একটি নারীবাদী আড্ডার খবর

Simple life-Piash
ছবিটি প্রতীকী এবং সংগৃহীত

উইমেন চ্যাপ্টার: এটিও একটি আড্ডা ছিল। নারীরা এসেছিল, নারীরা হেসেছিল, নারীরা গান গেয়েছিল। কী গান?

‘আমি নারী, আমি অসাধারণ

আমি জেগেছি, ডানা মেলেছি, নেচে উঠেছি’

….. এটা ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশ বা উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি কর্মসূচির থিম সঙ। গান আরও গাওয়া হয়েছে, সবই সমবেত সঙ্গীত, গলা ছেড়ে, মন ছেড়ে গান। কবিতা পড়া হলো। তসলিমা নাসরিনের বিখ্যাত একটি কবিতা। শোনার পর মনে হলো, কথাগুলো এখানকার প্রতিটি নারীরই যেন কথা। আবহাওয়া বৈরী ছিল বলে অনেকেই আসতে পারেননি, কিন্তু গুটিকয়েকজনেই আড্ডাটা প্রাণ ফিরে পায়। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন, নি:শ্বাস ফেলার জন্য প্রতি মাসে অন্তত এমন একটি আড্ডার ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। শত ব্যস্ততার মাঝেও শুধুমাত্র নিজের জন্য একটু সময় বের করে নেওয়ার তাগিদই পারে এমন আড্ডার উদ্যোগকে সফল করতে।

২০১২ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু হয় ‘প্রাগ্রসর’ নামের একটি কর্মসূচির। মূল উদ্যোক্তা দীর্ঘদিন জেন্ডার নিয়ে কাজ করেন এমন একজন ফওজিয়া খোন্দকার ইভা। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির পুলিশ কর্মসূচির জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানালেন, প্রাগসর গড়ে তোলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীবাদী চিন্তা, চেতনা ও দর্শনকে সবার কাছে তুলে ধরা। ‘নারীবাদ’ নিয়ে যে ভ্রান্ত ধারণা, তা আমাদের ভাঙ্গার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ফেমিনিস্ট ট্রেনিং রিসোর্স সেন্টার হিসেবে পরিচিত করা, নারীদের জন্য একটি অভিন্ন প্লাটফর্ম গড়ে তোলা, দক্ষিণ এশিয়ার নারী আন্দোলনকে সহায়তা করা, বিশেষ করে সাংগাত এর কাজগুলো শক্তিশালী করা।

এপর্যন্ত ‘প্রাগ্রসর’ এর পক্ষ থেকে বেশ কটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সবই আড্ডাকেন্দ্রিক। এর মধ্যে কিছু আড্ডা আবার বিষয়ভিত্তিক ছিল। যেমন-

….নারীবাদ- বক্তা: দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী নেত্রী কমলা ভাসিন

….যৌনতা ও নারী- বক্তা: চলচ্চিত্র পরিচালক শামীম আখতার

….দুদেশের জেন্ডার প্রশিক্ষণ-১৫দিনব্যাপী

….উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি নিয়ে আলোচনা

৫ অক্টোবর শনিবারের বিষয়বস্তু নির্ধারিত ছিল না, শুধুমাত্র নারীবাদী আড্ডা নামে অভিহিত করা হয় একে। এতে ফওজিয়া খন্দোকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট নাহিদ সুলতানা, তাহমিনা হক (একশন এইড বাংলাদেশ), মঞ্জুন নাহার (এইচইকেএস বাংলাদেশ), নিগার সুলতানা (প্লান বাংলাদেশ), নুরুন্নাহার বেগম (একশন এইড বাংলাদেশ), অনন্যা শামসী (মানব প্রগতি সংঘ) এবং সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর।

….নানান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় আড্ডায়। বলা হয়, এই আড্ডাকে সচল রাখতে করণীয় কি? নি:শ্বাস ফেলার জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাটা এই মূহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে প্রতিমাসে অন্তত একটি আড্ডার আয়োজন করা হবে। প্রয়োজনে সবাই মিলে একসাথে ঢকার বাইরে বেড়াতে যাওয়া হবে, অগ্রণী নারীদের আড্ডায় নিমন্ত্রণ জানানো হবে, তারা এসে বলবেন তাদের আন্দোলনময় জীবনের কথা।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.