বিয়ের রাতে আট বছরের শিশুর মৃত্যু

sisu nirrjatonউইমেন চ্যাপ্টার: ইয়েমেনে বিয়ের রাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে আট বছরের এক শিশু।

মঙ্গলবার জর্ডান ভিত্তিক আল-বাওয়াবা নামক এক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষ তার থেকে আট বছরের এক শিশুকে বিয়ে করে। বিয়ের রাতে জোরপূর্বক যৌনতার কারণে ব্যাপকভাবে আহত ও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে মারা যায় মেয়েটি।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই এই মৃত্যুর জন্য সেই স্বামীকে দায়ী করে তার গ্রেপ্তার দাবি করেছে।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সৌদি আরব সীমান্তের কাছে হার্দ নামকে পার্বত্য এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে জোরপূর্বক শিশু বিবাহের ঘটনাগুলোকে ব্যাপক আলোচনায় এনেছে।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনেফপিএ) এর তথ্যানুযায়ী, চারভাগের একভাগ ইয়েমেনী মেয়েদের ১৫ বছরের আগে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়। এতে শুধুমাত্র তারা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় শারীরিক বিকাশ বঞ্চিতই হয়না বরং বিয়ের পরে ব্যাপকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকারও হয়।

সংস্থাটির ধারণা, ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৪ কোটি মেয়ে এ ধরণের বাল্য বিবাহের শিকার হবে। যার মধ্যে পাঁচ কোটির বয়স ১৫ বছরের নিচে হবে বলেও আগাম বার্তা দেয়া হয় প্রতিবেদনটিতে।

বিশ্বব্যাপি শিশু এর সঙ্গায়ন না করাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দেশে দেশে নিজেদের মত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বয়স নির্ধারণ করা হওয়াতে এমন সমস্যা বেড়েই চলছে।

হিউমেন রাইটস কাউন্সিল (এইচআরসি) এর মতে, আঠার বছরকেই আইনত বিবাহের যোগ্য বয়স হিসেবে নির্ধারণ করা উচিত।

বাল্য বিবাহের ফলে মেয়েরা দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হয় বলেও উল্লেখ করে এইচআরসি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে ১৭ বছরকে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে ইয়েমেনে আইন হলেও তা পরবর্তীতে মৌলবাদীদের চাপে বিলুপ্ত করা হয়। মৌলবাদীরা আইনটিকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদও করে তখন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.