সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার এলিস মুনরো

alice
এলিস মুনরো

উইমেন চ্যাপ্টার: সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ‘সমসাময়িক ছোটগল্পের দিকপাল’ হিসেবে খ্যাত কানাডীয় লেখক এলিস মুনরো। সুইডিশ নোবেল একাডেমি বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় একথা জানায়। প্রাঞ্জল গদ্যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটিয়ে তোলায় মুনশিয়ানার জন্য তাঁকে ‘কানাডার চেখভ’ বলে অভিহিত করা হয়।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ মুনরো পাবেন ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ১১০তম লেখক তিনি। নোবেল পুরস্কারের ১১৩ বছরের ইতিহাসে এলিস মুনরো হলেন ত্রয়োদশ নারী, যিনি সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এ পুরস্কার পাচ্ছেন।

অ্যাকাডেমির সেক্রেটারি পিটার ইংলান্দ তাকে অভিহিত করেন সমসাময়িক ছোটগল্পের ‘দিকপাল’ হিসাবে।

‘ডিয়ার লাইফ’ ও ‘ড্যান্স অব দ্য হ্যাপি শেডস’ মুনরোর বহুল আলোচিত ছোটগল্প।

৮২ বছর বয়সী এ ছোটগল্পকার কিশোর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৫০ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প ‘দ্য ডাইমেনশনস অব এ শ্যাডো’ প্রকাশিত হয়। তিনি সে সময় ওয়েস্টার্ন অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।

১৯৬৮ সালে তাঁর প্রকাশিত বই ‘ড্যান্স অব হ্যাপি শেডস’ কানাডার সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার গভর্নর জেনারেল পায়।

২০০৯ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য এলিস মুনরো আন্তর্জাতিক ম্যান বুকার পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর লেখনিতে বালিকা থেকে নারী হয়ে ওঠার পথে মেয়েজীবনের গল্পগুলো অনবদ্যভাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেছেন সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াইয়ে মানবিক টানাপড়েন ও নৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়গুলোও।

পরিবারের দেয়া নাম এলিস অ্যান লেইডল; জন্ম ১৯৩১ সালের ১০ জুলাই, অন্টারিওর ইউংহ্যামে । মা অ্যানি ক্লার্ক লেইডল ছিলেন স্কুলশিক্ষক, বাবা রবার্ট এরিক লেইডল পোল্ট্রি ও ফারের জন্য চালাতেন খামার।

স্কুলের চৌকাঠ পেরিয়ে সাংবাদিকতা ও ইংরেজি সাহিত্য পড়তে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওতে ভর্তি হন এলিস। কিন্তু ১৯৫১ সালে বিয়ের পর পড়ালেখার পাট চুকে যায়। জেমস ও এলিস মুনরো দম্পতি ঘর বাঁধেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ায়। সেখানে একটি বইয়ের দোকান খোলেন তারা। সেই ‘মুনরোস বুকস’ আজও বইয়ের পোকাদের রসদ যুগিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয় মুনরোর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘বালিকা ও নারী জীবন’ (লাইভস অফ গার্লস অ্যান্ড উইমেন), যাকে সমালোচকরা চিহ্নিত করেন ‘বিল্ডুংস্রোমান’ ধরনের কাজ হিসাবে, যেখানে পরস্পর সম্পর্কিত অনেকগুলো ছোটগল্পে ব্যক্তির মনোজীবনের পরিবর্তনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়।

১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় একই ধারার আরেকটি সঙ্কলন- ‘হু ডু ইউ থিংক ইউ আর?’ ১৯৮২ সালে বাজারে আসে ‘দি মুনস অফ জুপিটার’।

২০০১ সালে প্রকাশিত মুনরোর ‘হেইটশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, কোর্টশিপ, লাভশিপ, ম্যারেজ’ অবলম্বনে পরিচালক সারা পলি ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘চলচ্চিত্র অ্যওয়ে ফ্রম হার’। অস্কার পুরস্কারেও ছবিটি মনোনয়ন পায়।

১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, চীন আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোয় ঘুরে বেড়িয়েছেন মুনরো। ১৯৮০ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন ‘রাইটার-ইন-রেসিডেন্স’ হিসাবে।

১৯৮০ ও নব্বইয়ের দশকে প্রতি চার বছরে মুনরোর অন্তত একটি গল্প সঙ্কলন প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে তার হাত দিয়ে আসে ‘রানঅ্যাওয়ে’, ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘দি ভিউ ফ্রম ক্যাসেল রক’।

ওই বছরই এক সাক্ষাৎকারে মুনরো বলেন, আর কোনো সঙ্কলন তিনি প্রকাশ করবেন না। তবে তার কলম সেই পথে হাঁটেনি। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘টু মাচ হ্যাপিনেস’।

মুনরোর সর্বশেষ গল্প সঙ্কলন ‘ডিয়ার লাইফ’ প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। দক্ষিণ-পশ্চিম অন্টারিওতে শৈশবের শহরের খুব কাছে ক্লিনটনে কাটছে তার বার্ধক্যের দিনগুলো।

গত বছর চীনের মো ইয়েন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.