ছেলেদের সাথেই সাঁতার শিখবে মেয়েটি!

2
Swimming

বুরকিনি পরে সাঁতার কাটছেন একজন

উইমেন চ্যাপ্টার: সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের পর এবার জার্মানিতে ‘বুরকিনি’ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। জার্মানিতে বসবাসকারী ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী মেয়েকে ছেলেদের সাথেই সাঁতার প্রশিক্ষণে যাওয়া উচিত বলে রায় দিয়েছে আদালত। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট আদালতের বিচারক বলেছেন, মেয়েটি চাইলে সাঁতারের পোশাক পরে তার ওপর ‘বুরকিনি’ (এক ধরনের বিশেষ পোশাক) চাপাতে পারে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুন্ন রাখতে। জার্মানির বেশকিছু মুসলিম মেয়ে এরকম পোশাক পরেই এখন সাঁতার ক্লাস করছে বলেই বিচারক উল্লেখ করেন।

ইসলাম ধর্মের রীতি-নীতির সাথে যায় না বলে স্কুলের সাঁতার ক্লাসে ছেলেদের সাথে পাঠাতে চাননি ওই মেয়ের বাবা-মা। অবশেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে তারা শরণাপন্ন হন আদালতের। মামলা করার পর দুবছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন একসাথেই ক্লাস করার রায় দিয়েছে দেশটির আদালত।

তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কিছু মুসলিম অভিভাবক। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বুরকিনি পোশাকটা আরামদায়ক না। তাছাড়া মুসলিম কোন মেয়ের জন্য কাছ থেকে কোন স্বল্প পোশাক পরা ছেলেদের দেখাও নিষিদ্ধ।

মরক্কো থেকে আসা ওই বাবা-মায়ের আইনজীবী বলেছেন, কুরআন শুধুমাত্র স্বল্পপোশাক পরা কাউকে দেখতেই নিষেধ করেনি, কোন মেয়েরই সাঁতারের পোশাক পরা ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকানো উচিত না।

আইনজীবী ক্লস মিজনার শুনানির আগে বলেন যে, কিছু ক্যাথলিক এলাকায় এরই মধ্যে আলাদা শারীরিক প্রশিক্ষণ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসংখ্য জার্মান জিমেও এখন ছেলে-মেয়েদের পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।Burkini

এদিকে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো আদালতের এই রায়কে ‘মাইলফলক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এই রায় ধর্ম এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চ সংবেদনশীল সম্পর্ককেই প্রকাশ করছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত এটাও বলে দিচ্ছে যে, মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতির চাইতে শিশু শিক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা প্রাধান্য বেশি।

দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এবং তার ম্যধমপন্থী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানির মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আলোচনায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি  এটাও বলেছেন, ৪০ লাখ জনগোষ্ঠীর অবশ্যই সবার একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করা এবং জার্মান ভাষা শেখা উচিত।

এদিকে পৃথক আরেকটি মামলায় সুইজারল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট স্কুলের ইউনিফর্মে ‘বুরকিনি’ প্রচলন নিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ওই পরিবারের মেয়েটিকে স্কুলে হিজাব বা বুরকিনি পরতে নিষেধ করা হয়েছিল।

ফ্রান্সের আদালত আরও একধাপ এগিয়ে সমস্ত রাষ্ট্রীয় স্কুলে সকল ধরনের ধর্মীয় পোশাক যেমন মুসলিম মেয়েদের মাথায় হিজাব, ইহুদিদের এক ধরনের বিশেষ টুপি এবং খ্রিস্টানদের ক্রস ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেছে। অনেক সুইমিং পুলেও বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

এতই যখন অসুবিধা তখন এসব দেশে এরা বাস করতে যায় কেন? মানুষের দেহ (পুরুষ কি নারী) একটি খাদ্য বস্তু (ভোগের) ভাবে যারা তারা সেই সব দেশেই বাস করুক যেখানে একই চিন্তাধারা চলে!

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.