কর্মফল!

Saka 2
ছবি সংগৃহীত

তানিয়া মোর্শেদ: সাকা চৌধুরীর ফাঁসীর আদেশ হয়েছে! এখন অপেক্ষা এর কার্যকরণের। যত দ্রুত সম্ভব তা করা জরুরী। এই ব্যক্তির কার্যকলাপ যত জানা যাচ্ছে ততই মনে হচ্ছে যে, সে তো চট্টগ্রামের মাফিয়া সর্দার! আর সে শুধু নয় তার পরিবারের মানুষজনও তার মত দাম্ভিক! তার বিচারের রায় হবে শুনে কয়েকটি জনপদ পুরুষ শূণ্য হয়েছে! কতটা সন্ত্রাসী হলে এমন ঘটে! তার বাবা, ভাই, সে সন্ত্রাস দিয়ে মানুষকে দাবিয়ে রাখত, রাখে! এই ভয় দেখিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশে সে একবার নয় ছয় বার এম, পি হয়েছে! আদালতে তার আচরণ বদলায়নি! আর বিচারের রায়ের পর তার স্ত্রী, পুত্র, আইনজীবি কি দাম্ভিক ভাবে কথা বলে গেল! একটি পরিবার কি ভাবে ১৯৭১-এর আগে থেকে আজ পর্যন্ত সন্ত্রাস আর দাম্ভিকতা বজায় রেখে চলেছে!

কয়েক বৎসর আগে ফেইসবুকে সাকা চৌধুরীকে নিয়ে (পরোক্ষ ভাবে) তর্ক করেছি। আমাদেরই ক্যাম্পাসের এক ছেলে (ছোটবেলায় এক জায়গায় বেড়ে উঠেছি) সাকার নিকট আত্মীয়াকে বিয়ে করেছে। করতেই পারে। ছেলেটির বাবাও একজন যুদ্ধাপরাধী। রতনে রতন চেনে! কথা সেখানে নয়। বাবা-মা’র দায় পুত্র কেন নেবে যদি ভাবি, ছেলেটিকে আমি যুদ্ধাপরাধী ভাবছি না। তবে সে যে রাজাকার মনোভাবের তার প্রমাণ সাকার নিকটাত্মীয়াকে বিয়ে করা। রাজাকার বাবা-মা’র সন্তান রাজাকার মনোভাবাপন্ন নাও হতে পারে। যদিও বেশীর ভাগক্ষেত্রেই তারা বাবা-মা’র মতেরই হয়। ব্যতিক্রম হাতে গোণা যায় এবং তারা পরিক্ষিত মানুষ। এই ছেলেটি পরীক্ষায় ফেইল করেছে। সে জেনে শুনে সাকার পরিবারে যোগ দিয়েছে। হঠাৎ প্রেমে পরে আবিষ্কার হয়নি এই আত্মীয়তা। ঘটনাচক্রে এই দম্পতির সাথে একবার দেখা হয়েছিল বেশ অনেক বৎসর আগে। দু’জনেই অনেক ভদ্র। ব্যক্তিগত কোনো বিরুপ ধারণা নেই এই ছেলেটি সম্পর্কে। তার বোন আমার স্কুলের সহপাঠী ছিল। ফেইসবুকে আলোচনার বিষয় ছিল যে, এই ছেলেটি কেন আমার প্রগতিশীল বন্ধুদের বন্ধু লিস্টে আছে! না আমি কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা অধিকার নিয়ে কথা বলি না, বলিনি। আমি শুধু বিস্ময় প্রকাশ করেছিলাম।

ফেইসবুক আমার কাছে এমন একটা জায়গা যেখানে সব বিষয়ে সমমনা না হলেও একটা নূন্যতম চিন্তার মিল থাকা প্রয়োজন বন্ধু লিস্টে থাকবার জন্য। অন্যভাবে বলি, এই অযোগ্যতা আমার কাছে হচ্ছে, রাজাকারমনা হওয়া, ধর্মান্ধ হওয়া। এই অতি ভদ্র ছেলেটি এই পরীক্ষায় কী ভাবে পাশ করবে! এখন কেউ যদি বলেন যে সাকার আত্মীয়া কেন তার দাদা-চাচা-বাবার কর্মের ফল ভোগ করবে? আমি প্রশ্ন করি, এই ছেলেটি যেমন রাজাকারের পরিবারে বিয়ে করেছে মেয়েটিও তাই করেছে। মানে রাজাকার পরিবারে বিয়েতে অসুবিধা নেই! এবং এই সব রাজাকারদের পরিবারের কে কবে কোথায় ক্ষমা চেয়েছে? কে পরিবার ত্যাগ করেছে? (ব্যতিক্রম আলোচ্য নয় এখানে)।

তর্কের এক পর্যায়ে বুঝলাম যে আমার প্রগতিশীল বন্ধুরা (তর্কে অংশ নেওয়া) রাজাকার প্রশ্নে “জিরো টলারেন্স” নয় আমার মত। আর এই জিরো টলারেন্স না হবার জন্যই আজও সাকার মত রাজাকাররাই নয়, চুনোপুটিঁ রাজাকাররাও স্বগর্বে বিরাজ করে! কেউ কেউ বলেছে যে ছেলেটির স্ত্রী তাকে ত্যাগ করেছে  তিনটি বাচ্চা সহ। তার মধ্যে দু’টো না হলেও একটি অটিস্টিক বাচ্চা। ছেলেটি না কি বলেছে তার বাবার কর্ম দোষে তাদের পরিবারে শান্তি নেই। এত সহজ হিসাব! পৃথিবীতে যে লক্ষ লক্ষ বাবা-মা’র সন্তান অটিস্টিক তাদের পূর্ব পুরুষের কর্ম ফল তা?? স্বামী বা স্ত্রী ত্যাগ করেছে এমন সব মানুষদেরও পূর্ব পুরুষের কর্মফল? “কর্মফল” “কর্মফল” বলে যারা চীৎকার করেন তাদের একটি কড়া প্রশ্ন করি (ছোট হাজারো প্রশ্ন না করে) তিরিশ লক্ষ মানুষ কোন পূর্ব পুরুষের “কর্মফলে” অসহ্য অত্যাচারে শহীদ হয়েছেন?? চার লক্ষ ধর্ষিতা কোন পূর্ব পুরুষের কোন “কর্মফলে” দূঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন?? সেই ছেলেটির পরিবারে যে বিপর্যয় তার সাথে কর্মফলের কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনাচক্রে তার সন্তান অটিস্টিক, স্ত্রী ত্যাগ করেছে।

Tania Lopa
তানিয়া মোর্শেদ

অনেক হয়েছে রাজাকারদের জন্য মানবাধিকারের সাফাই আর নয়। আমাদের পূর্ব পুরুষদের ভুলের মাশুল অনেক দিয়েছি আর নয়। রাজাকাররা কিন্তু কোনো মানবাধিকারেই বিশ্বাসী নয়। ব্যতিক্রম বাদে রাজাকারের সন্তান রাজাকারই হয়। আর সে যে ব্যতিক্রম তা তাকে প্রমাণ করতে হবে, শুধু কথায় নয় কর্ম দিয়েই।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.