ডোন্ট লাভ মি বিচ – এই বিচ কারা?

সারওয়ার-ই আলম:

তীক্ষ্ণ মেধার তেজী, বুদ্ধিমতী নারী পরীমণি। কী শাণিত তাঁর প্রতিবাদের ভাষা— ডোন্ট লাভ মি বিচ।

ব্যস এটুকুই! একেবারে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত! ভীষণ জ্বালাময়ী! যেন বক্ষভেদী অব্যর্থ তীর! তাঁর এই বক্তব্যে গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে অনেকেরই। বিচ কাদের কে বলেছেন তিনি তা ফেসবুকে এক চক্কর দিয়ে আসলেই টের পাওয়া যায়। সুশীলের লেবাসধারী অসংখ্য বিচের সাক্ষাত মিলে যায়। এরা একেকজন জাঁদরেল সেলিব্রেটি। এরা তথাকথিত জাতির বিবেক। এরা মুখোশধারী সুশীল। এদের সমস্যা পরীমণির পোষাকে। এদের সমস্যা পরীমণির মদ খাওয়ায়। এদের সমস্যা পরীমণির কোটি টাকার গাড়ীতে চড়ায়। এদের সমস্যা পরীমণির মধ্যরাতে বাড়ীর বাহিরে যাওয়ায়। এদের সমস্যা পরীমণির প্রতিবাদের ভাষায়। এমনকি এদের সমস্যা পরীমণির প্রেম ও প্রণয়েও। বোধকরি এ কারণেই বিবিসি বাংলাকে পরীমণি বলেছেন, “ বিচের সংখ্যা তো অনেক লম্বা, নির্দিষ্ট করে কীভাবে বলবো?”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবাদী এই লড়াকু নারী জানিয়েছেন, তিনি তাদেরকেই বিচ বলেছেন যারা বিচারের নামে তাঁর ওপর প্রহসন চালিয়েছে। যাদের নেপথ্য কলকাঠিতে দিনের পর দিন তাকে আদালত-কারাগারে টানাহ্যাঁচড়া করা হয়েছে। যারা ক্ষমতার দৌরাত্ম্য দেখানোর জন্য একের পর এক রিমান্ডের নামে তাঁর ওপর নিপীড়ন চালাতে প্রশাসনকে যতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব তাই করেছে। যারা সাংবাদিকতার নামে তাঁর শয়নকক্ষ সরাসরি সম্প্রচার করেছে। যারা অনুমতি ছাড়া তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিডিও ফাঁস করেছে। যারা তাঁর কোটি টাকার গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসী জীবন নিয়ে মুখরোচক কল্পকাহিনী রটিয়েছে।

আসলে সিনা টান টান করা নারী আমাদের বড়ই অপছন্দ। আমরা পছন্দ করি পশুপাখীর মতো বশ মেনে থাকা নারী। উঠতে বললে উঠবে, বসতে বললে বসবে। নিজেরা মদ খেয়ে বেড়াবো, কিন্তু পরীমণিরা মদ খেলেই আমাদের যত আপত্তি। তাঁর মদের লাইসেন্স আছে কিনা, থাকলে কত আউন্স খাওয়ার অনুমোদন আছে ইত্যাদি বিষয়ে ফেসবুকে ঝড় তুলতে আমরা বড়ই ওস্তাদ। নিজেরা নষ্টামী করে বেড়াবো, কিন্তু ভীত সন্ত্রস্ত একজন নারী নাইটড্রেস পরে লাইভে আসলে, তাঁর ক্লিভেজ দেখা গেলেই আমাদের যত আপত্তি।

এ এক অদ্ভূত সমাজ তৈরি করেছি আমরা পুরুষেরা। পুরুষেরা বলতে তাদেরকে বুঝাচ্ছি যাদের কাছে রয়েছে সমাজ পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব। এরা হলেন সমাজপতি। এসব সমাজপতিরা নির্ধারণ করে দেন নারীর স্বাধীনতার সীমানা। সেই সীমানার প্রাচীর ভাঙ্গতে সাহস দেখিয়েছেন একজন পরীমণি। তাঁর দোষগুণের বিচার করার দায়িত্ব একমাত্র আদালতের। সাহসের জন্য এই লড়াকু নারীর প্রতি শ্রদ্ধা।

পরীমণির ‘বিচ’ শব্দে তথাকথিত সুশীলদের অনেকেরই ঘোরতর আপত্তি। এসব সুশীলরা একটিবারের জন্য কেন ভাবছেন না— অন্যায় যেখানে সীমাহীন প্রতিবাদের ভাষা সেখানে লাগাম তো হারাবেই।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী কবি ও সাংবাদিক

শেয়ার করুন:
  • 412
  •  
  •  
  •  
  •  
    412
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.