দুদিনের আলটিমেটাম, অন্যথায় হরতাল

Khaleda 25 Octউইমেন চ্যাপ্টার: ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের’ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য সরকারকে আজ ও আগামীকাল দুদিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। অন্যথায় রোববার ভোর ৬টা থেকে থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে টানা ৬০ ঘন্টা হরতালের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আলোচনার পাশাপাশি সংগ্রাম চলবে বলেও তিনি হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

 শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮দলীয় জোটের জনসভায় তিনি এই প্রাথমিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আমাদের ফর্মুলা গ্রহণ করতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা প্রাথমিক কর্মসূচি দিচ্ছি। ২৭ অক্টোবর রবিবার ভোর ৬টা থেকে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে হরতাল পালিত হবে।

দাবি না মানলে টানা ৬০ ঘণ্টার এ হরতাল সারা দেশে সর্বাত্মকভাবে পালিত হবে বলে ঘোষণা দেন বিরোধী দলের নেতা। সেইসঙ্গে তিনি সবাইকে রাজপথে নেমে আসারও আহ্বান জানান। হরতাল চলাকালেও যদি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মানা না হয় তাহলে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিরোধী দলের নেতা।

আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মঞ্চে ওঠেন খালেদা জিয়া। পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার জন্য গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অনুমতি দেয়। সাড়ে পাঁচটার আগেই সমাবেশ শেষ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের জোট।

হরতালের ঘোষণা দেওয়ার আগে বক্তব্যের শুরুতে বিরোধী দলের নেতা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু, সোনালী ব্যাংক প্রভৃতি। সেই সঙ্গে ১৮ দলের জোটের এই নেতা ক্ষমতাসীন সরকার দেশে অঘোষিত বাকশাল কায়েম করেছে বলেও অভিযোগ করেন।

রানা প্লাজা ধস, ভবনের মালিক সোহেল রানা ও তার সঙ্গে সাংসদ মুরাদ জংয়ের সখ্যতার কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদেরকে বলব, দেশকে ভালোবাসেন। দেশের প্রতি, সরকারের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন। অন্যায়ভাবে কারও ওপর গুলি করবেন না।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, “সদিচ্ছা থাকলে আলোচনায় বসে যেতেন। কিন্তু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যে কোনোভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হবে।”

নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ করলে তার ফল ‘শুভ হবে না’ বলেও হুঁশিয়ার করেন বিএনপি চেযারপার্সন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে খালেদা বলেন, আসুন এক সঙ্গে সংবিধান সংশোধন করি। সামান্য সংশোধন করতে হবে। দ্রুত আলোচনা শুরু করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, তিনি সরকারি টাকায় জনসভা করে নৌকায় ভোট চান। তবে নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া সংবিধানে সামান্য সংশোধনী এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে তার দেওয়া প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,  নির্বাচন ছাড়া কোনো পথ নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যে গর্ত খুঁড়ছেন, তাতে পড়বেন আপনি। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সিঁড়ি করে পেরিয়ে যাব।’

এর আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বিজিবি, পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ বিজিবি বা আওয়ামী লীগ পুলিশ হবেন না। একাত্তরের মতো আপনারা দেশের জন্য আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাঁটাছেড়া করে সংবিধান এখন আর সংবিধান নেই। আমরা ক্ষমতায় এলে যুগোপযোগী সংবিধান রচনা করবো।

সমাবেশের শুরুতে ইসলামি ছাত্রশিবিরের নেতা শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা জানি কীভাবে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দেবো, তারপরও সরকারকে উৎখাত করেই ছাড়বো।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.