রায়ে কী হবে? ফাঁসি, নাকি যাবজ্জীবন?

SAKAউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: বিএনপি নেতা সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হচ্ছে আজ। রায়ে কী হবে তা জানতে গোটা জাতি অপেক্ষা করে আছে। প্রবাসীরাও পিছিয়ে নেই, রাত জেগে তারা প্রবল উৎকণ্ঠায় প্রতিটি মূহূর্ত পার করছে। চোখ রাখছে টিভি পর্দায়, অনলাইনগুলোর পাতায়। সবারই উৎকণ্ঠা, যদি সর্বোচ্চ শাস্তি না হয়, তবে এতোদিনের আন্দোলন ভেস্তে যাবে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বলেছেন, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার প্রতিটি অভিযোগই প্রমাণিত। কাজেই ফাঁসিই হবে তার একমাত্র শাস্তি। এই রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে আগেই ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ গতকাল রাত থেকেই শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ফাসিঁর দাবি জানায়। সকাল থেকেই সেখানে লোকসমাগম হতে শুরু করেছে। সবারই দাবি, একাত্তরে ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।

রায়কে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায়। শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতেই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে এটাই হবে এ ধরনের মামলায় প্রথম রায়। এর আগে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে জামায়াতের ছয় নেতার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছিল।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার সাকা চৌধুরীর রায়ের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। সাকা চৌধুরীর মামলায় রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। আর দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে এটি হবে সপ্তম রায়।এটি ট্রাইব্যুনালের অন্যতম আলোচিত মামলা

বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পাওয়া খবরে জানা গেছে, রায় ঘোষণা করতে শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সকাল দশটা ৪৩ মিনিটে সূচনা বক্তব্য দেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম ফজলে কবীর। তার এক মিনিটের বক্তব্য শেষ হলে মোট ১৭২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়া শুরু হয়। রায়ের প্রথম অংশ পড়ছেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক। দ্বিতীয় অংশ পড়বেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। সবশেষে মূল রায় ঘোষণা করবেন চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম ফজলে কবীর।

 হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২৩টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

 এটিএম ফজলে কবীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার রায়ের জন্য এই দিন ঠিক করে দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৪ অগাস্ট যুক্ততর্কের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

 ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর গত বছরের ৪ এপ্রিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের ৬টি রায়ে জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান ছয় নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাত্তরে রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার পর এ নিয়ে মামলাও হয়। এছাড়া ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। গাড়ি পুড়িয়ে যাত্রী হত্যার এক মামলায় ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর এ সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এরপর গত বছর এপ্রিলে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলে সাক্ষাগ্রহণ শুরু হয়।

এ মামলায় সালাউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি নিজেসহ মোট চারজন। অন্য তিনজন হলেন তার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু নিজাম আহমেদ, এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন চৌধুরী।

আর সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের মোট ৪১ জন সাক্ষী। আরো চারজন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.