‘টেন্ডুলকার’ – ক্রিকেটেরই প্রতিশব্দ

Sachin-Tendulkar2উইমেন চ্যাপ্টার: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় জানিয়েছেন অনেক আগেই। আইপিএলকেও বিদায় জানানো হয়ে গেছে। বাকী রইলো শুধু টেস্ট। খুবই পছন্দ করতেন টেস্ট খেলা। ক্রিকেটারের আসল টেস্ট এই টেস্ট ক্যারিয়ারকেও তাই দীর্ঘ করেছেন অনেক বেশি। সাধারণত ক্রিকেটারদের বেলায় দেখা যায় ছোট ভার্সনের খেলাগুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য টেস্টটা আগেই বাদ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তিনি যে ক্রিকেটের বরপুত্র। টেস্টকেই তিনি আসল টেস্ট হিসেবে ধরে নিয়ে ৪০ বছর বয়সেও খেলে যাচ্ছিলেন সাবলীলভাবে।

সমালোচকদের অবসর তত্ত্বও ছিলো তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ব্যাট হাতে বরাবরই তাদের মুখ বন্ধ করেছেন। কিন্তু এবার সত্যি যে নতুনকে জায়গা করে দেয়ার সময় হয়েছে। ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৪ বছরের সোনাঝরা ক্যারিয়ারের। বলেছেন টেস্ট ‘ম্যাচের’ ডাবল সেঞ্চুরি করে তবেই বিদায় জানাবেন।

৫১টি টেস্ট শতকের মাঝে মাত্র ছয়টি ডাবল সেঞ্চুরি বলেই হয়তো ‘ম্যাচের’ ডাবল সেঞ্চুরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এবার ১৯৮ তে যেয়ে আউট হওয়ার ভয় নেই। নাই বোলারের বাউন্সের ভয়। বিধাতা সহায় হলে তার টেস্ট ম্যাচের দ্বি-শতক নিশ্চিত।

ঘোষণাটা দিয়েছেন অনেক আবেগ ঘন ভাষাতেই। হওয়াটাই স্বাভাবিক, ক্রিকেট ছাড়া টেন্ডুলকারকে ভাবতেই পারেন না দর্শকরা। কঠিন সমালোচকও মাঝে মাঝে বলে উঠেন টেন্ডুলকার ছাড়া ভারত দলটা কেমন খালি খালি লাগে। ক্রিকেটও তাঁকে আপন করেছে বরপুত্রের মত। অনেকে তো আবার ক্রীড়া দেবতার আসনেও বসিয়ে দিয়েছেন। আসলে ক্রিকেটকেই ‘টেন্ডুলকার শূন্য’ কেমন লাগবে তা’ই বর্তমান প্রশ্ন।

‘সারা জীবনই ভারতের পক্ষে খেলার স্বপ্নটা বুকে লালন করেছি। ২৪ বছর ধরে প্রতিটি দিন এই স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছি। ক্রিকেট ছাড়া আমার জীবন ভাবতেই পারি না। ১১ বছর বয়স থেকেই এই ক্রিকেটই আমার সবকিছু। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে গর্বিত ও সম্মানিত। ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের ২০০তম টেস্ট ম্যাচটি খেলেই আমি ক্রিকেটকে “বিদায়” বলতে চাই।’

খুবই সাধারণ কিছু কথা। কিন্তু টেন্ডুলকারের ভক্তদের মনে শুধু একটাই হাহাকার। আর মাত্র দশদিন ক্রিকেট খেলবেন টেন্ডুলকার? এ কি করে হয়?

১৯৮ টেস্ট খেলা টেন্ডুলকার সত্যি এবার বিদায় জানাচ্ছেন।

টেন্ডুলকার তো যাচ্ছেন কিন্তু রেখে যাচ্ছেন অনেক কিছুই, যা দেখে টেন্ডুলকার সমর্থকরা যুগ যুগ ধরেই বলবে “এতো করেছে তো কি হয়েছে? টেন্ডুলকারের রেকর্ড তো আর ভাঙ্গতে পারবে না”। সত্যি রেকর্ডগুলো এমন যে, ওইদিকে তাকালেই যেকোনো ক্রিকেটারেরও মনে হতে পারে তিনি আকাশের তারা দেখছেন। অবসর নেয়া পর্যন্ত তিনি টেস্ট খেলবেন ২০০টি, যা আগে কেউ কখনো খেলেননি। রান করেছেন ১৯৮ ম্যাচে ৫১.৮৬ গড়ে ১৫৮৩৭ রান। শতক করেছেন ৫১টি। যার মধ্যে ডাবল রয়েছে ছয়টি। একটি ট্রিপলের অপূর্ণতা হয়তো থেকেই যাবে। কে জানে শেষ দুটিতে তাও পূর্ণ করে যান কি না।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.