শুভ জন্মদিন উইমেন চ্যাপ্টার

আমেনা বেগম ছোটন:

Happy Birthday, Women Chapter.

ওই দিনগুলির কথা মনে পড়ে, একেক দিন একেকটা লেখা আসতো। লাইক শেয়ারের সাথে একেকজনের গা জ্বলুনি পোস্ট। নারীবাদী আতংক সিরিয়াল কিলারের আতংকের মত অনলাইনে ছড়িয়ে গেল।
লোকজন লাল টিপ, তাঁতের শাড়ি পরা নন গ্ল্যামারাস, মধ্য ত্রিশের সেইসব সাধারণ নারীদের আতংকের চোখে দেখতে লাগলো। তাদের পরিণত চিন্তাভাবনার কথা শুনে ভ্যা ভ্যা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। বাংলাদেশের নারীরা বাংলা টাইপ করে দু কলম লিখতেই পারে না, গলা টিপে মেরে ফেলে ফ্যানে লটকে দেবার আগে সংসার ছাড়ে না – সেইখানে এইসব কী কথা?
এমনিতে বেটিদের কেউ কাজ দেয় না, দিলেও ঘরেবাইরে নানাভাবে অত্যাচার করে, এইসব নিয়ে গত ত্রিশ বছরে কেউ কথা বলে নাই। We are just trying to hang on the cliff, our priority was just to survive. Just to prove, we are worthy as much as other human!!!

ওয়েস্টার্ন #MeToo এর ধাক্কা বাংলাদেশে এসে লাগলো। দেখা গেল, কথায় কথায় রক্ষণশীলতার বুলি আউরানো, জুম্মায় শরীক হওয়া সেইসব ভদ্রলোকেরা পশ্চিমা চরিত্রহীন পলিগ্যামাস, নাইটক্লাবে নিত্যনতুন বেটি ধরা ব্যাডাদের চেয়ে বেশি খারাপ কেন না তারা কনসেন্টের ধার ধারে না। তারা নিজের সৎ মেয়ে ক্ষেত্রবিশেষে নিজের মেয়েকেও দিনের পর দিন সেক্সুয়ালি এবিউজ করে যাচ্ছে (অবশ্যই ষোল কোটির পার্সেন্টেজে তাদের সংখ্যা ০.০০০৩% ও না, ০.০০২% বাকি ব্যাটা রা অনাত্মীয় মহিলাদের উপর নিজেদের ব্যাটাজন্ম সার্থক করে)।
আর সব অত্যাচারের টাইপে না যাই, আসলে এইগুলার কোন জরিপ নাই। মাঝেমধ্যে প্রথম আলো লিখে বসে ৮৫% পুরুষ তাদের বউদের শারীরিক নির্যাতন করে – এইটার ভিত্তি কী আল্লাহ জানেন একমাত্র। দেশের ১০০% পুরুষ সানন্দে এই জরিপে অংশগ্রহণ করে ৮৫% সগৌরবে উনাদের কাজ কবুল করে নিয়েছেন – এটা কি অসম্ভব না?

আমি এইটাও বাংলাদেশের ফেমিনিজমের সাফল্য হিসেবে নেই যে অনেক ফেমিনিস্ট উইমেন চ্যাপ্টারের বিরোধিতা করেছেন এই বলে যে অমুক লেখাটা মরাল গ্রাউন্ডের ভিত্তিতে ভুল। আমি নিজেও মাঝেমধ্যে ঝাড়িপট্টি খাই, বিশ্বাস করেন – আমারও রাগ হয়, নিজেরও কলতলার বস্তির বেটিদের মত চিল্লাইতে মন চায়, সেইটা না পেরে তমুকরে ব্লক দিয়ে স্ক্রিনশট পাবলিকে দিয়ে তার গুষ্টি উদ্ধার করতে ইচ্ছা করে– কিন্তু এইটা স্বীকার করি যে যেইখানে আমার শোধরানো দরকার, সেইখানে আমার নিজেকে শোধরাতে না পারাটা কোন কাজের কথা না। যুগটাই আপগ্রেডের, ল্যান্ডফোন থেকে আইফোনের মত।

এখন প্রচুর পোর্টাল, পেইজ, ব্লগ, ব্যক্তিগত সেলিব্রেটি পোস্ট ইত্যাদি আছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ বা ব্যক্তি স্বাধীনতার যুগে সবসময় জোট বেঁধে থাকা মুশকিল, তাই মাঝেমধ্যেই আমরা মেয়েজোট এভেঞ্জার, বিটলসের মত কয়েক ভাগ হয়ে যাই – সেইটা বিষয় না।
বিষয় হলো We have been heard by most of people. You can hate us but you cannot ignore us.

উইমেন চ্যাপ্টারের উদ্দেশ্য সম্ভবতঃ এইটুকু ই ছিল। Supriti Dhar একজন খাঁটি সাংবাদিক, নারীবাদী কিন্তু বৈষয়িক, ধান্দাবাজ মানুষ নন। মুরিদকুল বানানোর আগ্রহও তার নাই। তাই উইমেন চ্যাপ্টারের রিচ কম, এক্টিভিটিও কম। আমি কয়দিন কামলা দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কাজটা আদতে সহজ না। সাংবাদিকতা নিয়ে অনার্স, মাস্টার্স কোর্স আছে, সেইটার ফান্ডিং যোগাড়ের ব্যাপার আছে। সেইটা আমি ফেসবুকে পোস্ট স্ক্রল করে শিখে ফেলবো – এইটা আশা করা বোকামি।

তবু আমি নিজেকে উইমেন চ্যাপ্টারের একজন পার্ট ভাবতে গর্বিত বোধ করি, কারণ আমি জানি উইমেন চ্যাপ্টারের উদ্দেশ্য ছিল নারী জাগরণ, অধিকার সচেতনতা তৈরি করা – সেটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, পদ্মাসেতুর মত নির্মাণ শেষে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফি সাবিলিল্লাহ বলে ছেড়ে দেয়া না।

The women chapter started a snowball rolling, you will see its effect if you take a closer look. And this will not stop.

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.