ইসলামে নারী

নিগার সুলতানা: ইসলাম রয়েছে বহুদেশ জুড়ে এবং বহু সংস্কৃতি নিয়ে। আরবের এক প্রান্ত থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত, বসনিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বহু লোক ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রসার লাভ করেছে দ্রুতগতিতে। প্রত্যেকটি ইসলামী রাষ্ট্রের নিজস্ব কৃষ্টি বা সংস্কৃতি রয়েছে। ইসলামে রয়েছে বহুমুখী সংস্কৃতি। কেননা কারও একার পক্ষে কখনই সফল সংস্কৃতি বহন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক ধারা, জাতীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস করার পদ্ধতি, ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং চিন্তাধারার ভিন্নতা দেশগতভাবে এক হওয়া সম্ভব নয়। ইসলামী আইন – কানুন ,রীতি – নীতি প্রত্যেক দেশের নিজস্ব ধারা অনুযায়ী পালিত হয়। আর প্রত্যেক দেশেই একটি অন্যটি থেকে আলাদা। কখনও উভয়ের সংস্কৃতি বা কৃষ্টি এক নয়।

সৃষ্টির জগতে সৃষ্টিকর্তা মানব রূপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন নর ও নারীকে। কিন্তু পুরুষশাসিত সমাজে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই তার লিঙ্গগত বৈষম্য দিয়ে নারীদের অবস্থানকে করে রেখেছে কোণঠাসা। ধারণা করা হয় নারী হলো, পর্দার ভিতরে লুকায়িত, স্বরবিহীন, নীরবতার প্রতীক এবং অধিকার বঞ্চিত। নারীদের জন্ম হয়েছে সংসার ধর্ম পালন, সন্তান জন্মদানের জন্যই। এ চিত্র সকলের কাছেই অতি পরিচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সহ অন্যান্য মুসলিম দেশে অতি দুঃখজনক পরিস্থতি বিরাজ করছে নারীদের সংঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের নারীদের দিকে সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই দেখা যায় যে, নারীরা সেখানে সর্বদাই অবদমনের শিকার এবং কালো বোরকা দ্বারা আবৃত, যা শুধু লজ্জাজনকই নয়, বরং তা ইসলামের বিশালতাকে খাটো করার শামিল।

কিন্তু ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকে দেখা যায় যে, নারীরা সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও ইসলাম প্রতিষ্ঠায় পুরুষদের পাশাপাশি নিজেদের ভূমিকা রেখেছেন শারীরিক ও মানসিক শক্তি ও সাহস দিয়ে। তাই ইসলামে নারীর ভূমিকা সম্বন্ধে জানতে চাইলে প্রথমেই ইসলাম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে। জানতে হবে ইসলাম নারীদের উপর কিভাবে আইন প্রয়োগ করেছে। সর্বোপরি দূরে থাকতে হবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যেভাবে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে তা থেকে।

ইসলাম প্রসারের পূর্বে নারীর অবস্থান:
ইসলামের জন্ম আরবের পেনিনসুলায় যা বর্তমানে সৌদি আরব নামে পরিচিত। তার সময়কাল হলো সপ্তম খৃষ্টবর্ষে। আরব ছাড়া অন্যান্য দেশ এবং তার সংস্কৃতি সবেমাত্র গড়ে উঠেছে। আরবের ইতিহাস অনুয়ায়ী ব্যক্তিগত ও সামাজিক কোন অবস্থাতেই নারী পুরুষের সমতুল্য নয়। বিয়ে, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিষয়ে কখনই তারা তাদের স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারেন নাই। নারীদের ছিল না কোন ব্যবসা, ছিল না কোন নিজস্ব সম্পত্তি অথবা ছিল না কোন আইনগত অধিকার কোন ক্ষেত্রে।

যদিও বিবি খাদিজা (যিনি নবী (দঃ) স্ত্রী এবং প্রথম মুসলমান মহিলা) সম্পর্কে জানি যে তিনি তার নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। যা সকল সময়ে সকল ইতিহাসের কিছু ব্যতিক্রম থাকে বৈকি? আরবের মেয়ে শিশুদের জীবন্ত সমাহিত করা হতো। বহুবিবাহ ছিল একটা সাধারণ ব্যপার। আরব ছাড়া অন্যান্য দেশের নারীদের অবস্থাও খুব একটা ভিন্ন ছিল না। ইউরোপের ইতালির নারীরা ১৩শ শতাব্দীতে স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার সম্পত্তি বিক্রির অধিকার লাভ করে। কিন্তু পূর্বে তা সম্ভব ছিল না।

বিভিন্ন দেশে এখনও পুত্র সন্তান পরিবারের সকল সম্পত্তি এবং পরিবারের কর্তৃত্ব করে থাকে সেক্ষেত্রে একজন মেয়ে সন্তান শুধু একজন ধনী ব্যক্তিকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখে ও আশা করে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং পূর্ব বিশ্ব আজও অনেক নারীরই তার স্বামী নির্বাচনে কোন ভূমিকা নেই এমনকি তার স্বামীর অকাল মৃত্যু হলেও তাকে তার জন্য কাঁদতে হয় আমৃত্যু।

ইসলামে নারীর মান:
কেহই নবী (দঃ) এবং কোরানের বাণীর উপরে জোর করতে পারেন না যা সভ্যতা বিকাশে একান্ত প্রয়োজন। মানবজাতির ইতিহাসে কাউকে খুব বেশী কাজ করতে দেখা যায়নি মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে।

রাসুল পাক (দঃ) এর শিক্ষা ছিল জ্ঞান অর্জনের অধিকার, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার, সম্পত্তির অধিকার এবং সর্বোপরি মানবতার অধিকার যা সভ্যতাকে বহুলাংশে সমৃদ্ধ করেছে।
নবী (দঃ) বলেন-“জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য একান্ত কতর্ব্য।” তার এই বাণী দ্বারা সকল মুসলমানের শিক্ষাগ্রহণ করা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে গণ্য করা হয়। কোন ব্যক্তিই অন্যকে শিক্ষা গ্রহণে বাধা দান করতে পারে না। লিঙ্গভেদ, বর্ণ, গোত্র, ধর্মমত কোনটাই একজনকে তার শিক্ষা গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা একটা ধর্মীয় অপরিহার্য বিষয় হিসাবে গণ্য। উপরোক্ত আদেশ দ্বারা রাসুলে পাক(দঃ) শুধু শিক্ষার সমঅধিকারের কথাই বলেননি, বরং তিনি খুলে দিয়েছেন গভীর সমঝোতার দ্বার।

সামাজিক এবং রাজনৈতিক অধিকার:
“মায়ের পায়ের নিচেই স্বর্গ” – রাসুলে পাক (দঃ) এর এই ঘোষণা যা স্বর্গীয় আইন এবং যা দ্বারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও কর্তব্য পালন অতীব জরুরি দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে কার্যকর।  তাই স্বর্গ প্রত্যাশী কর্মের একটি হলো নারীকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা। আল্লাহর কাছে পছন্দযোগ্য কর্মের ভিতরে একটি হলো মাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান। রাসুলে পাক (দঃ) বলেন, ‘তোমার সন্তান সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক তাকে সুশিক্ষা দান কর এবং তাদের কে সমান দৃষ্টিতে দেখ’। “পুরুষগণ নারীদের সহায়ক” এই স্বর্গীয় আদেশ যা ধর্মীয় র্কতব্য হিসাবে বিবেচিত। তাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য নারীদের সম্মান করা। তাদেরকে সমান দেখা এবং সকল নারীকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবার জন্য সহযোগিতা করা এবং কোন অবস্থাতেই কোন নারীর উন্নয়নে বাধা না হওয়া।

ইসলামের সূচনাকালে বহু ঘটনা রয়েছে যেখানে নারীগণ নবী করীম(দঃ) সময়ে পুরুষগণের সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসলামের শত্রুদের নাশ করেছিলেন। নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, নারী ও পুরুষ সমান ভাবেই রাসুলে পাক (দঃ) এর কাছে বায়াআত হয়েছেন এবং তাকে নেতা হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন। তাই নারী ও পুরুষের সমঅধিকার রাসুলে পাক (দঃ) এর শিক্ষাকে আরও গৌরবান্বিত করেছে। এই শিক্ষা শুধু মানুষের অধিকারকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরে নাই বরং প্রত্যেককেই ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রেরণা দান করেছে নিজেদের অধিকার রক্ষায়।

নবী করীম (দঃ) এর কন্যা ফাতিমা(আঃ) ছিলেন অতি সম্মানিত। তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন নবী(দঃ) দাঁড়িয়ে তাকে বসার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতেন। তার ত্যাগ এবং সহযোগিতা বিশ্ববাসীর কাছে আজও ধর্মীয় কর্তব্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত।

সম্পত্তির অধিকার:
ইসলামের বিধান অনুযায়ী নারী অধিকার রাখে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা-বাণিজ্য করার, নির্বাচন করার এবং রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করার। পারিবারিক সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারী তাদের ভাইয়ের প্রাপ্ত অংশের অর্ধেক পরিমাণ পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি একজন নারী বাধ্য নন তার পিতামাতা, সন্তান বা তার ভাইদের সহযোগিতা করার, কিন্তু একজন ভাই বাধ্য তার পিতামাতা, বোন এবং তাদের সন্তানদের প্রয়োজনে সহযোগিতা করার। ইসলামের বিধান অনুয়ায়ী একজন নারী শুধু সম্পত্তির অংশীদারই নন, তিনি দেন-মোহর বা খোরপোষ প্রাপ্তির অধিকারী। যখন তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তখন তিনি তার স্বামীর তরফ থেকে দেন মোহর প্রাপ্তির অধিকার লাভ করেন, এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ এর পরও।

বিয়ে এবং বিয়ে বিচ্ছেদেরও অধিকার:
ইসলামের আইন অনুয়ায়ী একজন পুরুষ এবং নারীর অধিকার রয়েছে তাদের সঙ্গী নির্বাচনে এবং তারা বাধ্য নন অন্য কারো প্ররোচনায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে। ফাতিমা(আঃ) যিনি রাসুলে পাক (দঃ) এর কন্যা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ সুন্দরী এবং সম্মানিতা। আমিরুল মুমেনীন হযরত আলী(আঃ) যখন রাসুলে পাক (দঃ) এর কাছে ফাতিমা(আঃ) এর বিয়ের কথা বললেন তখন পর্যন্ত রাসুলে পাক (দঃ) কোন কথা দান করেন নাই যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি ফাতিমা(আঃ)কে জিজ্ঞাসা করে তার মতামত ‘হ্যাঁ’ পেয়েছেন। বিবাহ বিচেছদ ইসলামের আইনানুয়ায়ী অনুমোদিত তবে তা কতগুলো নির্দ্দিষ্ট নিয়ম বা বিধি মোতাবেক। বিবাহ বিচ্ছেদ তখনই হতে পারে যখন তা যৌক্তিক এবং একান্ত বাঞ্ছণীয় বলে বোধ হবে।

পূর্বে বহু বিবাহ বিভিন্ন দেশে একটা সাধারণ মামুলি ব্যাপার ছিল। ইসলাম কিছু আইন – কানুনের মাধ্যমে তাকে নিরুৎসাহিত করেছে। কোরানের ভাষানুযায়ী- “যদি তুমি মনে কর যে তুমি অনাথদের সাথে সমান আচরণ করতে পারবে তাহলে তুমি তোমার পছন্দমতো বিবাহ করতে পার একজন, দুজন, তিনজন বা চারজনকে। কিন্তু তুমি যদি মনে কর যে সকলের সাথে সমান আচরণ করা সম্ভব নয়, তাহলে একজনকেই বিবাহ কর।” কোরানের এই বাণী শুধু নারীদের জন্যই প্রযোজ্য নয় বরং ঐ সকল নারীদের সন্তান- সন্ততির প্রতিও দায়িত্ব নিতে হবে কেননা যেহেতু তারা পিতৃহীন এবং নারীগণ স্বামীহীন। ইসলামের প্রথম ভাগে বহু পুরুষ যুদ্ধে শহীদ হওয়ায় তাদের স্ত্রীগণ বিধবা এবং সন্তান গণ পিতৃহারা হয়ে যায়। তাই “ন্যায় বিচার” দ্বারা শুধু আবেগ তাড়িত হয়েই নয় বরং দেন মোহরের মতো ব্যবস্থা রেখে নারীকে অধিকার দেয়া হয়। একজন মুসলমান পুরুষ আজও দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া। বিভিন্ন ধরনের আইন দ্বারা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বহুবিবাহ।

ইসলামের পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশাগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে রাসুলের পাক(দঃ) এর ওফাতের পরে অনেক আইন কানুনই পরিবর্তিত হয়েছে জাতীয় কৃষ্টির কারণে বা রাজনৈতিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে। ইসলাম বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করার ফলে প্রত্যেক সংস্কৃতিই ইসলামকে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হিসাবে মেনে নিয়েছে। রাসুলে পাক(দঃ) এর ওফাতের দুই দশকের ব্যবধানে এমনকি খোদ সৌদি আরবেও অনেক আইন- কানুন পরির্বতন করা হয় রাজনৈতিক শাসকবৃন্দের ইচ্ছানুযায়ী।

পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে –
“বিশ্বাসী পুরুষগণকে বলুন যে তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের শালীনতাকে রক্ষা করে যা তাদেরকে অনেক বেশী শুদ্ধতা দান করবে এবং বিশ্বাসী মহিলাগণকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের সৌর্ন্দয্যকে হেফাজত করে এবং তারা যেন তাদের সৌন্দয্যপূর্ণ দেহ প্রদর্শন না করে।”

সময়ের ব্যবধানে এই আদেশ পরিবর্তিত হয়ে আদেশ হল যে নারীরা তাদের আপাদ-মস্তক কালো আবরণে ঢেকে রাখবে। শালীনতা পরিবর্তিত হয়ে হলো একটি নির্দ্দিষ্ট পোশাকে। এই নির্দ্দিষ্ট পোশাকের আইন বিশ্বাসী পুরুষগণের জন্য হলো না।

নারীগণ যারা ইসলামের প্রথমদিকে সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ছিলেন, তারাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। এমনকি মসজিদে বা কোন প্রার্থণালয়ে তাদের বসার ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়। রাসুলে পাক(দঃ) ঘোষণা করেছেন যে, সম্পত্তিতে নারীর যেমন অধিকার আছে, সঙ্গী নির্বাচনে তাদের অধিকার আছে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও। সামাজিক অনগ্রসরতা এবং তথাকথিত স্বার্থবাদী গোষ্ঠির কারণে উপরোক্ত মহান বাণী হয়ে পড়লো যে, নারীরা শুধু গৃহে থাকবেন, সন্তানের দেখাশোনা করবেন এবং ঘরেই অবস্থান করবেন।

কোন কুসংস্কারের ফলে নারীগণ নিগৃহীত হলে আমরা দায়ী করতে পারি কোন সংস্কৃতিকে, কোনভাবেই দায়ী করতে পারি না নারীদেরকে। কিন্তু মানবতার জন্য ন্যায়-পরায়ণতা তার দায় এড়াতে পারে না। আজ গণমাধ্যম জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিজেদের স্বার্থের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সবাই বিভ্রান্তির মাঝেই রেখেছে। নারী বড় না ছোট তা নিয়েই যত প্রকার সরব-নীরব আলোচনাই মুখ্য। আর তাদের অধিকার বা মযার্দা সবটাই গৌণ।

নবী করিম (দঃ) বলেছেন, ইসলাম এমনই এক ধর্ম যেখানে উচ্চতর মর্যাদার মান হলো প্রত্যেকের নিজস্ব জ্ঞান, যেখানে মানব জাতিকে একটা আকারে তৈরি করা হয়েছে এবং শিক্ষা গ্রহণ বা জ্ঞানার্জন হলো একটা বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তিনি বলেন- নিপীড়নকারী এবং যারা নিপীড়িত হয়, উভয়ই অপরাধী। ইসলামী আইন অনুযায়ী মানবজাতির ক্ষমতা আছে স্বর্গীয় বিষয়াবলী আহরণের আর তা শুধু সম্ভব জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই। আর সকল জ্ঞানই হল অস্তিত্বের আর তা সকলেরই অর্জনের অধিকার আছে।

ইসলাম সেই ধর্ম যা আত্মায় বিকশিত হয় জ্ঞানের মাধ্যমেই। যখন কেহ ধর্মকে রূপক বা স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য অপপ্রচার করে তখন সে মিথ্যায় পরিণত হয়। ইসলামে অজ্ঞতা বা মূর্খতা হল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সুতরাং নিজের এবং সারা বিশ্বের মানব জাতির মুক্তির জন্যই জ্ঞানার্জন করা অতি প্রয়োজন। সকল ধর্মই মানবতার অধিকার নিয়েই প্রতিষ্ঠিত এবং এখানে সকল নারী-পুরুষই কোন বন্ধনে আবদ্ধ নয়। তারা স্বাধীন কিন্তু কোন নিন্দাপূর্ণ কাজে যেন নিজেদেরকে না জড়ায়।

শুধু মুসলমান নারীগণই নন, সকল ধর্মেই নারীগণ সবর্ত্রই বর্বরতা ও নির্যাতনের শিকার। নারীদেরকে সর্বদাই দেখা হয় তারা পুরুষের সমকক্ষ নয়। তাদেরকে সমাজের নিয়মানুযায়ী দেখা হয় যে তারা ব্যক্তিত্বহীন, বুদ্ধিহীন এবং তারা ধর্মের অপব্যাখ্যায় বড়ই কোণঠাসা।

তাই নারীদের উচিত সমাজে তাদের কর্ম বিস্তৃত করে প্রমাণ রাখা যে, নারীরাও সমাজে অবদান রাখতে পারে। এবং প্রমাণ করা যে নারীরা সেই ইসলামের প্রথমকাল থেকেই তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাজ দেশ জাতি ও পৃথিবী গড়তে নারীদের সম্পৃক্ত করা উচিৎ।

 (সম্পূর্ণই লেখকের অভিমত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন)

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.