আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড

abdul alimউইমেন চ্যাপ্টার: হলো না শেষপর্যন্ত। গতকাল থেকেই এমন একটি আশংকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রতিটি মানুষের মনে। তাদের আশংকার কারণ ছিল যুদ্ধাপরাধী ও সাবেক বিএনপি মন্ত্রী আবদুল আলীমের বয়স।এর আগে যুদ্ধাপরাধের প্রধান নেতা গোলাম আযমের সময়ও বয়স বিবেচনায় নেওয়ায় আশংকাটি তীব্রতর হচ্ছিল রাত থেকেই।

তারপরও সুবিচারের, অর্থাৎ ফাঁসির রায়ের অপেক্ষা করে ছিল নতুন প্রজন্মও। কিন্তু তাদের এই অপেক্ষা খান খান হয়ে গেছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় হয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও সাবেক বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে। রায়ে বলা হয়েছে, আমরণ তাকে কারাগারে থাকতে হবে। আইনজীবীরা বলেন, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে আমৃত্যু কারাগারে রাখার আদেশ দেওয়া হয়। তিনি আর বাইরের আলো দেখতে পাবেন না জীবদ্দশায়।

বুধবার বেলা ১২টা ৩৮ মিনিটের দিকে এই আদেশ দেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। এর মধ্যে নয়টি প্রমাণিত, ছয়টি অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। ১৯১ পৃষ্ঠার রায় পড়াশেষে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।

এদিকে আবদুল আলীমকে ফাঁসি না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চ। সকাল থেকে ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার শাহবাগে হঠাতই যেন পিনপতন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এর আগের রাতেই তারা শাহবাগে অবস্থান নেন।

এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র শাস্তি হতে পারে। এর বিকল্প কোন রায় হতে পারে না। আব্দুল আলীমের রায়ও ফাঁসিই হবে, এই কামনা করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণ মনে করে ফাঁসিই হচ্ছে আব্দুল আলীমের একমাত্র আকাঙ্খিত রায়।’

বুধবার সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে একটি সাদা রংয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে একাত্তরের এই মুসলিম লীগ নেতাকে হাই কোর্ট সংলগ্ন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে করে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার পরনে ছিল সাদা লুঙ্গি ও ফতুয়া। হুইল চেয়ারে করেই আলীমকে কাঠগড়ায় নিয়ে আসা হয়।

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং এসব অপরাধে উস্কানি ও সহযোগিতার ১৭টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে।

রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রবেশ পথে দুই সারিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা এড়াতেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বয়সের দোহাই! এরা যখন জঘন্য অপরাধগুলো করেছিল তখন এদের বয়স কত ছিল আর যাদের উপর অত্যাচার করেছিল তাঁদের কি বয়সের কারণে ছাড় দিয়েছিল? আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভালো সাজা! এই আন্তর্জাতিক মহল কোথায় ছিল তখন??

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.