সব দোষ যখন শাহরুখের!!!!

তানবীরা তালুকদার:

গত একুশ দিনের আলোচ্য আলোচনা শেষে কবি বুঝতে পারলো, আরিয়ানকে স্কুলে দেয়ার পর থেকে শাহরুখ খানের কাজ করা ঠিক হয় নাই। আরিয়ানকে প্রতিদিন স্কুলে আনা নেওয়া করা থেকে শুরু করে টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের খেলার মাঠে উঁকি দিয়ে দিয়ে দেখা দরকার ছিলো, ছেলে কার সাথে মিশছে, কার সাথে খেলছে। আরিয়ান বাসায় ফিরলে, তাকে খাওয়ানো, পড়ানো ইত্যাদিও শাহরুখের করা দরকার ছিলো। আসলে বাচ্চা জন্মের পর বাবা-মায়ের আর কাজ করাই ঠিক না।

যাই হোক, ছেলেমেয়ের বন্ধু বাবা-মায়ের ঠিক করে দেয়া দরকার। ছেলেমেয়ে বাবা-মায়ের সম্পত্তি, তারা কার সাথে কতটা বন্ধুত্ব করবে, বাইরে কার সাথে মাঠে খেলবে, টিভিতে কী দেখবে, কোন বিষয় পড়বে, সব বাবামায়ের এখতিয়ারে পড়ে, তাদের নিজেদের নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়, দিনরাত আরিয়ানকে গার্ড দেয়া প্রয়োজন ছিলো, একা ছেড়ে দেয়া ঠিক হয় নাই। ইউনি ভর্তি অন্য পোলাপাইনকে বাবা-মা কেমনে পাহারা দেয়, সেটা শাহরুখ শেখে নাই।

ওহ! গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তেইশ বছর বয়সী ছেলে হোয়াটসএপে কার সাথে চ্যাট করে, প্রতি রাতে শাহরুখের সেগুলো বসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়া অবশ্যই দরকার ছিলো।
যাদের ছেলেমেয়ে ড্রাগ খায় না তারা সবাই দিনরাত বাচ্চা কোলে করে বসে থাকে বলেই খায় না। অমিতাভের ছেলে খায় নাই, রাকেশের ছেলে খায় নাই, জ্যাকির ছেলে খায় নাই। শাহরুখ কোলে রাখে নাই, ব্যাস, আরিয়ান খেয়ে ফেলছে।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট, ছেলেকে এতো স্বাচ্ছন্দ্যে বড় করা ঠিক হয় নাই। পকেটে কোটি কোটি ডলার রেখেও শাহরুখের উচিৎ ছিলো ছেলেকে চোর বাজার কিংবা ক্রফোর্ড মার্কেটের জামা কাপড় পরানো, ডাল-রুটি খাওয়ানো তাহলেই ছেলে মানুষ হতো। আম্বানী, টাটা, রকফেলার কিংবা বিল গেটস তাই করে।
পকেটের টাকা খরচা করে ছেলেমেয়েকে খাওয়ালে হয় “নষ্ট করা”, না খাওয়ালে হয় “কিপ্টামি”, কই যাইতাম।
সুশান্ত রাজপুত সিং এর মৃত্যুর জন্যেও শাহরুখ দায়ী। অন্যের ছেলেকে যারা মেরে ফেলে নিজের ছেলের সাথে তাদের এইই হয়। কর্মফল, কর্মফল। কর্মফলের হিসাব অবশ্য আমি বুঝি নাই, সুশান্তকে শাহরুখ মারছে তাহলে শাহরুখ জেলে না গিয়ে আরিয়ান কেন জেলে? আরিয়ানতো কিছু করে নাই।
ঘটনা যাই হোক, সিদ্ধান্ত হলো, আরিয়ান জেলে যাওয়াতে নায়ক হিসেবে শাহরুখের সমস্ত পরিশ্রম, মানুষ হিসেবে সব অর্জন জলাঞ্জলি গেলো, নাক-কানতো কাটা গেছে সেটা বলাই বাহুল্য।

সিরিয়াসলি!!!!!!

যারা দিনরাত এই রায়গুলো নির্দ্বিধায় লিখতে থাকে, তাদের সংসার যেয়ে দেখে আসতে ইচ্ছে করে, কত “পার্ফেক্ট” তাদের জীবন। তারা রাতে কি কি দিয়ে ভাত খায়?
স্বামীর থেকে কম বিখ্যাত হওয়ার কারণে গৌরী অবশ্য কম ডলা খাচ্ছে, ডলা বেশীর ভাগ সময় মায়ের ওপর দিয়েই যায়। একটা এক্সেপশান। অবশ্য চার দেয়ালের ভেতরে কি হচ্ছে সেটাতো জানি না, শাহরুখ হয়ত গৌরীকে ধুচ্ছে, সন্তানের দায়িত্ব মায়ের, সারাক্ষণ সাজগোজ নিয়ে পরে ছিলে, সব তোমার দোষ। এছাড়া গৌরীর পরিবারও গৌরীকে ঝাড়বে, আছো তো খালি মেকাপ আর পার্টি নিয়ে, ছেলের খোঁজ নিছো?

যারা দিনরাত নিজের জাজমেন্ট দিতে ব্যস্ত তাদের যদি মনুষ্যত্ব থাকতো তাহলে শাহরুখের বুকের কাছে কান পেতে দেখতো,
কোন কষ্টে সে নিজেকে সব থেকে সরিয়ে ফেলেছে। হায় কপাল, তার এতদিনের অর্জনে আপনার মত কেউ জাজমেন্ট দেয়। বাস্তবতা হলো, শাহরুখ আজকে শাহরুখ হয়েছে বলেই আরিয়ানকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সরব। বাংলাদেশে ড্রাগের কেসে কত ছেলে আন্দর-বাহির খেলছে, আপনি কার খবর জানেন?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.