পরীমণি এবং তার মধ্যমা প্রদর্শিত ‘বেয়াদবি’

দিলশানা পারুল:

পরীমণি সবচেয় ভালো যে কাজটা করছে তাহলো প্রতিনিয়ত সে একটা অস্বস্তি ক্রিয়েট করছে। সমাজ এবং রাষ্ট্রে উভয় জায়গাতেই। আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা যেমন বুঝতে পারছিলো না একে কীভাবে ডিল করবে, মধ্যবিত্ত বাঙালী পুরুষও বুঝতেই পারছে না পরীমণিকে কেমনে রিড করবে! পরিস্থিতিটা খুবই হাস্যকর এবং নারীদের জন্য খুবই ইনজয়এবল।

পরীমণির প্রথম সমস্যা সে বেশি সুন্দর। এখন বেশি সুন্দর মেয়েদের প্রতি সমাজের অলিখিত ধরাবাঁধা নিয়ম এবং প্রত্যাশা থাকে, মানে সুন্দরী নারীদের এইরকম এইরকম হইতে হয়! সুন্দরী মানে যৌন আবেদনময়ী মেয়েদের সমাজের চোখে খারাপ হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। খারাপ মেয়ে হইলেও সমস্যা নাই যতক্ষণ পর্যন্ত খারাপ মেয়ে সমাজের বেঁধে দেয়া তরিকায় খারাপ হবে, ক্ষমতাবানের ইচ্ছায় খেলবে ততক্ষণ পর্যন্ত। কিন্তু যেই মুহূর্তে একটা ‘খারাপ’ মেয়ে সমাজের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী এক্ট করবে না, নিজস্ব তরিকায় খেলবে, সাথে সাথে সেই ‘খারাপ’ মেয়েকে ক্র্যাশ করার জন্য সমাজ তার সমস্ত নৈতিকতার হাতিয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
পরীমণির যৌন আবেদন যতদিন পর্যন্ত ভোগের নিমিত্তে ছিল ততদিন পর্যন্ত কোথাও কারো সমস্যা হয়নি। কেউ এ নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেনি। কিন্তু যেই না সে তার যৌন আবেদনকে হেডমে কনভার্ট করে ফেলছে, মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী আর তো খেতে পারছে না।

বড়ই হাইস্যকর পরিস্থিতি!

একটা শব্দ আপনারা সবাই আওড়াচ্ছেন পরীমণি স্ট্যাবলিশমেন্ট এর পার্ট। এই শব্দটা শুনে আমার খুবই হাসি পাচ্ছে। আপনার কি মনে হয় পরীমণির হাতে যে মেহেদি দিয়ে আঁকা মিডল ফিংগার, ওইটা কার উদ্দেশ্যে? রিকশাওয়ালা মামা না মধ্যবিত্ত ব্যাংক কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে? সে স্ট্যাবলিশমেন্ট এর পার্ট হয়ে স্ট্যাবলিসমেন্ট এর সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুরুষগুলারে মিডল ফিংগার দেখাই দিলো, আর আমি মধ্যবিত্ত নারী তাতে খুশি হবো না?

অনেকে পরীমণির উম্মুক্ত ঠ্যাঙ প্রদর্শন এবং বিড়ি খাওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন নাই। কিন্তু আপনাদের হিপোক্রেসিটা দেখেন। একজনের উম্মুক্ত বক্ষ দেখানো গর্বের বিষয়, ঠিক আছে, কিন্তু আরেকজনের উম্মুক্ত ঠ্যাং দেখানোই বিরাট লজ্জার বিষয়। কী তাজ্জব, সিক্স প্যাক করতে বলে বিরাট কষ্ট, ডেডিকেশন লাগে, কিন্তু পরীমণির মতো ওই রকম সৌন্দর্যমণ্ডিত ঠ্যাঙ করতে এবং শরীর বানাতে কোন কষ্ট বা ডেডিকেশন লাগে না, আপনাদের তাই মনে হয়? কী হাস্যকর! আমাদের মতোন ভেতো আপামনি যারা আছে, তাদের জিজ্ঞেস করে দেখেন। পরীমণির বাহ্যিক যে সৌন্দর্য ওর ২০ ভাগের এক ভাগ বানাইতেই কী পরিমাণে ডেডিকেশন লাগে!

উম্মুক্ত ঠ্যাং, ওপেন সিগারেট আর হাতে ‘অশ্লীল’ বাক্য মেহেদি দিয়ে লিখে আসলে পরীমণি কী করছে ? পরীমণি যেটা করছে সেইটাকে সরল ভাষায় বলে ‘বেয়াদবি’। ও খুব সরল ভাষায় সমাজের ক্ষমতাবান একট অংশের সাথে বেয়াদবি করছে এবং সেটা খুব সচতেনভাবে। সমাজের কোন অংশের সাথে? ক্ষমতাবান একটা অংশ যারা চরম পুরুষতান্ত্রিক এবং যারা ব্যাটাগিরির হ্যাডম দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে পরীমণিকে তিনবার রিমান্ডে নিয়েছে, জেলের ভাত খাইয়েছে। পরীমণি তাদের উদ্দেশ্যে চরম ঔদ্ধত্যের সাথে একের পর এক মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে। সরল ভাষায় যা অর্থ দাঁড়ায় “পারলে ঠ্যাকা”।

এখন আপনারা খ্যাপতেছেন কেন জানেন? যারা সচেতন বা অবচেতনভাবে সমাজের এই চরম ব্যাটাগিরির পুরুষতন্ত্রকে ওওন করে, যারা মনে করছে পরীমণি এই বেয়াদবিটা তাদের সাথেও করছে কারণ তারও পৌরুষ আছে, পুরুষমাত্রই যারা ভাবেন আমি এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের পিতার ভূমিকায় আছি এবং সকল কন্যাশিশুকে শাসন করার জন্মগত পৈতৃক অধিকার আপনাদের আছে, তারাই ব্যাপক খ্যাপা খ্যাপতেছেন পরীমণির এই বেয়াদবি নিয়া!

এখন আপনাদের কী মনে হয়? পরীমণির এই বেয়াদবির কি দরকার নাই সমাজে? পরীমণি মধ্যবিত্ত নারী হইলে তার এই বেয়াদবিরে উস্কানি দিতাম না। কারণ মধ্যবিত্ত নারীর হাতে বারগেইন পাওয়ার কম থাকায় বা না থাকায়, এই ধরনের বেয়াদবির যে কোলেটারাল ড্যামেজ সেইটা মধ্যবিত্ত মেয়ে সামাল দিতে পারবে না। কিন্তু পরীমণি এই কোলেটারাল ড্যামেইজের সাথে এই মুহূর্তে পাঞ্জা লড়ছে!

থ্রি চিয়ার্স ফর হার হেডম!

শেয়ার করুন:
  • 1.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.5K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.