পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবি

Garment workerউইমেন চ্যাপ্টার: বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম, পাল্টেছে জীবনযাত্রা। এর সাথে সাযুজ্য রেখে ন্যুনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে পোশাক শ্রমিকদের সংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

বুধবার সকালে রাজধানীর মুক্তি ভবনে এক সভায় এই দাবি জানানো হয়।  এই দাবি আদায়ে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য গঠিত বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।

তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের পছন্দের ব্যক্তিকে মনোনীত করায় অবিশ্বাস ও সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সবক্ষেত্রে তাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

গত বছরের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনে শতাধিক এবং গত এপ্রিল মাসে সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানিতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে সাবেক জেলা জজ অমূল্য কুমার রায়কে প্রধান করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের বোর্ড গঠন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জলি তালুকদার বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাবে, একজন সাধারণ মানুষের দৈনিক ২ হাজার ৩০০ কিলো ক্যালরি শক্তি প্রয়োজন হয়। গার্মেন্ট শ্রমিকসহ কঠিন কায়িক শ্রমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রয়োজন হয় ৩ হাজার কিলোক্যা লরির।

পাশের দেশ ভারতের পোশাক শ্রমিকদের দৈনিক তিন হাজার ক্যালরির জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার রুপি নির্ধারণের দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “শরীর কর্মক্ষম রেখে পরের দিন কাজে অংশ নেওয়ার জন্য যে শ্রমশক্তি দরকার এবং যাতায়াত, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদির বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলতে গেলে ন্যূনতম মূল মজুরি আট হাজার টাকাতেও চলা কষ্টকর।”

দাবি আদায়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক নেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমিকদের এই মজুরি আন্দোলন পিছিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা সরকার এবং বিরোধী দল দুই পক্ষ থেকেই চলছে।”

সরকারও কারখানা মালিকদের দ্বারা ‘নিয়ন্ত্রিত’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা।

অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর মনে হয়েছিল গার্মেন্ট সংক্রান্ত নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হয়ত ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে ‘দ্বিধাগ্রস্ত’ না থেকে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য মালিকদের পরামর্শ দেন আনু মুহাম্মদ।

একই সঙ্গে দাবি আদায়ের জন্য ‘সংগঠিত’ শ্রমিক আন্দোলনের ওপরও জোর দেন তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.