প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আশার সূচনা

PM-hasina_new_1উইমেন চ্যাপ্টার: নির্বাচনের সময় সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের নাম আহ্বান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষণ দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সুশীল সমাজ। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

তাঁর এই বক্তব্যে আশার সঞ্চার হয়েছে সর্বস্তরের জনগণের মাঝেও। অনেকেই বলছেন, ২৫ অক্টোবর নিয়ে যে আতংক রয়েছে, তার অনেকখানিরই মীমাংসা হয়ে গেছে এই বক্তব্যে। তাদের মতে, বল এখন বিএনপির কোর্টে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে বিরোধী দলের ইতিবাচক সাড়া দেওয়া উচিত। যদিও বিরোধী দল এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে নতুন কিছু নেই। তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে বলেও দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা সকল দলকে সঙ্গে নিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চাই। বিরোধী দলের কাছে সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্য থেকেও আপনারা নাম দিতে পারেন, যাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মন্ত্রিসভায় সদস্য করে সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে পারি। নির্বাচনে যাতে কারও কোনো সন্দেহ না থাকে, সকল সন্দেহ দূর করে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারি, যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের মনমতো সরকার গঠন করতে পারবে। আমি বিরোধী দলের নেতাকে অনুরোধ করছি, তিনি এই ডাকে সাড়া দেবেন। আমার এ অনুরোধ তিনি রক্ষা করবেন এবং আমাদের যে সদিচ্ছা, সেই সদিচ্ছার মূল্য তিনি দেবেন।’

সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিরোধীদের কাছে পরামর্শও চান তিনি।

তবে যে কোনো ধরনের অসাংবিধানিক সরকারের শাসনের বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জাতির সামনে তুলে ধরে কার্যত বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি আবারও খারিজ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

‘হানাহানি ও সন্ত্রাসের পথ’ পরিহার করে বিরোধী দলকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন,  আলোচনার দরজা সব সময় খোলা।

সংবিধান থেকে উদ্ধৃত করে  নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নব্বই দিনের মধ্যে যাতে নির্বাচন হয়, সেজন্য মহাজোটসহ সবার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ‘যথাসময়ে’ রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দেবেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে এবং নির্বাচন হবে।

মানুষের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবনই ‘একমাত্র কাম্য’ জানিয়ে সংঘাতের পথ পরিহার করে ‘সমঝোতার মাধ্যমে’ মানুষের কল্যাণের পথে আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ছুরি, দা, খুন্তা, কুড়াল নিয়ে মানুষ মারার নির্দেশ প্রত্যাহারে জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি ও ঐক্যের পথই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। জনতার ওপর আস্থা রাখুন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করুন। আপনারা কি চান, তা সংসদে এসে বলুন। আলোচনা করুন। আলোচনার দরজা সব সময় আমাদের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত আছে।’

নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, দেশ ও জাতির কল্যাণের স্বার্থে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরো সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করি।

“যাতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজ পায়। একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ আমরা সকলে মিলে গড়ে তুলতে পারি।”

সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সমস্যার ৯৫ ভাগ সমাধান হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপিকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন।

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ইতিবাচক অভিহিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সমস্যার ৯৫ ভাগ সমাধান হয়ে গেছে। এখন বিএনপির উচিত তা গ্রহণ করে আলোচনায় বসা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘গঠনমূলক’ অভিহিত করে বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রস্তাব ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.