অবশেষে ‘মুক্ত’ হলেন তাজরিনের মালিক

Tazreen owner
ছবিটি বিডিনিউজ থেকে নেয়া

উইমেন চ্যাপ্টার: ১১২ জন শ্রমিককে পুড়িয়ে মারার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিও সরকার থেকে শুরু করে সব মহলের সমীহ পায়। চোখের সামনে থেকেও তিনি ধরা পড়েন না। কিন্তু সেই তিনিই গতকাল দেখলেন শ্রমিকদের ভিন্নরূপ। পোশাক কারখানার সব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দিয়ে ভেবেছিলেন এই যাত্রায় পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু হয়নি। বকেয়া বেতন ও ঈদের বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের হাতে শনিবার সকাল থেকে অবরুদ্ধ হয়ে থাকার ১৫ ঘন্টা পর রাতে তাজরিনের ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেন ‘মুক্ত’ হন।

দেলোয়ার হোসেন যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বোনাস দেওয়ার জন্য যন্ত্রপাতি বিক্রি করেছি, চাকরিচ্যুতির জন্য নয়।’ কেন তিনি শ্রমিকদের একথা জানাননি, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিক্ষোভের আশঙ্কায় যন্ত্রপাতি বিক্রির কথা তিনি শ্রমিকদের জানাননি। এদিকে শ্রমিকরা জানান, এক দফায় তাদের বেতন দেওয়া হয়, কিন্তু সবাই পাননি। শনিবার তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে কাজে গিয়ে তারা দেখেন সব যন্ত্রপাতি উধাও। জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের অন্য জায়গায় কাজ খুঁজতে বলা হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তারা এবং বাড্ডায় গ্রগতি সরণিতে হোসেন মার্কেটে তুবা গ্রুপের একটি অফিসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শ্রমিকরা তখন বলেন, বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও কেবল তাকে ছাড়া হবে।

একজন নারী শ্রমিক বলেন, মালিকের মুখে এ কথা শোনার পর সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মালিক তখন পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার, রাস্তায় নামলে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মালিককে রুমের ভেতরে আটকে রাখেন।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর এই তুবা গ্রুপের তাজরিন গার্মেন্টেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত ১২টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের বোনাস দেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তখনই শ্রমিকরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়। এর আগে অবশ্য বোনাস-পাওনা দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ লেনদেন চলে শ্রমিক-মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে। এমনকি বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষও দেলোয়ারকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে জমি-বাড়ি বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতে বলে।

এর আগে দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও দেলোয়ার হোসেন শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে শ্রমিকরাও অবরোধ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানায়।

জানা গেছে, তুবা গ্রুপের বিভিন্ন গার্মেন্টের অন্তত হাজার খানেক শ্রমিকের তিন মাসের বেতন ও বোনাস বাকি রয়েছে। গত কয়েকমাস ধরেই তারা বেতন দাবি করে আসছিলেন। তবে মালিকপক্ষ তা আমলে নিচ্ছিল না।

শ্রমিকেরা জানান, শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করলে কৌশলে কারখানায় আগুন লাগার সংকেত দেন মালিকপক্ষের লোকজন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হুড়াহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন তাঁদের হুমকি দেন, নিজেই নিজের কারখানায় আগুন লাগিয়ে শ্রমিকদের ফাঁসিয়ে দেবেন। শ্রমিকেরা বলেন, মালিক যদি কোনো শ্রমিক না চান, সমস্যা নেই। কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণ দিলেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। না হলে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর রাতে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১২ জনের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.