জিএসপি ফেরত পেতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ

Garments Warkerউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি ফেরত পেতে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশের উন্নতির কোনও বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার সাংবাদিকদের জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ৩০টি বিশেষজ্ঞ টিম দেশের এক হাজার ৭৫০টি পোশাক কারখানার ভবনসহ সার্বিক নিরাপত্তার দিক যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে৷

এরই মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর মাস নাগাদ এসব কাজ দৃশ্যমান হবে৷

তবে এখনও তেমন কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে। দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বুধবার শিল্প মালিকদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের রক্তভেজা পোশাক কিনবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ এ সময় তিনি রানা প্লাজা ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরও কিছু পোশাক কারখানার দুর্ঘটনায় শ্রমিক হতাহতের জন্য লোভ, দুর্নীতি এবং অজ্ঞতাকেই দায়ী করেন।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, শ্রমিক নিরাপত্তা এবং কর্ম পরিবেশ উন্নয়নে পোশাক কারখানার মালিকরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাজ করেছেন৷ এরই মধ্যে ট্রেউ ইউনিয়ন আইন হয়েছে৷ শ্রমিদের বেতন বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ডও গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে কারখানার পরিবেশ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনও তারা সন্তোষজনক মান অর্জন করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল কারখানা ভবন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পরই তারা শ্রমিক নিরাপত্তা উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন৷

সিপিডি-র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে জন্য শিল্পের ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ, শ্রমিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিক অধিকার আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে৷

এ সময় তিনি মালিক ও প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, নিজেরা তৃপ্ত হলে হবে না৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট করতে হবে৷ আর এখানে ফাঁকির কোনো সুযোগ নেই৷

সাভারের রান প্লাজা ধসে শ্রমিক হতাহতের পর গত ২৮ জুন বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.