লেখার জন্যই ফিরেছিলেন সুস্মিতা

0

sushmitaউইমেন চ্যাপ্টার: জঙ্গিদের গুলিতে মারা যাওয়ার পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, সুস্মিতা একবার পালিয়ে এসেও কেন ফিরে গিয়েছিলেন সেই সমস্যা-কবলিত আফগানিস্তানে! এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে তাঁরই প্রকাশকের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, সুস্মিতার তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘কাবুলীওয়ালার বাঙালী বউ’ এর ওপর সিক্যুয়েল লিখতেই ফিরেছিলেন সেখানে।

প্রকাশকের মতে, সুস্মিতা ‘মোল্লা ওমর, তালিবান ও আমি’ এবং ‘এক বর্ণ মিথ্যে নয়’ নামের আরও দুটি উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু প্রথম উপন্যাসটির পাণ্ডুলিপিটাতে তিনি আরও কাজ করছিলেন। খুব সম্ভবত বইটির ধারাবাহিকতা আনতে চেয়েছিলেন সুস্মিতা।

সুস্মিতা ভাষা ও সাহিত্য এর স্বত্বাধিকারী স্বপন বিশ্বাসকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই বলে যে, তিনি আফগানিস্তান ফিরে যাবেন এবং তালেবান শাসনের পর দেশটিতে কি ধরনের পরিবর্তন এসেছে বা আসতে পারে সেই সামাজিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে তিনি লিখবেন।

স্বপন বিশ্বাস বলেন, সুস্মিতা বলেছিলেন তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে আবারও যোগাযোগ স্থাপন করেছেন এবং যখন যে অবস্থায় তিনি দেশটি ছেড়ে এসেছিলেন সেই জায়গাটি থেকেই আবার শুরু করতে চান তাঁর লেখা। প্রকাশক আরও বলেন, সুস্মিতার প্রথম উপন্যাস বেস্ট সেলার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি এই প্রস্তাবে উৎফুল্ল হয়েছিলেন। তবে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, সেখানকার অবস্থা নিরাপদ কিনা, ফিরে যাওয়ার যোগ্য কিনা! তখন সুস্মিতা তাকে নিশ্চিন্ত করেছিলেন এই বলে যে, পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেকটাই বদলে গেছে।

নব্বইয়ের দশকে সুস্মিতা প্রথম যখন যান আফগানিস্তানে, তিনি পাবলিক হেলথ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসক না হয়েও পড়াশোনা করে তিনি আফগান নারীদের ওষুধপত্র দিতেন তিনি। আর এটাই তালেবান গোষ্ঠীর নজরে এসেছিল। এসময় তিনি শ্বশুরবাড়ির কিছু সমস্যার সাথেও জড়িয়ে পড়েন এবং শেষপর্যন্ত পালিয়ে আসেন সেখান থেকে। পারিবারিক এই সমস্যা মিটে যাওয়ার পর সুস্মিতা আবারও তার আফগান স্বামী জানবাজ খানকে বলে-কয়ে রাজী করিয়ে সেখানে ফিরে যান। প্রকাশক জানান, প্রথম উপন্যাসটির সিক্যুয়েলই ছিল পারিবারিক এই সমস্যাগুলো নিয়ে। আর ছিল একটি ছোট মেয়ে-গুলগুটি। তাকে তিনি নিজের মেয়ের মতোন দেখতেন। সুস্মিতা তাঁর প্রকাশককে বলেছিলেন, উপন্যাসটির দ্বিতীয় অধ্যায়ের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে এই ছোট মেয়েটির গল্প।

এমনকি বইটির নাম চূড়ান্ত না হলেও মোটামুটি সিদ্ধান্ত ছিল যে, বইটির নাম হবে ‘কাবুলীওয়ালার বাঙালী বউ-আবার আফগানিস্তানে’। স্বপন বিশ্বাস লেখিকাকে বলেছিলেন, যেন তিনি তাঁর লেখায় তালেবান-পরবর্তী সময়ের আফগানিস্তানকে তুলে আনেন। খুব শিগগিরই তাঁর ভারতে ফিরে আসারও কথা ছিল, বিশেষ করে জানুয়ারিতে কলকাতা বইমেলার সময়।

সুস্মিতার প্রথম উপন্যাসটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল, এবং কয়েক লাখ টাকা তিনি রয়্যালটি পেয়েছিলেন। প্রকাশকের মতে, তাঁর নতুন এই উপন্যাসটি বের হলেও একইরকম তোলপাড় হতো বলে তার ধারণা। স্বপন বলেন, ‘এমন একটি কাজ হাতে নিয়ে তিনি সেখানে ফিরে গিয়েছিলেন, যার অংশ আমিও, এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে’।

কলকাতার মেয়ে সুস্মিতা (৪৯) আফগান ব্যবসায়ী জানবাজ খানকে বিয়ে করে ১৯৮৮ সালে সে দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের একটি গ্রামে স্বামীর সঙ্গে বাস করতেন। গত বুধবার গভীর রাতে একদল মুখোশ পরা ব্যক্তি ওই বাড়ি থেকে সুস্মিতাকে অপহরণ করে। পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নিয়ে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান দৌলত খান জাদরান নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, সুস্মিতার শরীরে ২৫টি গুলি করা হয়। কেন তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুস্মিতাকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী রাজীব শুক্লা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি আফগান সরকারের কাছে উত্থাপন করবে। এর প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.