সংসার ভাঙছে কেন?

মনিরা সুলতানা পাপড়ি:

মিডিয়ায় কাজ করা কাপলদের ছাড়াছাড়ি বেশি হয় কারণ তাদের জীবনে অপশন অনেক বেশি এবং পারিবারিক জবাবদিহিতা কম। কারণ ক্যামেরার সামনে যখন খোলামেলা উপস্থিতি এবং কো-ওয়ার্কারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হয়, পরিবারে তখনই যা ঝড় হবার তা হয়ে যায় এবং জবাবদিহিতার ব্যাপারগুলোও খানিকটা শিথিল হয়ে যায়।

যাদের হয় না, তারাই টিকে থাকে।

সাধারণ মানুষের জীবনে এতো অপশন থাকে না। তাদের পারিবারিক জবাবদিহিতাও অনেক বেশি থাকে। না থাকলে
এখানেও সেইম ঘটনা ঘটতো। ঘটেও অনেক। সাধারণের ঘটনা তো আর সহজে মিডিয়ায় আসে না। লোকে জানেও না।
সাধারণ লোকের দ্বিগামিতা বা বহুগামিতা তো কম দেখিনি, ডমেস্টিক ভায়োলেন্স কিংবা পুরুষের উপর নারীর ডিক্টেটরশিপও কম দেখিনি। শুধু তারা সংসারটা ভাঙেনি। আসলে সাহস করেনি। অথচ তাদের সংসার বলতে সবই শোকেসে রাখা নব্বই দশকের ডিনারসেট, যার কোন কাজ নেই সাজিয়ে রাখা ছাড়া।

কেন তারা সংসার ভাঙে না? সংসার ভাঙতে আসলে সাহস লাগে। লোকজনকে জবাব দিতে হয়, পরিবারকে ফেইস করতে হয়, সন্তানদের ধিক্কার সইতে হয়। দায়িত্ব নিতে হয়। তিনবেলা আরাম করে খাওয়ার বিলাসিতা রিস্কে পড়ে যায়। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা একটা বড় ফ্যাক্টর এক্ষেত্রে, নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য হলেও বিশেষ করে নারীর। মোট কথা সমাজের ভয়ে সংসার ভাঙে না। টিকে থাকে পরকীয়া।

আমাদের সমাজে ছেলেরা দুটো কারণেই ঘর ভাঙে বলে দেখা যায়, পরনারী আসক্তি আর সন্তান উৎপাদনে অক্ষম স্ত্রী। কিন্তু নারীর ঘর ভাঙার পেছনে হাজারও কারণ ।স্বামীর যৌন অক্ষমতা, ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, বোঝাপড়ার অমিল, শ্বশুরবাড়ির অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ, মেয়েদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, স্বামীর বহুগামিতা ইত্যাদি।

কিন্তু কয়জন নারী সেই সত্য বাইরে আসতে দেয় বা দেয়ার ক্ষমতা রাখে? ছোটবেলা থেকেই কি নারীর সেই ‘সত্য প্রকাশের’ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয় না পুরুষতান্ত্রিক পরিবারগুলোতে?
সমাজ নামের মোড়ল তো আছেই।

এই সমাজ নামের খড়গটা যদি তাদের উপর না ঝুলতো, কত সংসার মুড়ি-মুড়কির মতো উড়ে যেতো! তাই আঙুল তোলা বন্ধ হোক।লোকের চরিত্র নিয়ে কথা বলা বন্ধ হোক। অন্যকে জাজ করা বন্ধ হোক। সুযোগ পেলে বা সুযোগ দিলে সবার চেহারা বেরিয়ে আসে। শুধু লাগে সুবিধাজনক অন্ধকারের আড়াল।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.