“সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন”

PMউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: বিরোধীদলের প্রবল হুমকির মধ্যেও সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশবাসিকে তিনি যেকোন প্রকারের অপপ্রচার এড়িয়ে অগ্রযাত্রাকে বহাল রাখার আহ্বান করেন।

সোমবার আওয়ামী লীগের এক দলীয় সভায় তিনি বলেন, “আমি দেশের মানুষকে আহ্বান করব, তারা যেন অন্তত তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন। আর সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হবে, জনগণ ভোট দেবে।”

এদিকে গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশে একক নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলারও নির্দেশ দেন।

বিএনপির দাবী সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল করতে হবে। না হলে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেবেনা বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় দলটির তরফ থেকে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের আমলে ৫ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচনে কোনো অশান্তি হয়নি। বিএনপি, আর সঙ্গে দোসর হল জামাত। এদের কাজই হচ্ছে, দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা।”

এ বিষয়ে সিলেটের জনসভায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর থাকার বিষয়ে টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে ওনার ক্যান্ডিডেট কিভাবে সিলেট থেকে জিতলেন?

“যে জয়লাভ করেছে, তাকে পাশে নিয়ে উনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। আমার প্রশ্ন- ওনার ক্যান্ডিডেট জেতে কীভাবে, যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয়।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আসলে যার চুরি করার অভ্যাস, সে তো সবাইকে চোরই মনে করে। ওনাদের অভ্যাস দুর্নীতি করা, চুরি করা, এতিমের টাকা মেরে খাওয়া। আর, সন্ত্রাস আর মানুষ খুন করা। নিজে মানুষ খুন করাবে, আর সবাইকে খুনি মনে করে।”

বিএনপি নির্বাচিত হলে হেফাজতকে সাথে নিয়ে আবার নারীদের ঘরে ঢুকিয়ে দেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উনি তো এখন হেফাজতে ইসলামকে সাথে নিয়ে, জামাতকে সাথে নিয়ে.. ওনার যে রাজনীতি, তাতে তেতুল তত্ত্ব যা দিয়েছে; তাতে মেয়েরা এদেশে পড়াশোনা করতে পারবে না। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়তে হবে।”

সকল ধরণের অপপ্রচারের মোকাবেলা করার জন্য আরও তৎপর হতে আহ্বান করেন দলের নেতাকর্মীদের।

এ সময় তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান সকল নেতাকর্মীদের।
“মানুষের এই উন্নতি, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। তার জন্য আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিএনপির যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিরোধীতার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উনি (খালেদা জিয়া) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চান।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে গণভবনে দলের এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঠাকুরগাঁও, কক্সবাজার, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা এবং এই ছয় জেলার অন্তর্গত উপজেলা, থানা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.