নারী দিবসে কতশত ভাবনা -২

শাহ্‌রীন শবনম মুমু:

(২)

৮ই মার্চের আমেজে ছেয়ে যাচ্ছে হোমপেজ, ছেয়ে যাচ্ছে শোরুমগুলো, একইভাবে ছেয়ে যাচ্ছে এই মন, মনের উঠোন।

সাদা, সবুজ আর বেগুনি হলো এই দিনের রঙ। সাদা শুদ্ধতার (পিউরিটি) প্রতীক, সবুজ আশা (হোপ), আর বেগুনি হলো ন্যায়বিচার আর মর্যাদার (জাসটিস এন্ড ডিগনিটি) প্রতীক। বেছে বেছে আমরা বেগুনি রংটাকেই এই দিনের জন্য বেছে নিতে চাই।

আমাদের যুদ্ধটা তাহলে কি ‘জাসটিস এন্ড ডিগনিটি’ কে ঘিরেই বেশি আবর্তিত? এই একটা দিনে সম্মান দেখানোতেই যদি ‘জাসটিস এন্ড ডিগনিটি’ এনশিওরড হতো, তাহলে তো হয়েই যেত!

গতকাল লিখেছিলাম, মেয়েদের বায়োলজিক্যাল ক্লক এবং ক্যারিয়ার ক্লক যে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী, সেটা নিয়ে। আর এর জন্যে আমরা অনেকেই যে ঝরে যাই, পিছিয়ে পড়ি!

আজকের লিখছি তাদের কথা, যারা একটু বেশিমাত্রায় স্বপ্নবাজ, সৃষ্টিশীল, মেধাবী, যাদের নিজের জগৎ তারা নিজেরা তৈরি করে নিতে চায়। তাদের নিজেদের কথা থাকে অনেক, বলার থাকে, দাবি থাকে, আলোচনা থাকে। সর্বোপরি তাদের নিজস্ব মতামত থাকে, টু বি ভেরি স্পেসিফিক।

এই যে নিজের একটা মত, সেটা প্রকাশের স্বাধীনতা, সেটা আসলে তারা কতটুকু পায়, বা এনজয় করতে পারে? পরিবারে? কাজের ক্ষেত্রে?

Opinionated (An opinionated person is certain about their beliefs, and expresses their ideas strongly) কিংবা Assertiveness (the quality of being confident and not frightened to say what you want or believe) যদি একটা মেয়ের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হয়, তার অবস্থা যে কী হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

মেয়েমানুষ, তার আবার এতো কথা, এতো ওপিনিওনের কী আছে, ব্যাপারটা কি অনেকটাই এরকম না?
মেয়েটা বা মেয়েরা যখনই এমন Opinionated, বা Assertiveness, ঠিক তখনই “মুখরা রমণী বশীকরণ” তত্ত্ব নিয়ে কি হাজির হয়ে যাবে না আমাদের প্রিয়জন বা পরিজনেরা?

ঘরে বলবে, মেয়েদের এতো কথা থাকতে নেই। মেয়েরা হবে অনুগত, বাধ্যগত। শুধু মেয়েরাই কেন? কেন দুপক্ষই একে অন্যের কথাকে শুনবে না, সম্মান দেখাবে না? পরিবারের ছেলেটার যেমন ইচ্ছে, অনিচ্ছে আছে, সেটা কিন্তু একই ভাবে পরিবারের মেয়েটারও আছে। একটা সুস্থ চর্চা দরকার। সুন্দর সমাধান দরকার, যেখানে মেয়েটার আরোপিত মনে হবে না, মনে হবে না জোর করে তাকে কিছু চাপিয়ে দেয়া হলো, বা তার কথাটা/দিকটা শোনা হলো না।

এবার বাইরের কথায় আসি।

আমি যা কিছু বলতে চাই আমার লেখায়, তার বেশির ভাগটাই এক্সপিরিয়েনশিয়াল।

আমার অভিজ্ঞতা বলে, কোন মেয়ে Opinionated, বা তার Assertiveness তাকে মসৃণ পথ দেয় না। ওই যে বললাম, “মুখরা রমণী বশীকরণ” তত্ত্ব! এরই অংশ হিসেবে তার সামনে দেয়া হয় অদ্ভুত সব চ্যালেঞ্জ। এমনভাবে গ্যাসলাইটিং (Gaslighting is the process of causing someone to doubt their own thoughts, beliefs and perceptions.) করা হয় তাকে, যেন একটা সময় তার নিজের মধ্যেই ডাউট তৈরি হয় নিজেকে নিয়ে। কিংবা তাকে ঠিকঠাক সাপোর্টটা দেয়া হয় না তার কাজের ক্ষেত্রে। দেয়া হয়না ডিসিশন মেকিং অথরিটি। আড়ালে, আবডালে বাজে কথা, বাজে ইংগিত তো পড়েই থাকল!

সফল নারীরা কি নেই আমাদের সমাজে? আছেন, অবশ্যই আছেন। তার সংখ্যা এখনও অপ্রতুল, নগণ্য।

সেদিন একটা প্রতিবেদনে দেখছিলাম, আমাদের RMG সেক্টরে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে ৬০% নারীকর্মী। দুঃখজনক হলেও সত্যি, লিডারশীপ পজিশনে নারীকর্মীর সংখ্যা মাত্র ১% (https://www.youtube.com/watch?v=oiQRBjEa54k)।
অনেক কারণ আছে পিছিয়ে থাকার, কিন্তু তার মধ্যে অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি, আমরা unheard, unsupported, unacknowledged.

এই মানসিকতার উত্তরণ ঘটুক।

শাহ্‌রীন শবনম মুমু
২রা মার্চ ২০২২

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.