বর্ষসেরা নারীনেত্রীর পুরস্কার পেলেন নাজমা আক্তার

0
nazma akhter

পুরস্কার হাতে নাজমা আক্তার

উইমেন চ্যাপ্টার: এবছর বার্লিনের ‘বর্ষসেরা নারী নেত্রী’র পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার৷ তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা নাজমা পুরস্কার হাতে বেশ আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর দীর্ঘ বঞ্চনাময় কর্মজীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি উপস্থিত সবাইকেই নাড়া দেন।

বৃহস্পতিবার বার্লিনে ‘আস্ত্রাইয়া ফিমেল লিডার অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০১৩’-এর ট্রফি হাতে তুলে নেয়ার পর একটা সময় পর্যন্ত কথা বলতেই কষ্ট হচ্ছিল নাজমা আক্তারের৷ আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে ছাপিয়ে উঠে আসছিল ১১ বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে পোশাক শিল্পশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করার স্মৃতি৷

তিনি বলেন, মাস শেষে মাত্র ২৫০ টাকা পাওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ পরিবেশে হাড়ভাঙা খাটুনি তার কাছে কিছুটা স্মৃতি হলেও বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পোশাক শ্রমিকের জীবনেই এখনও তা সত্য। টাকার পরিমাণ বাড়লেও বাড়েনি কোন সুবিধা।  বরঞ্চ সেখানে যোগ হয়েছে নানাস্তরের নিরাপত্তাহীনতা।

নাজমা বলেন, তার বয়স বেড়েছে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এগিয়েছে অনেক, কারখানা বেড়েছে অনেক, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে শ্রমিকের রক্ত-ঘাম-জীবনের বিনিময়ে পাওয়া লক্ষ লক্ষ বৈদেশিক মুদ্রা, কিন্তু শ্রমিকদের সব চাহিদার ‘ন্যূনতম’ দাবিগুলো এখনো তো পূরণ হয়নি! বার্লিনের বিএমডব্লিউ কার্যালয়ের নীচতলায় এই কথাগুলোই বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন নাজমা আক্তার৷ তার সেই কান্না ছুঁয়ে গেছে জার্মানির বড় বড় তারকাদেরও।

আস্ত্রাইয়ার পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য ইয়ুটা ক্লাইনশ্মিট, জার্মানির নারী বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ইমোশন’-এর চিফ এডিটর ডরোটে ব়্যোরিশ এবং পুরস্কারের স্পন্সর বিএমডব্লিউ বার্লিনের বিপণন বিভাগের পরিচালক হান্স রাইনার শ্র্যোডার-এর বক্তব্যেও তাই একটু বেশি জোরালো হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্ম পরিবেশের দাবি৷

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপরিচিত জার্মানির বেশ কয়েকজন মডেল, অভিনেত্রী, ক্রীড়াবিদ এবং টেলিভিশন উপস্থাপিকার উপস্থিতিতে উজ্জ্বল এ অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন নাজমা আক্তার৷

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একা সাক্ষাতকারে তিনি বিশ্বের সব দেশের নারীকে নেতৃত্বের পর্যায়ে তুলে আনতে বদ্ধপরিকর আস্ত্রাইয়ার কথা বলেন৷ সরকার, পোশাক শিল্প মালিক এবং বিদেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় সম্পর্কেও তুলে ধরেন তিনি৷ তাঁর আশা, এসব বিষয়ে সবার শিগগিরই টনক নড়বে এবং পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা সুদিনের দেখা পাবেন৷

তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.