মৌলবাদ নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে প্রধান প্রতিবন্ধকতা

নিগার সুলতানা: নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সাঃ) বলেন,  হে মানুষ! নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের উপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের উপরও তাদের সমান অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সবসময় খেয়াল রাখ।

ইসলামের মত যে মহান ধর্মের দোহাই দিয়ে মৌলবাদীরা আজ নারীর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেই ধর্মেই স্বয়ং স্রষ্টা এবং মহানবী (সাঃ) নারীকে দিয়েছেন সর্বোত্তম মর্যাদা এবং অধিকার। বিদায় হজের বাণীটি যদি স্বয়ং মহানবী (সাঃ)-এর বাণী হয়ে থাকে, তবে তার বাণী থেকে এটাই প্রমাণ করে যে নবীজী (সাঃ) পুরুষকে নারীর চেয়ে বেশি নয়, বরং উভয়কেই অধিকারের দিক হতে সমান মর্যাদা ও অধিকারের আসনে বসিয়েছেন।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কোন যুক্তিতে মৌলবাদীরা আজ নারী অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলে দ্বিমত করছে?

মৌলবাদী ও সা¤প্রদায়িক অপশক্তি -৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ-বিত্ত-জাতিসত্তা নির্বিশেষে এদেশের শত শত নারীকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল এবং নিজেরাও নারীদের উপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়েও সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রেহাই পায়নি নারীরা। গ্রামাঞ্চলে ফতোয়া জারি করেও শত শত মুসলিম নারীকে হত্যা কিংবা লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

অথচ ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অসামান্য অবদান রেখেছেন। যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান এবং স্বামী ও সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়ে  মায়েরা এক বিশাল দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের নিদর্শন রেখেছেন।

কিন্তু সেই মহান কাজের পুরস্কার ৪২ বছর পরে এসেও নারীদের ভাগ্যে জোটেনি। বরং বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত এদেশের বৃহত্তর নারী সমাজের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে যখন নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষিত হল তখন সাম্প্রদায়িক অপশক্তি তাদের পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল।

যুগ যুগ ধরে নির্যাতিত ও অবহেলিত এদেশের বৃহত্তর নারী সমাজের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

এবারও যখন সরকার নারী-পুরুষের বৈষম্য রোধে যখন নারী উন্নয়ন নীতি অনুমোদন করছে, তখন মৌলবাদীরা এর বিরোধিতা করে সমাজে নানারকম বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে উদ্যত হচ্ছে।

মৌলবাদী যাজকরা যে তা বোঝেন না, তা নয়। তারা নারীদের অবস্থা সম্পর্কে বোঝে এবং জানে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য অন্যখানে। তারা কোনো মতেই চায় না বর্তমান প্রজন্মের নারী সমাজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।

পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় ধর্মীয় গোঁড়ামী, সামাজিক কুসংস্কার, কুপমন্ডুকতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বেড়াজালে নারীকে সর্বদা অবদমিত করে রাখতে চাইছে মৌলবাদীরা। তারা চান না  নারীরা তাদের মেধা ও শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উপরে উঠুক। বরং তারা চায় নারীরা শুধুমাত্র সাংসারিক কাজেই তাদের শ্রম ব্যয় করবে। প্রকৃতপক্ষে সমাজ ও দেশ গঠন কাজে নারীকে সম্পৃক্ত করতে তারা নারায। আর তাই মৌলবাদীরা ধর্মের নাম দিয়ে নারীকে তার যোগ্য অবস্থান থেকে পিছিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে।

সাধারণ জনগণের মাঝে আজ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা নারীদের ভাগ্যোন্নয়ের লক্ষ্যে করা নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে এত বিতর্ক করছে তারা কি ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য বিরোধিতা করছে নাকি এর পেছনে কাজ করছে তাদের ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার মানসিকতা?

মৌলবাদী চক্র প্রসঙ্গে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি অ্যাডভোকেসির পরিচালক শিফা হাফিজা বলেন, নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে মৌলবাদীদের বিরোধিতা করা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। যারা ধর্মীয় গোঁড়ামীতে বিশ্বাসী তারা বলছেন, নারীকে সমান বলা যাবে না। যেটা তো আরো ৫০ হাজার বছর আগের গল্প। এটা পুরোপুরি অমূলক। নারী উন্নয়ন নীতিতে কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি কোন কিছু নেই। আর নীতির সঙ্গে ধর্মকে সম্পৃক্ত করাটাও অন্যায়। আমার মনে হয় এখানে একটা রাজনৈতিক বিষয় জড়িত। এখানে মূলত ধর্মের নামে রাজনীতি করা হচ্ছে। নারী উন্নয়ন নীতির সাথে এটার কোন সম্পর্ক নেই। তারা এটা একটা উছিলা বলে নিয়েছেন।

তার মতে, নারী উন্নয়ন নীতি নারীদের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, নারীদের অবস্থানটা এখন পর্যন্ত সমান না। আমাদের দেশে অনেক আইন-কানুন আছে নারীর পক্ষে; কিন্তু অনেক আইন-কানুন আছে যেগুলো বৈষম্যমূলক। কাজেই নারীর অবস্থা এবং অবস্থান সমান করার জন্য, নারীর অধিকার রক্ষা করার জন্য, বৈষম্য দূরীকরণের জন্য নারী উন্নয়ন নীতিমালার প্রয়োজন আছে।

আমাদের দেশে আইন-কানুনে, আচার-আচরণে বৈষম্য যদি না থাকত তবে হয়ত নারী উন্নয়ন নীতি করার দরকার হত না। যেহেতু দেশে বৈষম্যটা অনেক বিরাজমান সেজন্য একটা নীতি দরকার।

পূর্বের ১৯৯৭ সালে ঘোষিত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ছিল৭২-এর সংবিধানের আলোকে নারীর হৃত অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার প্রাথমিক উদ্যোগ। বলা বাহুল্য সেই সময়েও মৌলবাদীরা সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আরো দুইবার এই নীতি সংশোধিত আকারে প্রণীত হলেও এর বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ জনগণ দেখেনি।

বহুবার নারীর উন্নয়নে করা এই নীতি বাস্তবায়িত না হওয়ার পেছনে মৌলবাদী সংগঠনকে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশের নানা পর্যায়ের বিশেষজ্ঞমহল। সাধারণ জনগণও বিশেষজ্ঞদের সাথে একমত হয়ে নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের পথে বাধা সম্পর্কে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতার কারণ হিসেবে মৌলবাদীরা বলছেন, এই নীতিতে উল্লেখিত সম্পদে নারীর সমান অধিকার এবং সকল নারীর সম-সুযোগ ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বিষয়গুলো ইসলামী আইনের পরিপন্থী। আর ইসলামবিরোধী নারী উন্নয়ন নীতিমালা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

নারী উন্নয়ন নীতি ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় মন্তব্য করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: মোস্তফা বলেন, কুরআনে নারীর বিবাহ, তালাক, সম্পদের বণ্টন এগুলো সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে ও পরিস্কারভাবে উল্লেখ আছে। কুরআনে যেটা সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে সেটা পরিবর্তন করা এবং যুগোপযোগি করার ইখতিয়ার মানুষের নেই। কোন মানুষের পক্ষে তা করা উচিত হবে না। মানুষ যদি তা করে তবে সে মানুষের ঈমান থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, আসলে নারীনীতিটা আসছে বিদেশ থেকে। যারা আল্লাহকে মানে না, আর সরকারের মধ্যে যারা নারীনীতি নিয়ে কথা বলে তাদের মধ্যে নামায নাই, তাদের মনে ইসলাম নাই। আগে পিতার নাম ব্যবহার করলে হতো কিন্তু এখন মায়ের নামও ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো সব এসেছে বিদেশ থেকে। বিদেশের অধিকাংশ শিশুর পিতার পরিচয় নাই, তাই তারা মায়ের নাম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে তো পিতার পরিচয় আছে। তিনি এই নীতি সংশোধন করার প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে সরকারীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এপ্রিলের ২৭ তারিখে এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ)-এর নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তাদের নারী উন্নয়ন নীতি প্রসঙ্গে বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে বাদ দিয়ে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নারী-পুরুষ সকলেই সমান মর্যাদার অধিকারী।  সংবিধানের ২৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করবে। ইসলামসহ সকল ধর্মে নারীকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারও নারীর উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতিমালা করেছে। ইসলাম নারী-পুরুষের বৈষম্যকে স্বীকার করে না। তবু একশ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী ঘোষিত নারীনীতির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ নীতিমালায় কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কিছু নেই। এ ধর্ম ব্যবসায়ীদের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে নারী সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নারীরা সমাজকে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। একজন পুরুষকে শিক্ষিত করা হলে তিনি নিজেই শিক্ষিত হন। আর একজন নারীকে শিক্ষিত করা হলে পুরো পরিবারকে শিক্ষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিচারে নারী উন্নয়ন নীতি বর্তমান সরকারের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ এবং এই নীতি সংশোধনের কোন প্রয়োজন নেই। তবে সংবিধানের যে সমস্ত জায়গাগুলোতে আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে তা পরিবর্তন করতে হবে। তাদের মতে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকাংশ জনগোষ্ঠীই এই নারী উন্নয়ন নীতির পক্ষে রয়েছে। শুধু মাত্র মুষ্ঠিমেয় কিছু সংখ্যক মৌলবাদীরা এই নীতির বিপক্ষে রয়েছে। তাদের দিকে নজর না দিয়ে দেশকে তথা দেশের নারী সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নারী উন্নয়ন নীতির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

বর্তমান নারী উন্নয়ন নীতি ও মৌলবাদ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইন বিষয়ক উপ-পরিচালক ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, নারী উন্নয়ন নীতি সরকারের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। কিন্তু মৌলবাদীরা যেভাবে এটার পেছনে লেগে আছে, সেক্ষেত্রে নারী উন্নয়ন নীতিকে কার্যকর করাটাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মৌলবাদীদের থেকে মুক্ত করে নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন নয়। মৌলবাদীদের ভয় পেয়ে কোন লাভ নেই। ওরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। মৌলবাদীদেরকে গুরুত্ব না দেয়াটাই সবচেয়ে ভাল একটা পদক্ষেপ। আমাদের যে আইন আছে, সেই আইনের বাইরে নারী উন্নয়ন নীতিতে বাড়তি কিছু নেই। এই নীতিটা কার্যকর করতে হলে যেখানে যেখানে আইনের পরিবর্তনগুলো দরকার সেগুলো সরকারকে দ্রুত করে ফেলতে হবে। তবেই নারী উন্নয়ন নীতির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতিটিও মৌলবাদীদের কারণেই বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময়েও তারা বিরোধিতা করেছে। আমি মনে করি, মৌলবাদীদের অবস্থাটা হচ্ছে এমন যে- কান নিয়ে গেছে চিলে, আর তারা কানে হাত না দিয়েই চিলের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে। আসলে এটা তাদের এক ধরণের ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।

নারী নেত্রী মালেকা বেগম মৌলবাদীদের প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দেশের প্রগতিশীল মানুষ তথা নারী সমাজ যখন নতুন নারীনীতিতে তাদের আশা-আকাঙ্খার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি বলে আক্ষেপ করছে, তখন এ নিয়ে প্রগতিশীল চক্রের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য বুঝতে অসুবিধা হয় না। তারা চাইছে যেটুকু প্রগতির কথা আছে, তা নস্যাৎ করতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর দুর্বল অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দিতে। কেবল নারীনীতি নয়, নারীর পক্ষে যেকোন ভালো উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা অযথা হইচই করে।

তিনি বর্তমান নারী উন্নয়ন নীতির অবস্থান বিচার করে এবং এই নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘোষিত নারীনীতির অনেক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দেশের নারীসমাজ এটিকে মন্দের ভালো হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং তারা ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর যেকোন আক্রমণ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। এ ব্যাপারে সরকারকে দুর্বল হলে চলবে না। মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপস করারও প্রয়োজন নাই। নারী উন্নয়ন নীতি দেশ ও সমাজের জাতীয় উন্নয়ন নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এর বাস্তবায়নে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, এই নারীনীতি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। কেবল নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না, এর বাস্তবায়নের বাধাগুলোও দূর করতে হবে। নারী-পুরুষের বৈষম্যমূলক সব আইন রদ করতে হবে। সম-অধিকারভিত্তিক একটি প্রগতিশীল ও প্রাগ্রসর নারীনীতিই দেশ ও সমাজের সর্বস্তরে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারে।

নতুন করে কোন নীতিমালা প্রণয়ন নয়, ২০১১ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালারই বাস্তবায়ন চায় দেশের নারী সমাজ। তারা বলেছেন, যখনই নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ আসে, ধর্মের দোহাই দিয়ে কিছু ব্যক্তি এর বিরোধিতা শুরু করে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারেও নারী উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। তাই সরকারের ইশতিহার অনুযায়ী তাদের সফল বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

নারীনেত্রীদের সংশয়, বর্তমান সরকার যদি মৌলবাদীদের সমস্তসংবিধানবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী কার্যক্রমগুলো একের পর এক প্রশ্রয় দিতে থাকে তবে অচিরেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপণœ হয়ে যাবে। এই সরকার সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশবাসী আশা করে সংবিধানের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণাকারী এসমস্ত মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.