বাংলাদেশিদের পরিচয় নির্ধারণী নির্বাচন

Frances Harrisonউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ পরিচিতি নির্ধারণের ‘লড়াইয়ে’ মোড় নিতে পারে, এমনই মন্তব্য করেছেন বিবিসির সাংবাদিক ফ্রান্সেস হ্যারিসন। লন্ডনভিত্তিক ইনস্টিটিউট অফ কমনওয়েলথ স্ট্যাডিজের পক্ষ থেকে ফ্রান্সেস পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘পলিটিক্যাল ইসলাম অ্যান্ড দ্য ইলেকশনস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে হ্যারিসন বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি ও ইসলামপন্থীদের আদর্শিক লড়াই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের পর শ্রীলঙ্কা ও ইরানেও বিবিসির হয়ে কাজ করা এই সাংবাদিক জামায়াতে ইসলামীর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এদেশের ইসলামপন্থী বিভিন্ন দল ও তাদের জোট এবং জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভেদ পর্যালোচনা করেন।

দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় জামায়াতের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে নীরবে ধর্মীয় প্রভাব বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো খতিয়ে দেখেছেন তিনি। “স্বাধীনতার পর ৪০ বছর পার হলেও অনেকে একে জাতির অস্তিত্ব ভাঙা-গড়ার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। আসন্ন নির্বাচন এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সবাই এ বিষয়ে একমত যে, আসন্ন নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এতো অনিশ্চিত ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় যে, চলতি বছরের শেষ দিকে সময়মতো এ নির্বাচন নাও হতে পারে। বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিকল্প পাওয়া নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা।”

তিনি বলেন, অনেক বাংলাদেশি ইসলামপন্থীদের নিয়ে ততোটা আতঙ্কিত নয়। কারণ তারা মনে করেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের মধ্যেই মূল বিরোধ।

ক্ষমতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “তারা ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের একটি ফ্রাঙ্কেস্টাইন দানবে পরিণত করছে এবং তারা এটা বুঝতেও পারছে। কিন্তু তারা এখনো ক্ষমতার লড়াইয়ে মত্ত।”

হ্যারিসন বলেন, অনেকে তাকে বলেছেন- দুই নেত্রীই প্রতিপক্ষের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার চেয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণকে পছন্দ করেন।

“অবশ্য, কেউই মনে করেন না যে, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে চায়।”

নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড বাস্তবায়ন হলে কী পরিস্থিতি হতে পারে তারও একটি চিত্র তুলে ধরেছেন হ্যারিসন।

“একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর কয়েক নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে কি না এবং ইতোমধ্যে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তার কী প্রভাব পড়বে। দণ্ড কার্যকর হলে বাংলাদেশিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বাড়তে পারে।”

আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বাড়ার কারণ হিসাবে তার যুক্তি: একটি বড় অংশই মনে করে একাত্তরে ভয়াবহ অপরাধের জন্য দায়ীরা এর আগে কখনো বিচারের মুখোমুখি হয়নি।

“অবশ্য এতে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ দণ্ড কার্যকর হলে জামায়াতে ইসলামী চরম সহিংস হয়ে উঠতে পারে এবং পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।”

হ্যারিসন বলেন, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক মতভেদ নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপকে একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে হরতালের মতো কর্মসূচি অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করে বলে মনে করেন বিবিসির এই সাবেক সাংবাদিক।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম হ্যারিসনকে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের জিডিপি শূন্য দশমিক ৫ থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এতে রপ্তানি, উৎপাদন, পরিবহন ব্যাহত হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারীদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে, হরতালের কারণে চলতি বছর প্রতিদিন এ খাতে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে।

(লেখাটি একটি অনলাইন পত্রিকা থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.