হামলা করে যুদ্ধাপরাধবিচার ঠেকানো যাবে না: তুরিন

0

Turin 1উইমেন চ্যাপ্টার: দেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমার বাড়িতে বোমা ছোড়া হয়েছে। এভাবে পেশাজীবীদের ওপর বোমা হামলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা যাবে না। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের সকলের উচিত, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এ ধরনের নাশকতার মোকাবেলা করা।

কথাগুলো বলছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। গতকাল সোমবার তিনি একটি পত্রিকাকে দেওয়ার এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা তিন দিনের হরতাল চলাকালে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ড. তুরিন আফরোজের বাসায় হাতবোমা ছুড়ে মারা হয়। এতে তিনি অক্ষত থাকলেও তার বাসায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে বোমা হামলার পর প্রসিকিউটরের বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

কিডনির সমস্যাজনিত কারণে দুদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তুরিন আফরোজ রোববার দুপুরে বাসায় ফেরেন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এমন সময় বাড়ির মূল ফটকে একটি হাতবোমা প্রচণ্ড জোরে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। তুরিন আফরোজ বলেন, হরতালের দুদিন আগে নিরাপত্তার জন্য আমাদের বাড়িতে দুজন করে পুলিশ সদস্য দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় একজন পুলিশ সদস্য গেটের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। অন্যজন বাইরে একটি মোটর বাইকের ওপর বসা ছিল। ‘কোনো অজ্ঞাত কারণে তারা কোন অ্যাকশনে যায়নি’ কথাটা উইমেন চ্যাপ্টারকে বলেছিলেন তুরিন আফরোজ।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি  উত্তরা থানার ওসিকে ফোন করলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

মা জামাত আসছে, আমাদের মেরে ফেলবে

এ ঘটনায় আতঙ্কিত তুরিন আফরোজের শিশুকন্যা এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি। বারবার সে তার মাকে বলছে, ‘মা জামাত আসছে, আমাদের মেরে ফেলবে’। এ অবস্থায় পরিবারের নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমার জন্যই আজ আমার পরিবারের এই অবস্থা। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে গিয়ে আজ আমার পরিবার হুমকির মুখে’।

এরপরও তুরিন আফরোজ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিচারের শুরু থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। সবশেষে সকল ষড়যন্ত্র কাটিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে কাক্সিক্ষত কতোগুলো রায় বের হয়েছে। এই রায় কার্যকরের অপেক্ষায় যখন গোটা জাতি, তখনি স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামাত-শিবির নতুন করে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় হরতালের নামে তারা সারা দেশে নাশকতা শুরু করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। ১৬ কোটি মানুষের আকাক্সক্ষার এই বিচার বন্ধ করা যাবে না। বিচার বিচারের গতিতেই চলবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রোববার ভোর থেকে টানা ৬০ ঘণ্টা হরতালের ডাক দেয় ১৮ দলীয় জোট। সরকারের শেষ সময়ে গত শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে খালেদা জিয়া এই হরতালের ডাক দেন। এ হরতালকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় মেতে উঠেছে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই চক্রটি হরতালের আগের দিন শনিবার সকাল থেকেই বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি, দেশটিভি, ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন মিডিয়ার অফিস ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ভিআইপিদের বাসভবনে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রশাসনসহ সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নাশকতার আশ্রয় নিয়েছে জামাত-শিবির।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.