশই। ৭১ এর পরও ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছেন।
হাসিনা- যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করছেন।
খালেদা- সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে আমরা সমর্থন দিতাম। কিন্তু আপনি তা করছেন না। আপনার দলেও অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে।
হাসিনা- সত্যিকার বিচার হচ্ছে।
খালেদা- আপনি তো প্রধানমন্ত্রী নন। আপনি তো দলীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন। আমার দলীয় কার্যালয়ে যে আচরণ করেছেন।
হাসিনা- আপনি জবাব দিতে পারেন। অসাংবিধানিক সরকার…
খালেদা- আপনারাই অসাংবিধানিক সরকারকে স্বাগত জানান। আপনিই এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর বলেছিলেন, আই এ্যাম নট আনহ্যাপি।
হাসিনা- বলিনি।
খালেদা- আপনি মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনকে আপনাদের আন্দোলনের ফসল বলেছেন।
হাসিনা- না।
খালেদা- আপনি তাদের শপথ অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, আপনাদের আন্দোলনের ফসল। মানুষ সে কথা ভুলেনি।
হাসিনা- আপনি ৯জনকে ডিঙিয়ে মঈন উদ্দিনকে প্রধান বানিয়েছিলেন।
খালেদা- আপনি অনেককে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ কথা বইলেন না। অনেককে বাড়ি পাঠিয়েছেন। মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সাংবিধানিক সরকার ছিল না। কিন্তু আপনি তাদের শপথ অনুষ্ঠানে গেলেন। সেদিন তো আমরা দুই দলই ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। আমি যাইনি, আপনি শপথ অনুষ্ঠানে গেছেন।
হাসিনা- আমি আগুনে বসে হাসি পুষ্পের হাসি। আমার বাবা ভাই মারা গিয়েছিল।
খালেদা- আপনি অতীতের দিকে নয়, সামনের দিকে আগান। সৎ উদ্দেশ্য থাকলে সামনে আগান।
হাসিনা- আপনারা ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যাকাণ্ড করেছেন।
খালেদা- হত্যা আমরা করিনি। আপনি যতদিন থাকবেন, ততই আমাদের লাভ। আপনি যতই অশ্লীল কথা বলবেন ততই আমাদের লাভ।
হাসিনা- ১৫ই আগস্ট আপনি কেন কেক কাটেন?
খালেদা- ওইদিন কি কোন মানুষ জন্ম নেবে না। আপনারা জিয়াউর রহমানের কথা বলেন। জিয়াউর রহমান তো আপনাদের আওয়ামী লীগকে জন্ম দিয়েছেন। আপনারা তো বাকশাল ছিলেন।
হাসিনা- …
খালেদা- এ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসেন। আসুন নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করি।
হাসিনা- আপনি হরতাল প্রত্যাহার করবেন না?
খালেদা- হরতাল প্রত্যাহার করতে পারবো না। এটা ১৮ দলের সিদ্ধান্তে ঘোষণা করা হয়েছে।
হাসিনা- আপনি ১৮ দলকে ডেকে সিদ্ধান্ত নিন।
খালেদা- তাদের তো পুলিশ তাড়াচ্ছে।
হাসিনা- পুলিশ ধরবে না। বলে দেন।
খালেদা- পুলিশ কি আমাদের কথায় চলে?
হাসিনা- বোমা বাস্ট হবে…
খালেদা- বোমা বাস্ট আপনারা করেন। আপনি ২৯ তারিখের পর বলেন, আমরা আসবো।
হাসিনা- আপনি দুই দিনের আলটিমেটাম দিলেন। এর মধ্যেই তো ফোন করলাম।
খালেদা- বলেছি তো, আপনি দেরি করেছেন। আমরা বলেছি, সংলাপ ও আন্দোলন একসঙ্গে চলবে।
হাসিনা- আপনারা কি ক্যামরায় …
খালেদা- আমাদের এখানে ক্যামেরা নেই। আমরা ক্যামেরা ছাড়া কথা বলছি। অফিসে থাকলেই বরং ক্যামেরা থাকতো। আপনারা সম্ভবত ক্যামেরাই দেখাচ্ছেন…।
হাসিনা- ফোন করেছি। ফোন তো ঠিক আছে।
খালেদা- লোক পাঠান।
হাসিনা- ১০-১২ বার ফোন করেছি।
খালেদা- আমরা শুনিনি, আপনি কেবল শুনেছেন।
হাসিনা- আমি কিভাবে শুনবো। আমার তো এক কান নষ্ট। ফোন আমি নিজেই করেছি।
খালেদা- ডেড ফোনে কথা বলেছেন।
হাসিনা- রিং হচ্ছিলো।
খালেদা- ঠিক নয়। আমরা অনেকবার লোক ডেকেছি। আপনার লোকজন আমাদের তো মানুষই মনে করে না।
হাসিনা- ফোন দিয়েছি।
খালেদা- আপনি চাইলে মোবাইলে কথা বলতে পারতেন। মৃত কে তো মৃত বলতেই হবে।
হাসিনা- (…নাম্বার বলে যান)
খালেদা- আপনার মুখস্ত থাকতেই পারে।
হাসিনা- কাল খবর নেব।
খালেদা- গুলশান এক্সচেঞ্জের লোক মিথ্যা বলেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে সত্য কথা বলেনি।
হাসিনা- আলাদা এক্সচেঞ্জ।
খালেদা- টেলিভিশনে স্ক্রল দেখাচ্ছে…
হাসিনা- গণভবনে আমরা কথা বলছি, এখানে কোন টেলিভিশন নেই।
খালেদা- তাহলে কেন এটা বলা হচ্ছে…
হাসিনা- তাহলে কি কথা বলবেন না।
খালেদা- আমি আধাঘন্টা ধরেই বসে আছি। আপনার ফোন আসবে এ জন্য। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কথা বলেছি। এখন কেন কথা বলবো না।
হাসিনা- ২৮ তারিখে আসেন।
খালেদা- সত্যিই আন্তরিক হলে ২৯ তারিখের পর বলেন।
হাসিনা- কাল বলেছেন…
খালেদা- আমরা তো হরতাল দিয়েছি।
হাসিনা- আমি তো ফোন করেছি।
খালেদা- আগে কেন করেননি। পরে করছেন কেন?
হাসিনা- আমি দুঃখিত।
খালেদা- বাংলাদেশের মানুষ…
হাসিনা- আপনি দুইদিনের কথা বলেছেন…
খালেদা- বলেছি, কিন্তু হরতালও দিয়েছি।
হাসিনা- কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
খালেদা- ১৮দলকে এখন কই পাবো।
হাসিনা- হুকুম করেন, পাবেন।
খালেদা- কই পাব? তারা তো …
হাসিনা- মিথ্যা বলছেন।
খালেদা- আপনি কাল রাতে ফোন করতে পারতেন।
হাসিনা- আমি রাত জাগি না। আমি সকালে নামাজ পড়ি।
খালেদা- নামাজ পড়েন। কোরআন পড়েন। নামাজিদের গুলি করেন হত্যা সবই করেন।
হাসিনা- আমি নামাজ পড়ি, নিয়মিত কোরআন পড়ি।
খালেদা- আপনি ২৯ তারিখের পর করেন।
হাসিনা- আপনি আপনার বক্তব্য থেকে সরে যাচ্ছেন।
খালেদা- আমার দলের নেতারা এখন নেই। ১৮দল নেই। আমি একা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেব।
হাসিনা- হুকুম দেন। এটা হয় নাকি।
খালেদা- আপনার ডিবি-এসবি তো আমাদের ঘেরাও করে রেখেছে, কিভাবে আসবে।
হাসিনা- আপনারা তো দা-কুড়াল নিয়ে মানুষ হত্যার কথা বলছেন।
খালেদা- বিশ্বজিৎকে আপনারা হত্যা করেছেন।
হাসিনা- তারা আগেই ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃত ছিল।
খালেদা- আমরা এ রকম আরো উদাহারণ দিতে পারব। আপনারা আমাদের বক্তব্য টেলিভিশনে প্রচার করতে দেননি। নিরিহ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছেন। আল্লাহ আপনাদের বিচার করবে।
হাসিনা- ধরা পড়ার পর দেখা গেছে। তাদের বাবা-মা জামায়াত-বিএনপি করে।
খালেদা- না তারা ছাত্রলীগই করে। আমি আপনাকে অনুরোধ করি, সদ্বিচ্ছা থাকলে ২৯ তারিখের পর ডাকেন।
হাসিনা- এ কথাটি রাখেন।
খালেদা- ২৯ তারিখের পর ডাকেন। অন্য কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে। আমরা কর্মসূচি দেবো না।
হাসিনা- দিনের কথা বলেছিলেন।
খালেদা- ৩০ তারিখ হলে আমি রাজি আছি।
হাসিনা- আপনার তো ভারপ্রাপ্ত আছে। যদিও প্রটোকলে মিলে না। তারপরও আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ কথা বলবেন। তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে…
খালেদা- কাল রাতে কেন ফোন দিলেন না। তাহলে আমি দলের নেতাদের সঙ্গে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। আমি তো ৭টায় অফিসে গিয়েছিলাম। ফোন করলেই পেয়ে যেতেন।
হাসিনা- তখন তো রাত।
খালেদা- ৭টা রাত নয় সন্ধ্যা।
হাসিনা- আমার তো নেতাদের সঙ্গে কথা বলে…
খালেদা- আমারও তো নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
হাসিনা- আমাদের কিন্তু ৯৬ কথা মনে আছে।
খালেদা- ১৭৩দিন হরতাল করেননি?
হাসিনা- ৯৬তে আপনারাও করেছেন।
খালেদা- ১৯৯১ সালে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। একসঙ্গে কাজ করতাম। কিন্তু আপনি প্রথম দিনেই সংসদে বললেন, একদিনও শান্তিতে থাকতে দিবেন না।
হাসিনা- নো।
খালেদা- আপনি একবার তত্ত্বাবধায়কের কথা বলবেন, একবার সংবিধানের কথা বলবেন।
হাসিনা- নির্বাচনের পর যে সিচুয়েশন হয়েছিল।
খালেদা- ৩০ তারিখের পর হলে আমরা রাজি আছি।
হাসিনা- আমার পার্টি স্ট্রং। আমাদের ভোট আছে। আমরা সংগ্রাম করেই এটা অর্জন করেছি।
খালেদা- আমার দলও অনেক সংগ্রাম করে ক্ষমতায় এসেছিল।
হাসিনা- দুঃখিত।
খালেদা- সময় মতো ফোন করেননি। আমি দুঃখিত। কাল ফোন করলে পরিবেশ পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।
হাসিনা- আমার এডিসি দেড়টা থেকে চেষ্টা করেছে।
খালেদা- ফোন না বাজলে ধরার উপায় নেই।
হাসিনা- শিমুল বিশ্বাসের ফোনেও অনেক চেষ্টা করেছে।
খালেদা- আপনি বসেছিলেন ৬টার জন্য।
হাসিনা- আপনি জানেন আমাদের মিটিং ছিল। আমি মিটিংয়ে দেরি করতে পছন্দ করি না।
খালেদা- মিটিং জরুরি না এটা জরুরি ছিল।
হাসিনা- সিদ্ধান্ত নেন।
খালেদা- কিভাবে নেব।
হাসিনা- জাতির কাছে বলেন।
খালেদা- আপনি নির্দলীয় সরকার মেনে নিন। আমি হরতাল প্রত্যাহার করবো।
হাসিনা- আমাদের ৯০ ভাগ সিট …
খালেদা- আপনি বলেন, নির্দলীয় সরকার মেনে নেবেন, আমি হরতাল তুলে নেবো।
হাসিনা- যারা মাইনাস-টু করতে চেয়েছিল আপনি তাদের আনতে চাইছেন।
খালেদা- আমি না, আপনি। আপনি যে ভাষায় কথা বলেন…
হাসিনা- আপনি তো মধুর ভাষায় কথা বলেন। আমরা সংসদে আছি। একসঙ্গে কাজ করবো… আপনি দলের নেতাদের মিটিং করেন।
খালেদা- পুলিশকে বলে দেন। তত্ত্বাবধায়ক মানেন। সবাইকে ডাকি।
হাসিনা- হরতাল তুলে নেন।
খালেদা- নির্দলীয় সরকার মানার ঘোষণা দেন।
হাসিনা- আপনার দলের লোকের উপর ভরসা নেই?
খালেদা- আমার দলের লোকের উপর ভরসা আছে।
হাসিনা- তাদের ডাকেন।
খালেদা- আপনি দাবি মানেন, হরতাল …
হাসিনা- আপনি সর্বদলীয় মানেন।
খালেদা- সবর্দলীয় মানা যায় না।
হাসিনা- আবার কাকে আনবেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের মতো।
খালেদা- আপনিই আনেন।
হাসিনা- ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সৃষ্টি করবেন না।
খালেদা- কি বলেন…
হাসিনা- আসেন। হরতাল তুলে নেন।
খালেদা- ২৮ তারিখের আগে পারব না। হবে না।
হাসিনা- ধন্যবাদ…

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.