মা হতে চলেছেন, একটু থামুন

essential_baby_buys_before_you_bring_your_bundle_homeউইমেন চ্যাপ্টার: এই মৌসুমে চেনা-অচেনা অনেকেই মা হতে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার একেবারে গর্ভাবস্থার শেষ দিনগুলো পার করছেন। কখন সন্তানের মুখ দেখবেন, সেই ভাবনাতেই অস্থির তারা। তাছাড়া, একেবারে শেষের দিনগুলো কিছুটা দু:সহই হয়ে পড়ে মায়েদের জন্য। সেই অনুভব থেকে হলেও তারা দ্রুত নিস্তার চান।

আমাদের দেশে কিছুটা কুসংস্কারই কাজ করে আগ বাড়িয়ে সন্তানের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রো কেনাকাটার ক্ষেত্রে। এটা আবার অমূলকও নয়, যেখানে মাতৃমৃত্যু বা নবজাতকের মৃত্যুহার এখনও ভাবায়, সেখানে এরকম একটি উদ্যোগকে কুসংস্কারেই ফেলে দেয় মানুষ। কিন্তু দিন তো বদলেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু এবং নবজাতকের মৃত্যু অনেকখানিই কমিয়ে এনেছে। আর মায়েদের সচেতনতা তো আগের চেয়ে অনেকখানিই বেড়েছে, বেড়েছে চিকিৎসা সুবিধাদিও। কাজেই আর এ নিয়ে ভাবনা কেন?

বিদেশে তো সন্তান ছেলে, না মেয়ে হবে তা আগে থেকেই জেনে নিয়ে কেনাকাটা শুরু হয়ে যায়। মেয়ে হলে গোলাপী রং, আর ছেলে হলে আকাশী রংয়ের জিনিসপত্রে ভরে যায় বাড়িঘর। সেগুলো দেখেও মায়ের মন কিন্তু উচ্ছল-উচ্ছসিতই থাকে। অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর থাকে মন।

কাজেই আপনার গর্ভাবস্থা যদি নির্ভেজাল-আশংকামুক্ত থাকে, তবে সব ভাবনাকে দূরে ঠেলে কেনাকাটাটা সেরেই ফেলুন। একেবারে শেষমূহূর্তের জন্য কিছু ফেলে রাখবেন না। মনে রাখবেন, সন্তান আসছে, তার অনেক কিছু প্রয়োজন হবে। মা হিসেবে নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না, আপনার সন্তান জন্মের পরই কোনরকম অবহেলার শিকার হোক!

তাছাড়া আপনি যখন সত্যি সত্যিই হাসপাতালে ছুটবেন, তখন হাতের কাছে অনেককিছুই আপনার থাকতে হবে, যেমন আপনার, তেমনি অনাগত সন্তানেরও। তাই আগেভাগেই সব কিনে ধুয়ে-শুকিয়ে-ইস্ত্রি করে ব্যাগটা গুছিয়ে রাখুন না! যাতে আপনার অবর্তমানে অন্য যে কেউ সেখান থেকেই পেয়ে যায় দরকারি সবকিছু। আপনি শুধু নির্দেশকের ভূমিকা পালন করবেন তখন।

কি কি লাগবে বা লাগতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে এখন হাতের কাছেই সব। গুগলের সহায়তা নিন, আর ডাক্তার তো আছেই। মুরুব্বীরাও আছেন। বিদেশে সাধারণত হাসপাতাল থেকেই তালিকা দিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানের জন্ম, আনন্দের উৎস, সেই আনন্দে ভাটা ফেলে শেষমূহূর্তে দোকানে দোকানে দৌড়াতে কারোরই ইচ্ছা করবে না। কিনে রাখুন সব।

দুটো ব্যাগ নিন, একটা আপনার, আরেকটি আপনার স্বপ্নের ছোট্ট সোনামনিটার। কি কি রাখবেন হাতের কাছে:

১. আইডি কার্ড, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড। বলা তো যায় না, কখন কত টাকা লাগবে। তাই আপনি আগেভাগেই কিছু টাকা তুলে রেখে দিন হাতে। প্রয়োজনের সময় যেন অন্য কারও কাছে হাত পাততে না হয়।

২. গর্ভাবস্থার পুরো সময় ধরে যেসব ডাক্তারি পরীক্ষা আপনি করিয়েছেন, সেগুলো নির্দ্দিষ্ট একটা ফাইলে আছে তো? দেখে নিন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো যতো পরীক্ষা করিয়েছেন, সব একটি ফাইলে রেখে দিন। জরুরি মূহূর্তে এগুলোর প্রয়োজন জীবন-মরণ সমস্যাও হতে পারে। রক্তের গ্রুপ তো নিশ্চয়ই জানেন। ডাক্তার না বললেও দুজন ডোনার রাখেন সাথে। সাবধানের মার নেই।

৩. প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়ের ব্যাগগুলো নিচ্ছেন। সাথে নিয়ে নিন আপনার সেলফোন আর চার্জারটাও। কত প্রয়োজনীয় নম্বর আছে আপনার ফোনে, কে জানে, কাকে কাজে লাগবে তখন, তাছাড়া, ওতে পছন্দের গানও তো আছে। যদি গান শুনতে ইচ্ছে করে রিল্যাক্স সময়ে! আর এখনকার ফোন মানেই তো ক্যামেরা। আপনি আর অন্যদের জন্য অপেক্ষা করবেন কেন স্মরণীয় মূহূর্তগুলো বন্দী করে রাখতে।

৪. অনেকেই আবার নিজের বিছানা, নিজের বালিশেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তাই যদি হয়, তবে বালিশ-বিছানার চাদর নিয়ে নিতে পারেন। তাহলে হাসপাতাল ভাবনা থেকে অনেকটা হলেও রেহাই পাবে মন। খোলামেলা পোশাক পরুন, আরামে থাকুন।

৫. নিজের আরামের জন্য দুটো ঘুম-পোশাক বা নাইটি, প্যান্টি গুছিয়ে নিন।

৬. সবশেষে সবচেয়ে পছন্দের কোন বই আপনি সঙ্গে নিতে পারেন। সন্তান জন্মের আগে-পরে কিছু সময় পাবেন। ঘুম আসছে না? বই পড়তে পারেন। ভাল বই, ভাল মিউজিক, মন ভাল করে দেবে। আর এসময়টাতে মন ভাল রাখাটা যে কত জরুরি, জানেন তো? তাই দেরি না করে গুছিয়ে ফেলুন, আপনার মাতৃত্বের যাত্রা শুভ হোক, সুন্দর-শান্তিময় হোক।

শেয়ার করুন:
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.