বিশ্বাস আর অবচেতন মনই আপনাকে পৌঁছে দেবে গন্তব্যে

ইসাবেল রোজ:

অনেকে জিজ্ঞাসা করে, আমি সিগারেট ছাড়তে চাই, কিন্তু পারি না। অনেকে বলে, আমি ওজন কমাতে চাই, কিন্তু কিছুদিন ডায়েট করার পর আর কন্টিনিউ করতে পারি না। সিগারেটের জন্য ক্রেভিং হয়, জাংক ফুডের জন্য ক্রেভিং হয়। অনেকেই বলে, ব্রেকাপের পর মুভ অন করতে চান, কিন্তু মুভ অন করতে পারছেন না। মনে হয় সেই পার্টনার ছাড়া জীবন অচল।

কিছুদিন আগে ক্রিকেটার নাসির এবং তামিমা তাম্মির কেইসের রায় পিবিআই দিয়েছে যে, “তাদের তালাক বৈধ ছিল না।” মেয়েটির প্রাক্তন স্বামী তাকে গ্রহণ করতে চায়। এতোকিছুর পরও সে বিশ্বাস করে যে তামিমা তার স্ত্রী এবং সন্তানের মা and she belongs to him. it could be his belief not necessarily the truth.
এটা ব্যক্তির বিশ্বাস হতে পারে, কিন্তু এটা বাস্তব নয়।

প্রশ্ন হলো এমন কেন হয়??
এমন হয়, কারণ আমাদের ব্রেইনে রিজনিং বা যুক্তি তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে। যেমন আমরা যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারি স্মোকিং ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। যুক্তি দিয়ে আমরা বুঝতে পারি শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে ওবিসিটিজনিত নানারকম রোগ শরীরের বাসা বাঁধতে পারে। আবার একজন পার্টনারকে ছেড়ে থাকা সম্ভব না সেটাও আমরা বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে নিজেদের বোঝানোর চেষ্টা করি।

আমাদের ব্রেইন যেকোনো তথ্য যুক্তি দিয়ে ফিল্টার করে প্রসেস করার ক্ষমতা রাখে।
সে কারণেই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নেই স্মোকিং কুইট করবো, ওজন কমিয়ে ফেলবো, কাল থেকে শরীরচর্চা করবো, নিজের জন্য সময় ব্যয় করবো, আগের রিলেশনশিপ আমার জন্য ক্ষতিকর ছিল, আমি মুভ অন করবো ইত্যাদি।
সমস্যা হয় যখন এসব সিদ্ধান্ত আমরা নেই তখন মোটিভেটেড হয়েও কিছুদিন পর সেই মনোবল থাকে না।

এখানে দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ-
১) বিশ্বাস বা belief
২) অবচেতন মন বা subconscious mind

বিশ্বাস: আমরা যা বিশ্বাস করি তা সত্যি হওয়াটা জরুরি নয়। আমি যদি বিশ্বাস করি আমার দুটি ডানা আছে সেটা শুধুই আমার বিশ্বাস। সেটার কোন সত্যতা নেই। তেমনি আপনি যখন বিশ্বাস করবেন আপনি স্মোকিং ছাড়তে পারবেন না, শুধু স্মোকিং কেন, প্রেমের ক্ষেত্রেও আমরা বিশ্বাস করি এই পার্টনার ছাড়া আমি বাঁচবো না। আসলে কি আপনাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে আপনারা মরে যান?

ঠিক তাই। আপনারা অনেকেই মুভ অন করে আরও সুন্দর করে বেঁচে থাকেন। অনেকে এই মুভ অন করতে পারেন না, কারণ আপনারা বিশ্বাস করেন সেই মানুষটা ছাড়া আপনার জীবন অচল।

অবচেতন মন সাবকনসাস মাইন্ড: আমাদের কনফ্লিক্ট শুরু হয় যখন আমাদের ব্রেইন রিজনিং করে ফিল্টার করে তথ্যগুলো প্রসেস করে ঠিকই, কিন্তু অবচেতন মনে আমরা সেই তথ্য প্রসেস করতে অক্ষম হই।
আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি ক্ষতিকর রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং বেরিয়ে এসেছেন। আপনার অবচেতন মন কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নয়। অবচেতন মনে স্মৃতি স্টোরড করা আছে। কিছু সুখকর, কিছু ক্ষতিকর। সেই তথ্যগুলো ব্রেইন যখন ফিল্টার করেছে আপনার সাবকনসাস মাইন্ড সেই ফিল্টার করা তথ্য সম্পর্কে অবহিত হয়নি।
এইজন্যই আপনি মুভ অন করতে পারছেন না, স্মোকিং কুইট করতে পারছেন না, ডায়েট কন্টিনিউ করতে পারছেন না।
আমাদের ব্রেইন এবং অবচেতন মন একই স্টেজে থাকতে হবে। যখন আপনি ব্রেইনের তথ্য অবচেতন মনকে পৌঁছে দিতে পারবেন তখন আপনাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আপনার ডিটারমিনেশন আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে।

এই অবচেতন মনের সাথে কমিউনিকেশন কীভাবে করবেন? এর জন্য প্রয়োজন রিল্যাক্সেশন। আপনি মেডিটেশন করতে পারেন, আপনি নিজেই হিপ্নোটাইজড হতে পারেন। নিজের অবচেতন মনে পৌঁছুতে হলে আপনাকে ট্রান্স স্টেজে যেতে হবে।
আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে আপনি স্মোকিং ছাড়তে পারবেন, ওজন কমাতে পারবেন, পার্টনার ছাড়া আপনার জীবন সুন্দর। এসব আপনি নিজেকে নিজে বলবেন। নিজেকে সময় দেয়ার সময় অবচেতন মনে নিজেকে কমান্ড দেবেন “আমি টক্সিক রিলেশন থেকে বেরিয়ে ভালো আছি, আমি স্মোকিং কুইট করে বেটার ফিল করছি, আমি ওজন কমিয়ে খুব হাল্কা বোধ করছি এবং এরকম বোধ সবসময় করতে চাই”।

যেকোনো গোল এচিভ করার জন্য এই রিল্যাক্সেশন খুব কাজে দেয়। রিল্যাক্সেশন শুরু হয় মাসল রিল্যাক্সিং থেকে। আপনি নিজেই আরামদায়ক চেয়ারে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মাসল রিল্যাক্স করতে থাকুন, বাইরের শব্দ ইগ্নোর করতে থাকুন, নিজেই ট্রান্স স্টেজে পৌঁছে যেতে পারবেন। অবচেতন মনকে নিজেই সিদ্ধান্তগুলো জানিয়ে দিতে পারবেন। এভাবে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে আপনি নিজেকে বেনিফিটেড করতে পারেন।

শেয়ার করুন:
  • 53
  •  
  •  
  •  
  •  
    53
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.