আটকে রাখা ছয় তরুণীকে উদ্ধার

women n sex
ছবিটি প্রতীকী

উইমেন চ্যাপ্টার: জয়পুরহাটের এক প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বাড়িতে দু বছর ধরে আটকে রাখা ছয়জন তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সেকান্দর আলী নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ছয় তরুণীকে জোর করে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেছিল। সেকান্দরের নিজেরও ছয়জন স্ত্রী বর্তমান আছে।

কালাই উপজেলার এক ইউপি সদস্য সেকান্দর আলীর বাড়ী থেকে উদ্ধার করা এই ছয় তরুণীকে এখন রাজশাহীতে নারীদের এক নিরাপদ আবাসে রাখা হয়েছে। পুলিশ সেকান্দর আলীকে ধরতে পারেনি। তবে তাঁর চার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সেকান্দর আলীর ছয় স্ত্রীর বাকী দুজন পলাতক রয়েছে। ছয় তরুণীকে আটকে রেখে যৌনপেশায় নিয়োজিত করার এই ঘটনা নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রমজান আলী বিবিসিকে জানান, আটক ছয়জনের মধ্যে একজন কৌশলে এক খদ্দেরের মোবাইল ফোনে বাইরে খবর পাঠাতে সক্ষম হয়। সেই খবরের সূত্র ধরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানায়, কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের হারুনজা গ্রামে পুলিশ যখন প্রথম অভিযান চালায়, তখন প্রথমে বুঝতেই পারেনি যে সেখানে ছয় জন তরুণীকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই বাড়িটিতে নির্জন একটি কুঠুরি আছে। বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় নেই। মাত্র সাত-আট বর্গফুটের একটি ছোট্ট কক্ষ। দুটি দেয়াল তুলে এই কক্ষটি আড়াল করা ছিল। সেখানে ঢোকার যে ছোট্ট দরোজা সেটির মুখে একটি আলমারি রাখা ছিল। যাতে কেউ বাইরে থেকে বুঝতে না পারে।”

তিনি বলেন, পুলিশ তাদের প্রথম দফা অভিযানের সময় বুঝতেই পারেনি যে এরকম একটি ছোট গোপন কুঠুরি সেখানে আছে।

এরকম একটি ছোট্ট কক্ষে ছয় তরুণী কিভাবে এত দীর্ঘ সময় থেকেছে—সে প্রশ্নের উত্তরে হামিদুল আলম বলেন, এসব মেয়ে বেশিরভাগ সময় ঐ কক্ষেই থাকতো যাতে বাইরের লোক কিছু বুঝতে না পারে। কিন্তু খদ্দেররা আসলে তাদের বাড়ির অন্য কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো।

এ ঘটনার ব্যাপারে মানব পাচার আইনে সেকান্দার আলী এবং তাঁর স্ত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.