জাতীয় নারী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত

nariউইমেন চ্যাপ্টার: জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
‘সমঅধিকার ও বৈষম্যহীন ২০২১ সালের বাংলাদেশ : নারী উন্নয়নের মডেল’ নামে এ কর্মপরিকল্পনা কাজ করবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি শনিবার ঢাকার সোনারগাঁ হোটেলে এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব তারিকুল ইসলাম এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট।
প্রণীত কর্মপরিকল্পনায় নারী উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত কার্যক্রম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে সম্পন্ন করা হবে। অর্থাৎ দুই বছর, পাঁচ বছর ও নয় বছর মেয়াদে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন করা গেলে নারীর ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত হবে। এতে স্বল্পমেয়াদে নারী সংসদ সদস্যদের সুনির্দ্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পর্ষদে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচিতে নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক দলসমূহে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় নির্বাচনে ৫০ শতাংশ নারীর প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে। জেন্ডার সংক্রান্ত কোনো আইন প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ করার বিষয় এ কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফতোয়া সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রতি মন্ত্রণালয় গুরুত্ব আরোপ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সংশোধন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
এ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মেহের আফরোজ বলেন, সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এলোকেশন অব্ বিজনেসে নারী উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত এবং জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেটিং জোরদার করা হবে। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নারী উন্নয়ন বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হবে।
প্রতিটি মন্ত্রণালয় বিভাগে যুগ্মসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে নারী উন্নয়ন ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হবে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফোকাল পয়েন্টগণ নারী উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত প্রকল্প চিহ্নিত করবে এবং গৃহীত প্রকল্প, কর্মসূচি ও সেক্টরাল পলিসিতে জেন্ডার প্রেক্ষিত অন্তর্ভুক্ত করবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে তিন মাস অন্তর ফোকাল পয়েন্টদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.