পরীমণিকে বরং ফাঁসি দিয়ে দিন আপনারা!!!

সাদী আয়াত:

বাংলাদেশে কারও বাসায় বিদেশি মদের বোতল রাখা ভয়াবহ ক্রাইম? এ যাবতকালে যত সিনেমা নাটক দেখেছি, বড়লোকের বাসার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস, সেটা দিয়ে ভিআইপি গেস্টদের আপ্যায়ন করতে দেখেছি।
আমার জানামতে সরকারি অনুমতি নিয়ে বার, যৌনপল্লী সব চলতেছে।
অলিখিতভাবে ভাওয়াল উদ্যান, জিয়া উদ্যানে রমরমা দেহব্যবসা চলতেছে, যেখানে সরকারি অভিযানের কোন খবর আসে নাই, শুনি নাই আমি। রাতের ঢাকায় প্রতিটা ফ্লাইওভার এর ওপর-নিচেও চলছে।

দেশি মদ রাখলে র‍্যাব সেইভাবে ভ্যালু দেয় না মনে হয়। সেজন্যে যাকেই গ্রেফতার বা তাদের হেফাজতে নিচ্ছে, তাদের বাসায় বিপুল পরিমাণ ‘বিদেশি’ মদ পাচ্ছে। কথা হচ্ছে, এসব বিদেশি মদ কি হেঁটে হেঁটে বাসায় চলে এসেছে? আমি তো প্রায়ই গণমাধ্যমে দেখি দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে দিনে দিনে। যেদিকেই যাও চেকপোস্ট পুলিশের। তো, এতো এতো পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মদগুলো তাদের বাসায় আসলো কী করে? সেই প্রশ্ন আসছে না, কারণ, তাতে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা যে ভয়াবহ খারাপ, দুর্নীতিবাজদের দখলে, তাও তো গণমাধ্যম মারফতে আমরা জানছিই কদিন পর পর।

র‍্যাব যদি বাংলাদেশে মাদকের শুদ্ধি অভিযানে নেমে থাকে তবে স্যালুট তাদের। কিন্তু গুটিকয় নায়িকা এবং মডেলদের বাসায়ই কেন? সবার বাসায় বাসায় হোক অভিযান। আরেকটা বিষয় খেয়াল করলাম যে নায়িকা যত সুন্দর তার বাসায় তত দামী মদ।
আমি একটা সময় ভাবতাম, যারা সিগারেট খায় তারা ভয়াবহ খারাপ লোক, মন্দলোক, তাদের আশপাশে গেলেও ঘেন্না লাগতো।
এর প্রধান কারণ ছিলো, আমি স্মোক করতাম না, সেজন্যই আমার ভাবনাটা এমন একপেশে ছিল।

এবার আসি পরীমনি প্রসঙ্গে। খুবই সুন্দরী একজন নায়িকা। সে দুবাই ভ্রমণে যায়, সেখানে গিয়ে খোলামেলা ছবি দেয় ফেসবুকে, দিতেই পারে। সে একজন নায়িকা, তার পেশা এটাই। সে তো আর বোরকা পরে ছবি দিবে না যা তার পেশার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আমি এটাকে অপরাধ বলতে পারি না।
সে কাউকে খুন করে নাই, লুটতরাজ করে নাই, স্কুল-কলেজে ভর্তি বাণিজ্য করে নাই, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম করে নাই, গরিবের হক মারে নাই।
ভিকারুননিসা স্কুলের প্রধানের মতো বালিশের নিচে পিস্তল রাখে নাই, দলীয় পরিচয় দিয়ে মাস্তানি করে নাই, নোংরা গালিগালাজও করে নাই, বিরোধী দলকে দমন করে নাই, গণতন্ত্রের নামে পরিবার তন্ত্র চালু করে নাই, একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় নাই।

পরীমনি তাহলে কী করেছেন?

১. প্রতিবছর কোরবানি ঈদে ছয়-সাতটা গরু কোরবানি দেন এফডিসির দুস্থ শিল্পীদের জন্যে (আমাদের ভাবনায় আসে, এতো টাকা আসে কোথা থেকে)। এটা ভয়াবহ অপরাধ!

২. কোন সংগঠনের সাথে সেভাবে জড়িত নেই যারা তাকে শেল্টার দিবে। এটা ভয়াবহ অপরাধ।

৩. তিনি চিত্রনায়িকা, তার গানে কোটি কোটি ভিউ, তিনি একজন ভয়াবহ অপরাধী।

৪. তিনি দুবাই ঘুরতে যান, ফটোশুট করেন, তিনি অপরাধী।

৫. তিনি তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করেন নাই, কাজেই ভয়াবহ অপরাধী।

৬. থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিতে চায়নি থানা। তিনি তা লাইভে এসে বলে দিয়েছেন, এজন্য একজন ভয়াবহ অপরাধী।

৭. একজন শিল্পপতির নামে রেপ এবং হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলা লড়বেন বলে জানিয়েছেন, কাজেই তিনি একজন ভয়াবহ অপরাধী।

৮. তার নিরাপত্তাহীনতার ইস্যু নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়, এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এটা তার অপরাধ।

৯. আনভীর সোবহানের মতোন শিল্পপতি না যে মুনিয়া সুইসাইড মামলা থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন সম্মানের সাথে। পরীমনি অপরাধের অন্ত নেই।

১০. লাজলজ্জা, ক্যারিয়ার ভুলে লাইভে এসে তার প্রতি অন্যায়ের বিচার চান, নো মিনস নো, পিংক মুভির মতোন। তিনি ভয়াবহ অপরাধী।

১১. প্রধানমন্ত্রীর মতো তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়েন না। পিয়াসাদের গ্রেফতারের পরও মদের মিনিবার নিজের বাসা থেকে যে না সরায়, সে অবশ্যই ভয়াবহ অপরাধী।

১২. সাগর-রুনীদের মতো সাংবাদিককে খুন না করে ফেসবুকে খোলামেলা ছবি দেয়, সে অপরাধী।

১৩. তিনি বিয়ে করে ডিভোর্স দেন, মানবিক বিয়ে করেন না, সুতরাং অপরাধী।

১৪. করোনা ভাইরাস এর ভ্যাক্সিন যাতে জনগণ না নেয়, তা তিনি লাইভে এসে নসিহত করেন না, উপরন্তু প্রীতিলতার লুক টেস্ট দেন, ভয়াবহ অপরাধী।

১৫. যে দেশে লাইসেন্স নিয়ে মদ পান করা লিগ্যাল, সেখানে তার বাসায় মদের বার, ক্লাবে যান, সবার ওপরে তিনি নারী,  কাজেই বেশ্যা। সমাজে নারীই কেবল বেশ্যা হয়। পুরুষরা ধোয়া তুলসীপাতা। তিনি একজন ভয়াবহ অপরাধী।

১৫. বোট ক্লাব কাণ্ডে বার বার তিনি স্যার বেনজির আহমেদের নাম নিয়েছেন লাইভে, এটাও অপরাধী।

হে হিপোক্রেট মানুষজন, নিজের বুকে হাত রেখে বলুন, পরীর বাসায় কি মদের বার আগে ছিলো না? কই তখন তো কেউ কোন আওয়াজ দেয়নি! আজ সে যখন মজলুম, তখন তাকে দমিয়ে দেওয়ার জন্যে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত।

নায়িকার আবার সম্মান কীসের? সাংবাদিক ভাইয়েরা,  নিউজ করেই কিন্তু আপনাদের ঘরের হাঁড়ি বসে, কিন্তু এরকম হলুদ সাংবাদিকতা কেবল যার বিরুদ্ধে করছেন তাদের জীবনই ছারখার করে না, ভবিষ্যতে আপনার জীবনেও এর কুপ্রভাব পড়তে বাধ্য। ভুল তথ্য দিয়ে অন্যের সম্মানহানি করলে আখেরে নিজের সম্মানও থাকে না। বিপদে আমরা যে কেউ পড়বো, আজকে একজনের বিপদে ট্রল করে, হাজার হাজার ভিউ কামিয়ে টাকা পয়সা আয় না করে সবাই সবার প্রতি সম্মান রাখি। দেশে আইন আছে, আদালতের রায়ের জন্যে অপেক্ষা করুন।

বাহ্ দেশ অনেক এগিয়েছে যে দেশে আইনের শাসন আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ হয় তখনই যখন কাউকে দমিয়ে দিতে হয়। এছাড়া তো আইন নীরব।
আমি পরীর ভক্ত না, কিন্তু তাকে যেভাবে থামানো হচ্ছে,তা সবার জন্যেই হুমকির মতো, একটা অন্যায় ঢাকতে গিয়ে আরেকটা অন্যায় প্রশ্রয় দেওয়াও আরেকটা অন্যায়।

যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে একজন পরীমনির বিরুদ্ধে তাতে প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ আমরা সাধারণ মানুষজন। বলি কী, লেখক তসলিমা নাসরিনের মতো দেশ থেকে বিতাড়িত না করে পরীমনিকে বরং ফাঁসিই দিয়ে দেওয়া হোক। দেশহীন মানুষ এর অনেক যন্ত্রণা।
অতি দ্রুত পরীমণির ফাঁসি চাই, বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ, দাগী অপরাধী এই পরীমনির ফাঁসির দাবি এখন সময়ের দাবি, প্রয়োজনে গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বাঙালী জাতিকে। ধিক্কার জানাই এসবের বিরুদ্ধে।

লেখক: প্রবাসী, দোহা, কাতার।

শেয়ার করুন:
  • 1K
  •  
  •  
  •  
  •  
    1K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.