ভারতে মন্দিরের পুরোহিত হলেন দুজন বিধবা

0

Widowsউইমেন চ্যাপ্টার: প্রথমবারের মতোন দুজন হিন্দু বিধবা নারীকে মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এজন্য তাদের চারমাস প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বিবিসির সংবাদদাতা এ খবর জানিয়ে বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরে গত রোববার তাদের পুরোহিত হিসেবে অভিষেক হয়। লক্ষ্মী এবং ইন্দিরা সেদিন থেকেই কুদরোলি শ্রী গোকর্ণনাথেশ্বরা মন্দিরে কাজ শুরু করেছেন।

পুরোহিত হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত হন। সঙ্গীতের সাথে সাথে তারা মন্দিরে প্রবেশ করেন। বিধবা নারীদের পুরোহিত হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিকে ভারতীয় সমাজে বিপ্লবের সাথে তুলনা করছেন বিশ্লেষকরা। যেদেশে বিধবাদের মন্দিরের সবরকম আয়োজন থেকে দূরে রাখা হয়, যেখানে বিধবারা এখনও নানাভাবে অনাকাঙ্খিত এবং বোঝা হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে তাদেরই মন্দিরের মতো স্থানের দায়িত্ব দেওয়া, বেশ বড় ঘটনাই বটে। কট্টরপন্থীরা এ ঘটনার বিরোধিতা করলেও জনমতের ক্ষেত্রে তা ধোপে টেকেনি।

সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সমাজের এই সংস্কারের পিছনে যিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, সেই জনার্দ্ধনা পূজারী এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমরা আরও অনেক বিধবা নারীকে পুরোহিত হিসেবে পাবো বলে আশা করছি’। মি. পূজারী বলেন, তিনি বিধবাদের নিয়োগ নিয়ে রাজ্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন, যাতে করে কর্ণাটকের সরকার-পরিচালিত মন্দিরগুলোতে আরও অনেককে নিয়োগ দেওয়া যায়।

রোববারের ওই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিধবাদের প্রার্থনা পরিচালনা বা পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের ওপর কোনরকম বাধানিষেধ থাকা উচিত না। শুধুমাত্র বৈবাহিক পরিচয়ের কারণে কোন বিধবারই বৈষম্যের শিকার হওয়া উচিত না। এই অভিষেক অনুষ্ঠানে হিন্দু, মুসলমান এবং খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের লোকজনই উপস্থিত ছিলেন।

লক্ষ্মী এবং ইন্দিরাকে চারমাস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদেরকে এজন্য প্রতিমাসে বেতন দেওয়া হবে এবং তাদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করবে মন্দির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কুদরোলি মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছেন, সামাজিক পরিবর্তন আনতেই তারা এই দুজন বিধবাকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের অধিকাংশ লোকই তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

দেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন খুবই জরুরি বলে মনে করেন ছাত্র অনিল। তিনি বলেন, ‘ভক্তরা এই বিধবাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন, এটা দেখতেই আমার ভীষণ আনন্দ লাগছে’। পার্শ্ববর্তী রাজ্য কেরালায় সমাজ সংস্কারক নারায়ণ গুরু উনবিংশ শতকে এই মন্দিরটি স্থাপন করেন।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.