ব্রেস্ট আয়রনিং: মেয়েদের স্তন পুড়িয়ে দেয়ার এক পৈশাচিক প্রথা

সুমন্ত চ্যাটার্জী:

এক ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা। অল্প বয়সেই কোন মেয়ের স্তন গরম কিছু দিয়ে ইস্ত্রি করে দেয়া হয় যাতে করে সেটি বড় না হয়। যাতে করে তার ওপর পুরুষের নজর না পড়ে। এই প্রথাটি এসেছে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে। কিন্তু এখন এটি ছড়িয়ে পড়েছে ব্রিটেন-সহ ইউরোপের অনেক দেশে।

নিরাপত্তার কথা ভেবে মায়েরাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিশোরী মেয়েদের এ নির্যাতনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। এর পোশাকি নাম ব্রেস্ট বা চেস্ট আইরনিং। মায়েদের ধারণা, এর ফলে তার কন্যা-সন্তানরা পুরুষদের যৌন নির্যাতন থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারবে। ধর্ষিত হতে হবে না তাদের।

তবে মেয়েদের এক যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিতে গিয়ে যে আরো যন্ত্রণা এবং আরো বেশি ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেটা অবশ্য জানেন না তারা।

প্রথমে পাথরের টুকরা খুব গরম করে নেয়া হয় (পাথরের বদলে অনেকটা তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এমন যে কোনো ধাতব জিনিস দিয়েও এটা করা হয়ে থাকে)। তারপর সেই পাথরের টুকরাটি কিশোরীর ছাতির উপর রাখা হয়। ছাতির উপর সেই পাথরের টুকরা দিয়ে ম্যাসাজ করা হয়। পাথরের টুকরা ঠাণ্ডা হয়ে এলে ফের সেটা গরম করে একই পদ্ধতিতে ছাতি ম্যাসাজ করা হয়।

এভাবে বারবার গরম ছ্যাঁকা দিলে স্তনের কোষগুলো ভেঙে যায়। কোষের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। একজন কিশোরী উপর সপ্তাহে একবার বা দুইবার বা প্রয়োজন বুঝে তিনবারও এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।

মূলত আফ্রিকার ক্যামেরুনে এ প্রথার প্রথম প্রচলন হয়। ক্যামেরুনের পুরুষশাসিত সমাজ মনে করতো যে, মেয়েদের স্তনের বৃদ্ধি শুরু হওয়া মানেই তারা যৌন সম্পর্কস্থাপনের জন্য তৈরি। জোর করে বিয়েও দিয়ে দেয়া হতো তাদের। তা রুখতেই এমন একটি উপায় মাথায় আসে মায়েদের।

ক্যামেরুন থেকে ক্রমশ আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। আর এখন লন্ডনেও এর প্রমাণ মিলছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লন্ডন, ইর্কশায়ার, এসেক্স, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এর একাধিক জায়গায় কন্যা সন্তান ‘নাবালিকা’ হয়ে ওঠার আগেই তাকে ‘ব্রেস্ট আয়রনিং’-এর শিকার হতে হচ্ছে।

এ পদ্ধতি প্রবল যন্ত্রণাদায়ক। ফ্ল্যাট চেস্ট বানাতে গিয়ে এবং মেয়েদের যৌন নির্যাতন থেকে রুখতে গিয়ে আদতে সন্তানের ক্ষতিই করছেন মায়েরা, জানান মার্গারেট নামে এক সমাজকর্মী। এর ফলে স্তন্যপান করানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে মেয়েরা, সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার সম্পূর্ণভাবে এ প্রথা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তবে সমাজকর্মীদের দাবি, এখনো গোপনে এই প্রথার চল রয়েছে ব্রিটেনে।

ব্রিটিশ নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা কেম উইমেন অ্যান্ড গার্লস ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান মার্গারেট এনইয়ুদজিরার দেয়া তথ্য বলছে, ব্রিটেনে কমপক্ষে এক হাজার নারী ও শিশু গরম পাথরের এ আয়রনের শিকার হয়েছেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.