আফগানিস্তানে নারী অধিকার আইন পাশে বাধা

আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী রাজনীতিকরা নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে আনা আইন নিয়ে সংসদে বিতর্ক বন্ধ করে দিয়েছেন।

নারীদের সুরক্ষা বিষয়ক আইনের সংসদীয় অনুমোদন নিয়ে আলোচনা বিক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে।

সনাতনপন্থী রাজনীতিকরা নারীদের অধিকার সংক্রান্ত এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে বিতর্ক শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করলে সংসদের স্পিকার আলোচনা বন্ধ করে দেন।

চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সংসদীয় অনুমতি ছাড়াই এই আইন চালু করেন।

এই আইনে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা , বাল্যবিবাহ এবং বিয়েতে বাধ্য করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

“আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টরা নারীর অধিকার বিষয়ে কতটা প্রতিশ্রতিবদ্ধ তা নিয়ে আশ্বাসের অভাব রয়েছে – বিশেষ করে এই ডিক্রির ব্যাপারেও।”

ফৌজিয়া কুফি, এম পি

২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ারভুক্ত এক ডিক্রির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কারজাই এই আইন চালু করেন।

সংসদ সদস্যদের অনুমোদন ছাড়াই প্রণীত বর্তমান এই আইনে ইতিমধ্যেই শত শত লোক সাজা পেয়েছে।

এই আইনের সংসদীয় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নারী আন্দোলনকারীরা দ্বিধাবিভক্ত।

কেউ কেউ বলছেন এই আইন নিয়ে সংসদে বিতর্ক তোলার সুযোগ দিলে সেটা রক্ষণশীলদের এই আইন সংশোধনের পথ খুলে দেবে এবং এর ফলে নারী সুরক্ষার আইনটি দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা বলছেন আইনটি তারা বিতর্কের মাধ্যমে প্রত্যাখানেরও সুযোগ পাবেন।

এই প্রক্রিয়ার বিরোধী প্রথম সারির একজন এমপি ফারখুন্দা যাহ্‌রা নাদেরি বিবিসিকে বলেছেন সংসদে যা হয়েছে তা তাঁর আশঙ্কাকেই প্রমাণিত করেছে।

কাবুল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা ডেভিড লয়েন জানিয়েছেন বিতর্কের সময় মোল্লা ও ইসলামপন্থী রাজনীতিকরা মিঃ কারজাইয়ের বিরুদ্ধে ইসলামী শারিয়া আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনেন।

নারী আন্দোলনকারীনারীর ওপর সহিংসতা বন্ধের দাবিতে তরুণ নারী আন্দোলনকারী (ফাইল চিত্র)

তারা এই আইনে এমন সংশোধন আনার দাবি করছেন যাতে পুরুষের বিরুদ্ধে বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না।

শীর্ষস্থানীয় একজন মহিলা এমপি ফৌজিয়া কুফি যিনি এই আইনের সংসদীয় অনুমোদনের পক্ষে তিনি বলেছেন এই আইনের পেছনে সংসদের সমর্থন থাকা জরুরি, না হলে এই আইন সময়ে দুর্বল হয়ে পড়বে।

দুবছর আগে তালেবানের হামলার শিকার এই এম পি বলছেন আফগান নেতারা তালেবান আন্দোলন দমন করতে গিয়ে অনেক সময়ই অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়ে থাকেন। তাই এই আইন সংসদে পাশ করিয়ে নেওয়া জরুরি।

”আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টরা নারীর অধিকার বিষয়ে কতটা প্রতিশ্রতিবদ্ধ তা নিয়ে আশ্বাসের অভাব রয়েছে – বিশেষ করে এই ডিক্রির ব্যাপারেও।” বিতর্কের আগে বিবিসিকে বলেন মিস কুফি।

নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোও প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করে বলেছেন নারী অধিকার নিয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর অবস্থান বদলান।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন এই ডিক্রি অনুমোদনের পদ্ধতি নিয়ে আরো আলাপ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এই আইন বলবৎ থাকবে।

আফগানিস্তানে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ স্বত্ত্বেও বাল্যবিবাহ সেখানে সাধারণ ঘটনা এবং নারী নির্যাতনেরও নানা ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.