বুদ্ধিজীবীদের দুষলেন রুবাইয়াৎ

Rubaiyat
রুবাইয়াৎ

রুদ্র হক: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিতর্কিত ও প্রচার নিষিদ্ধ ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্রের পরিচালক রুবাইয়াৎ হোসেন চলচ্চিত্রটি পুনরায় মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে আশা ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি ছবিটি নিয়ে একটি ব্লগে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবাইয়াৎ এ আশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারটিতে রুবাইয়াৎ নিজের নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ ছাড়াও চলচ্চিত্র ও দেশের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে মিডিয়ার অজান্তে নিজের নতুন ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ ছবির শ্যুটিং করতে গিয়ে সম্প্রতি আবারও বিতর্কিত হন রুবাইয়াৎ। এ প্রসঙ্গে সাক্ষাকারটিতে রুবাইয়াৎ সরকারের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীদের এনে কাজ করানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। আর প্রচারের আগ পর্যন্ত শ্যুটিং করাকে তিনি ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু আমার নায়ক-নায়িকা না, আমার ইকুইপমেন্টও ইন্ডিয়া থেকে আসছে। সেটার জন্যও আমার পারমিশন আছে। আমার সাউন্ডের লোক ইন্ডিয়া থেকে আসছে, আমার ক্যামেরার লোক ইন্ডিয়া থেকে আসছে, আমার ডিওপি আমেরিকা থেকে আসছে। তো আমার ছবিতে প্রচুর লোক কাজ করছে যারা বাইরের। অবশ্যই আমরা অনুমতি নিয়েই এটা করছি। আর যদি এ ধরনের নিউজ আসে তো তারা না জেনে লিখছে। তাদের তো কোনো ভিত্তি নাই। এনাদার থিং আই ওয়ান্ট টু সে ইজ, শ্যুটিং ইজ এ প্রাইভেট ম্যাটার। হোয়েন ইউ টেইক দ্য ফিল্ম ইন দ্য থিয়েটার দ্যাটস এ পাবলিক ম্যাটার। সো হোয়েন আই শ্যুট মাই ফিল্ম, আই অ্যাম ক্রিয়েটিং মাই আর্ট। সো হোয়েন আই অ্যাম রাইটিং এ পোয়েম অর পেইন্টিং অর সামথিং, আই ওয়ান্ট টু বি এলোন।’

রুবাইয়াৎ হোসেন নির্মিত বিপুল বাজেটের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’ দেশে মুক্তি পাওয়ার পরও চলচ্চিত্রটি দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে অভিযোগ ওঠে। এ ইস্যুতে চলচ্চিত্রটির কঠোর সমালোচনা করেন দেশের বুদ্ধিজীবীরা। এক পর্যায়ে সরকার চলচ্চিত্রটির প্রচার নিষিদ্ধ করে।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে নিজের চলচ্চিত্রটি আবার মুক্তি দেয়ার ব্যাপারেও মুখ খোলেন তিনি। রুবাইয়াৎ বলেন, ‘এখন আমি মনে করি, আমি আশা করি, এটা আবার হলে চলবে। এখন না হোক, দুই বছর পরে হোক, তিন বছর পরে হোক, চলবে।’

সাক্ষাৎকারে দেশের বুদ্ধিজীবীদের আচরণ, সাধারণ মানুষের মতের ওপর তাদের অনাস্থার জন্য দেশের বুদ্ধিজীবীদের দোষ দেন রুবাইয়াৎ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রশংসা করে রুবাইয়াৎ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের যে নরমাল অডিয়েন্স, আমি এখন তাদের জন্য ফিল্ম বানাই। আর নরমাল অডিয়েন্সকে আমার মনে হয় তারা অনেক বেশি রিসেপটিভ, তারা অনেক বেশি ওপেন মাইন্ডেড এবং তারা অনেক বেশি … আসলে তাদেরকে আমরা যতটুকু স্মার্ট ভাবি তারা তার থেকে অনেক বেশি স্মার্ট। একটা ফিল্ম দেখে কিন্তু তারা বুঝতে পারে। আমি বলাকায় মেহেরজান দেখতে গিয়েছি, ওখানে রিকশাওয়ালারাও কিন্তু দেখতেছিল, তালি দিচ্ছিল। তো তারা কিন্তু কানেক্ট করছে। ওখানে নাচ গান কিছুই কিন্তু ফিল্মের মধ্যে নেই, ইংলিশ ডায়লগ, তাও তারা দেখছিল। সো আমার মনে হয় যে সাধারণ অডিয়েন্স দে টেইক এভরিথিং ভেরি নরম্যালি, দে আর ওপেন-মাইন্ডেড। তারা যে কোনো একটা আর্টকে বা ফিল্মকে নিতে পারে। ইন্টেলেকচুয়ালরা হচ্ছে সোসাইটিতে, মানে শুধু ইন্টেলেকচুয়ালরা না কালচারাল এলিট যারা একটা লেবেল করে দেয় যে, না, এটা ভালো এটা খারাপ এবং তখন, সাধারণ মানুষ তো ওপিনিয়ন ক্রিয়েট করে না, তারা ওপিনিয়ন ফলো করে। তো ওপিনিয়ন ক্রিয়েট করা হইছে তাদের জন্য যে ইটস এ ব্যাড মুভি, এটা একটা রাজাকার মুভি, ইফ ইউ গো অ্যান্ড সি, দেন ইউ ডোন্ট লাভ ইয়োর কান্ট্রি। দেন দে ফলো দ্যাট ওপিনিয়ন।’

 (লেখাটি অন্যমাধ্যম থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.