ধর্ষণ নিয়ে কতিপয় মিথ ও বাস্তবতা

একটি বিদেশি ওয়েবসাইট অবলম্বনে ভাষান্তর করেছেন তানবীরা হোসেন

মিথ: মেয়েরা সাধারণত: রাতের অন্ধকারে অপরিচিত লোকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়; সুতরাং মেয়েদের রাতের অন্ধকারে একাকি বের হওয়া ঠিক নয়।

বাস্তবতা: মাত্র ১০% ধর্ষণ সম্পাদিত হয় অপিরিচিত লোকের মাধ্যমে। ৯০% ধর্ষণ ঘটে পরিচিত পুরুষের মাধ্যমে। সেই ৯০% পুরুষকে আবার মেয়েরা নিরাপদ মনে করতো, তাদের প্রিয়জন,বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী, গ্রাহক বা তাদের ভূতপূর্ব স্বামী বা প্রেমিক। এই ধর্ষণ ঘটে তার নিজের বাড়িতে, কাজের জায়গায় অথবা এমন কোনো জায়গায় যেখানে মেয়ে নিরাপদ বোধ করে।

মিথ: একমাত্র আকর্ষণীয়া, যুবতী ও যারা খুব ‘খোলামেলা’ পোশাক পরে তারাই শুধুমাত্র ধর্ষণের শিকার হয়।

বাস্তবতা: যে কোনো বয়সের,যে কোনো ধর্ম বর্ণের, যে কোনো সংস্কৃতির, যে কোনো সময়ে যে কেউ নিগৃহীত হতে পারে। ভিকটিমের পোশাকের সাথে ধর্ষণের কোনো সম্পর্ক নেই।

মিথ: যৌন সংসর্গের সময় মেয়েদের আচরণ থাকে বাধামূলক ও ‘না’ বোধক, আর এই ‘আপত্তি’ ও ‘না’-কে পুরুষের ‘হ্যাঁ’ ভাবাই উচিত।

বাস্তবতা: যে কারো যে কোনো সময় ‘না’ বলা তাদের মৌলিক অধিকার। এমনকি যৌনকর্মের যেকোনো পর্যায়ে ‘না’ মানে ‘না’। এই ‘না’ কে অবজ্ঞা মানেই ধর্ষণ।

মিথ: যদি দুজন ব্যাক্তি আগে পরস্পর মিলিত হয়ে থাকে, মানে হলো এরা দুজন সবসময়ই মিলিত হতে পারবে।

বাস্তবতা: আগে যা-ই হোক না কেনো, প্রতিবারই তাদের উভয়ের সম্মতি আবশ্যক। যে কোনো এক পক্ষের যে কোনো অসম্মতি মানেই ‘না’।

মিথ: অ্যালকোহল, ড্রাগ, মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন মানুষকে ধর্ষকে পরিণত করে।

বাস্তবতা: অ্যালকোহল বা ড্রাগ কখনোই কাউকে ধর্ষক বানায় না। এমনকি ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপও ধর্ষণের জন্য ফ্যাক্টর না। ধর্ষণের জন্য কোনো অজুহাত অগ্রহণযোগ্য।

মিথ: কোনো মেয়ে স্বেচ্ছায় প্রচুর অ্যালকোহল বা ড্রাগ সেবন করার পর ধর্ষণের শিকার হলে তার অভিযোগ করা ঠিক না।

বাস্তবতা: যেকোনো পর্যায়ে পার্টনারের সম্মতি আবশ্যক। সঙ্গী অ্যালকোহল বা ড্রাগের কারণে অচৈতন্য হলে তার সাথে মিলনকে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে।

মিথ: ধর্ষণের সময় কেবল শারীরিক বল প্রয়োগ ও ভিকটিম শারীরিক ক্ষত-বিক্ষত থাকবে্।

বাস্তবতা: ধর্ষণে যে শুধুমাত্র বহিরাঙ্গে দৃশ্যমান ইনজুরি থাকবে এমন নয়। অভ্যন্তরীণ ইনজুরি হতে পারে। কখনো ধর্ষক অস্ত্র বা অন্য কিছুর ভয় দেখিয়ে বিনা ইনজুরিতে মিলিত হতে পারে। ধর্ষক যদি ভিকটিমের নড়াচড়া না করার বা ঘুমন্ত থাকার,অচৈতন্য থাকার বা কথা না বলতে পারার সুযোগ নেয়, এ সবই ধর্ষণ।

মিথ: ছেলেরা একবার উত্তেজিত হলে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাকে করতেই হবে।

বাস্তবতা: পুরুষ চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ধর্ষণ যৌন তৃপ্তি নয়, সহিংস অপরাধ।

মিথ: অনেক নারী পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ আনে মিডিয়ার নজর কাড়ার জন্য।

বাস্তবতা: পৃথিবীতে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম সামাজিক কারণে পুলিশের কাছে যায় না আবার অনেক ক্ষেত্রেই আদালতে প্রমাণ জটিল হয়ে পড়ে।

মিথ: যে সমস্ত পুরুষ ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তারা বড় হয়ে নিজেরাই শিকারি হয়।

বাস্তবতা: এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ধর্ষকদের পক্ষে যে কোনো যুক্তিই অচল।

মিথ: পুরুষ কখনও ধর্ষণের শিকার হয় না বা মেয়েরা কখনও যৌন অপরাধ করে না।

বাস্তবতা: যদিও বিশাল সংখ্যক অপরাধ মেয়ে ও শিশুর বিরুদ্ধে করা হয়। সামান্য সংখ্যক পুরুষও নারী কর্তৃক যৌন নির্যাতিত হয়।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.