সাংবাদিক সুরক্ষায় বিল আসছে

Newspaper pixউইমেন চ্যাপ্টার: সংসদ অধিবেশনে সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে আলোচনা হুবহু প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে একটি বেসরকারি বিল উঠছে জাতীয় সংসদে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ১৯তম সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হবে। গত বৃহস্পতিবার বিলটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, জাতীয় সংসদের কার্যবাহের রিপোর্ট (প্রকাশনা ও সম্প্রচার) বিল, ২০১৩ নামে বেসরকারি এ বিলটি উত্থাপন করবেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সংসদের ১৯তম অধিবেশন। ১৯ সেপ্টেম্বর বিলটি তিনি অধিবেশনে উত্থাপন করবেন। বিল অনুসারে সংসদে আলোচনাগুলো পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা তার সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা করা যাবে না। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু যথাযথভাবে তুলে না ধরে জনস্বার্থ বিরোধী কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংসদ অধিবেশনের প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতেই এ বিলটি উত্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একটি ইস্যুতে সাবেক স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিতর্ক এবং তা নিয়ে অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর সাংবাদিকরা সংসদের ওই আলোচনা যথাযথভাবে তুলে ধরবেন কী না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। যদিও সব মিডিয়ায় তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তি চাইলে ওই  প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে পারতেন।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আদালত নিয়ে কথা বলার সুরক্ষা রয়েছে সংসদ সদস্যদের। এ কারণে তারা আদালতের কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংসদ অধিবেশনে কথা বললেও আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হন না। তবে সাংবাদিকদের জন্য এ ভয় থেকে যায়। ফলে ওই ধরনের আলোচনা প্রকাশের ক্ষেত্রে মামলা বা আদালত অবমাননার ভয়ে দ্বিধায় থাকে মিডিয়া। এই বিলটি পাস হলে সংসদ অধিবেশনে আদালত বা অন্য যেকোন বিষয়ে হুবহু সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরাও সংসদ সদস্যদের মতো সুরক্ষা পাবেন বলে তিনি জানান।

 বিলের ৩ ধারায় সংসদের কার্যবাহের প্রতিবেদন প্রকাশের অধিকারের ক্ষেত্রে উপধারা ১ এ বলা হয়েছে, সংসদের কার্যবাহের যথার্থ ও বাস্তব রিপোর্ট, পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না, যদি না এই মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, তা বিদ্বেষপূর্ণ ছিলো।

 উপধারা ২ এ বলা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রচার করা হয়নি এমন কোনো রিপোর্ট প্রকাশ ও সম্প্রচার উপধারা ১ এর আওতাধীন হিসাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

 বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ধারা ৩ এর বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যথার্থ, বাস্তব বা জনস্বার্থ বিরোধী কোন রিপোর্ট পত্রিকায় বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ করলে তিনি এই আইনের অধীনে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং তিনি অনুর্ধ্ব দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ দেশের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদে দেশে বিরাজমান জাতীয় সমস্যাগুলো আলোচনা হয়ে থাকে। তাছাড়া কোনো নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে আলোচনা হয়ে থাকে। সংসদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় কী কী বিষয় আলোচনা হচ্ছে সে ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য সংসদে আলোচনার বিষয়গুলো হুবহু পত্রিকায় বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.