বিক্ষোভ না থামালে বেতন না দেয়ার হুমকি

garments protest উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ টানা চতুর্থ দিনের মত অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামাতে পোশাক কারখানা মালিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩৬০০ টাকা প্রস্তাব করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ আরও জোরদার করেছে।

শ্রমিকরা আন্দোলন না থামালে ঈদে বেতন ভাতা পরিশোধ না করার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছে মালিকরা।

পোশাক করখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এ মান্নান কচি বলেন, “বর্তমানে এ শিল্পে যে অস্থিরতা চলছে। তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের পক্ষে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।”

মঙ্গলবার বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একই সুরে কথা বলেন বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমানও। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ অস্থিরতা চলতে থাকলে ঈদের আগে মালিকদের পক্ষে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।”

তবে বিজিএমইএর তরফ থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের স্বার্থেই এই খাতে স্থিতিশীলতা দরকার। বেতন ভাতা বাড়াতে তাদের আন্তরিকতা রয়েছে।

এদিকে, চতুর্থ দিনেও রাজধানী ঢাকা ও তার আশেপাশে কয়েক হাজার শ্রমিক আজও সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর চালিয়েছে।

গতকাল বন্ধ করে দেয়া তিনশ করাখানার বেশ কয়েকটি আজও বন্ধ ছিলো। সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মিটিং হলেও বিষয়টির এখনও কোন সুরাহা হয়নি। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা করার দাবিতে অনড়।

আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে শ্রমিকরা কুড়িল মহাসড়ক অবরোধসহ আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে।

২০১০ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেড় হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা করা হয়।

রানা প্লাজা ধস ও তাজরিন ফ্যাশনসে আগুনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের দুর্দশার চিত্র ব্যাপকভাবে উঠে আসলে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ড মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠকে বসলেও এখন অবধি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.