সুনিথা কৃষ্ণার পথচলা

sunita-krisnaউইমেন চ্যাপ্টার: ধর্ষণ নামক ভয়াবহ অপরাধের শিকার হলে সমাজে নারীরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে আসছে। বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে ভারতের হায়দ্রাবাদের সুনিথা কৃষ্ণা। তিনি এই ঘৃণ্য নির্যাতনের শিকার নারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি নিজেও একই ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু হার মানেননি তিনি। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এখন সহায়তা করছেন ভুক্তভোগী নারীদের। প্রতিষ্ঠা করেছেন “প্রাজয়ালা” নামের এক মিশনারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সাল থেকে মিশনারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে চলছে।

সাধারণত এ ধরণের নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীরা সমাজে নানা ভাবে লাঞ্ছিত হয়। পরিবার, আত্মীয় স্বজন এসব নারীকে সমাজের বোঝা হিসাবে বিবেচনা করে। এমনকি তাদের বাসায় সাহায্যকারী হিসেবেও রাখতে চায় না। সমাজের কলঙ্ক মনে করে তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

সুনিথা কৃষ্ণা শুধু পুনর্বাসনই করেননা। বরং তিনি এ ধরনের অপরাধ ঘটনের পর সমাজে নারীদের স্থূল ভাবে উপস্থাপনের সমালোচনাও করেন। ভুক্তভুগিতের উপর সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে বলেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সেই অভিযুক্ত পুরুষকে নিয়ে লেখি যারা এমন জঘন্য কাজ করে। আমরা ভুক্তভোগীর উপর আগ্রহ না দেখিয়ে অপরাধীর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে তাকে কেন সামনে নিয়ে আসি না?”

এ ছাড়াও তিনি যৌন কর্মীদের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে কাজ করে আসছেন। যৌন দাসত্বের উপর টাচ ড্রাইভার ইনতে নামে একটি চলচিত্রও নির্মাণ করেন তিনি।

তিনি চলচিত্রে নারীর উপস্থাপন নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যখন পর্দায় কোন পুরুষ নারীকে উত্যক্ত করে তখন কেন আমারা তাকে নায়ক ভাবে দেখব?”

বাধা এসেছে তাঁর কাজেও। শত সমালোচনা সত্ত্বেও সব সময় নারীদের নিরাপত্তা এবং ভুক্তভোগী নারীদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে জোরালো কণ্ঠে প্রতিবাদ ও দাবি করেছেন তিনি।

সূত্র: আজ জাজিরা

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.