সুন্দরবনের বিনিময়ে বিদ্যুত চাই না

long marchউইমেন চ্যাপ্টার: ‘সুন্দরবনকে ধংস করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই না’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনার রামপালের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো এগিয়ে চলেছে লংমার্চ কর্মসূচি। আজ বুধবার বৃষ্টিও বাদ সাধতে পারেনি আন্দোলনকারীদের। গতকাল রাতে মানিকগঞ্জ পৌঁছানোর পর বিশ্রাম শেষে আজ সকালে আবারও যাতা শুরু করে লংমার্চটি।

সরকার সুন্দরবনের অদূরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পর শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছিলো কিছু সামাজিক সচেতনতামূলক ও পরিবেশবাদী সংগঠন। পরবর্তীতে সভা-সমাবেশে কাজ না হলে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো একজোট হয়ে রামপাল অভিমুখে এই লংমার্চ কর্মসূচির আয়োজন করে।

গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রামপাল অভিমুখে লংমার্চটির যাত্রা শুরু হয়।

রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মোহাম্মদ বিবিসিকে বলেন, “রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে, যে দূরত্বে হচ্ছে এবং যেভাবে হচ্ছে, সেখানে পশুর নদী, সেখানকার জীব-বৈচিত্র্য, কৃষি জমি, বাতাস- সব কিছু মিলিয়ে সুন্দরবনকে রক্ষা করা যাবে না।”

আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে বলা হয়, তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধীতা করছেনা। বরং তারা সুন্দরবন রক্ষায় আন্দোলন করে যাচ্ছে।

এদিকে, প্যারিসে অবস্থিত ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার থেকে সরকারকে এই প্রকল্পে সুন্দরবনের ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বার্তা দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে সুন্দরবন।

সরকারের তরফ থেকেও এই প্রকল্পে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলছেন, “মিটিগেশনের জন্যে যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ঝুঁকি আছে এবং সেটা মনিটর করার বিষয় আছে।”

তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, “বায়ু দূষণ, পানি দূষণ- নানা ধরনের দূষণের বিষয় আছে। প্রতিটা বিষয়ে মিটিগেশনের বিষয়টি এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেগুলো আমরা ভেরিফাই করে দেখে ৫৯টি শর্ত দিয়েছি। এগুলো কিন্তু ছাড়পত্র না। এবং এগুলো বাস্তবায়ন না হলে আমরা ক্লিয়ারেন্স দেবো না।”

১৩২০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে সরকারকে বদ্ধপরিকর দেখা গেলেও এই আন্দোলনের ফলে সরকাকারকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবা উচিৎ বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম জানান, বর্তমানে লংমার্চটি গোয়ালন্দ বাজারে পথসভা শেষ করে রাজবাড়িতে অবস্থান করছে। সেখানে দুপুরে একটি জনসভা করা হবে বলেও জানান তিনি। এরপর দুপুরের খাবারের জন্য সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে আবার রওয়ানা হবে। আজ বিকেল নাগাদ লংমার্চটি ফরিদপুরে পৌঁছাবে বলে তিনি নিজের ফেসবুকে লিখেন।

পরিবেশবাদী আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত এবং লংমার্চে অংশগ্রহণকারী শিপ্রা বোস জানান, লংমার্চটি যাত্রাপথে পথসভা ও জনসভা করে দাবির পক্ষে জনমত গঠন করার চেষ্টা করছে। রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে কিভাবে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটিই বক্তারা তুলে ধরছেন।

এদিকে একজন আন্দোলনকারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, প্রয়োজনে প্রাণ দেবো, তবু সুন্দরবন ধ্বংস হতে দেবো না। প্রাকৃতিক দূর্যোগকালীন সময় মায়ের মতো আগলে রেখে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের রক্ষা করে। কিন্তু রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন সেই ভূমিকা পালন করতে পারবে না। বিদেশি কোম্পানির দখলদারদের কাছে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোনোভাবেই সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.