নর্থ আমেরিকায় বাঙালি গৃহিণীদের সবুজ বিপ্লব

আসলাম আহমাদ খান:

বিপ্লব কথাটির সাথে আমরা সকলেই কম-বেশি পরিচিত। শব্দটি শুনলেই রক্তাক্ত কোন অধ্যায়ের চিত্রকল্প আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে আজকের এ লিখায় ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ বা রক্তাক্ত কোন অধ্যায়ের ধারাবর্ণনা নেই; আছে মাঠের সবুজ ঘাস আর সোনালি ফসলের সাথে মানুষের মিতালীর গল্প। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির কল্যাণে সনাতনী কৃষি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাথে সাথে কৃষিকাজের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে- তার বর্ণনা। যেটাকে কৃষি উন্নয়নের সাথে জড়িত বিজ্ঞানী এবং পেশাজীবীরা সবুজ বিপ্লব বলে অভিহিত করেছেন।

সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয় ১৯৪৪ সালে, মেক্সিকোয়। মূলত উচ্চ ফলনশীল গম জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ বিপ্লবের যাত্রা শুরু। ১৯৪৩ সালে মেক্সিকো যেখানে তার প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক শস্য বিদেশ থেকে আমদানি করত, সেখানে সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের মধ্যেই ওই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। নোবেল বিজয়ী মার্কিন কৃষিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী নরম্যান আর্নেস্ট বোরলগকে বলা হয় সবুজ বিপ্লবের জনক। এখানে বিপ্লব শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে দ্রুত পরিবর্তন অর্থে। এ পরিবর্তন এসেছে প্রচলিত পদ্ধতির চাষাবাদ থেকে অধিক উৎপাদনক্ষম নতুন প্রযুক্তির চাষাবাদে রূপান্তরের মাধ্যমে। এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে নিরবে-নিভৃতে, যার মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য মানুষের ক্ষুধা নিবারণ হচ্ছে। সবুজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে উৎপাদিত শস্যের কাঁচা রং হিসেবে। শস্য যৌবনপ্রাপ্ত হলে এর নান্দনিক সবুজ রং প্রকাশ পায়। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শস্য উৎপাদনের যে দ্রুত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তাকে সর্বদাই যৌবনদীপ্ত রাখার জন্য বিপ্লবের সাথে সবুজ শব্দটিকে একিভূত করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালের ৮ই মার্চ ইউসএইড (USAID)-এর পরিচালক উইলয়াম, এস. গাউড একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় দ্রুত ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলকে ‘সবুজ বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো সহিংস লাল বিপ্লব নয়, কিংবা ইরানের শাহ অনুসৃত সাদা বিপ্লবও নয়। আমি ফসলের মাঠের বিপ্লবকে সবুজ বিপ্লব বলে চিহ্নিত করছি।’ এরপর থেকেই ‘সবুজ বিপ্লব’ শব্দটি কৃষি উন্নয়নের সাথে জড়িত বিজ্ঞানী এবং পেশাজীবীদের মুখে উচ্চারিত হয়ে আসছে।

ইন্ডিয়ান পরিব্রাজকরা আদি আমেরিকানদের চাষাবাদ শেখালেও পঞ্চাশের দশকের পূর্বে কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মার্কিনীদের ছিলো না। পরবর্তীতে ম্যাক্সিকো মডেল অনুসরণ করে আমেরিকার কৃষি অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সবুজ বিপ্লবের প্রভাবে এশিয়ার দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ শস্য উৎপাদনে যে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করেছে।

ফিরে আসছি নর্থ আমেরিকায় বসবাসকারী বাঙালি পরিবারগুলো প্রসঙ্গে, যাদের অন্তরের গভীর অন্তস্থলে সঞ্চিত আছে কৃষির প্রতি ভালোবাসা।

বাংলার বিদূষী নারী খনা বলেছিলেন—
“সেচ দিয়ে করে চাষ।
তার সবজি বার মাস ॥”

বার মাস না হলেও সামারের তিন-চার মাস প্রতিটি বাঙালি বাড়ি সেজেছে মাতৃভূমির চিরচেনা রূপে। একেকটি বাড়ি যেন একখণ্ড রূপসী বাংলা। বাড়িতে বাড়িতে ফুল ও দেশীয় সবজি বাগানের উৎসব চলছে। ঘরে ঘরে যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হতে চলেছে তা বাঙালী অধ্যুষিত এলাকার গ্রোসারিগুলোতে পা দিলেও বোঝা যায়। কোন কোন দোকানে নিয়মিত শাকসবজির পরিবর্তে বিক্রিতে প্রাধান্য পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী সবজির চারা, দেখে মনে হবে যেন গ্রোসারি বা ডেলি নয়- কোন নার্সারির শোরুম।

শুধু কি বাঙালি গ্রোসারি? গায়ানিজ, জ্যামাইকান গ্রোসারি থেকে শুরু করে সুপারশপ ওয়ালমার্ট, হোম ডিপোর্ট, গার্ডেন ওয়ার্ল্ডসহ বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতেও মৌসুমী সবজি ও ফুল ফলের চারা বিক্রির উৎসব চলছে। অনলাইন শপ আমাজন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে চলছে নার্সারি সামগ্রী বিক্রির জমজমাট ব্যবসা। নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকাতে রাস্তার পাশে মেলার মতো পসরা সাজিয়ে বসেছে ক্ষুদ্র নার্সারি ব্যবসায়ীরা। বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ। নতুন এক মৌসুমী ব্যবসার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি বীজ আসছে বাংলাদেশ থেকে। নিউ ইয়র্কের লংআইল্যান্ডে এবং নিউ জার্সির বিভিন্ন স্থানে গ্রিনহাউজ তৈরি করে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। অন্যান্য স্টেটগুলোতেও একই অবস্থা। অবশ্য ট্রপিক্যাল আবহাওয়ার স্টেটগুলি চাষাবাদে ভৌগোলিক উপাদানের সুবিধা একটু বেশি পাচ্ছে। তারা সবজির পাশাপাশি মৌসুমী ফল আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু থেকে শুরু করে বরই, তেঁতুল, আমলকি পর্যন্ত ফলাচ্ছেন। তাতে কী,  শীত প্রধান স্টেটের বাসিন্দারাও বসে নেই। তারাও নিজস্ব কায়দায় ফলানোর চেষ্টা করছেন। নিউইয়র্কের এক বাঙালী বোনকে চিনি, যিনি সুগন্ধি লেবু ফলান। দিনে দিনে অনেক ডালপালা গজানো গাছ গ্রীষ্মকালে বাইরে রাখেন, শীতকালে রাখেন উনার লিভিংরুমে। এ গাছই উনার ঘরের শোভা।

শুধু কি তাই? অনলাইনে পারস্পরিক সহায়তা, কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য ও উপদেশ বিনিময়ের জন্য তৈরি হয়েছে ‘নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী গার্ডেনার্স ক্লাব’ নামে বিশাল এক প্লাটফর্ম, যেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি চলছে কৃষি শিক্ষা কার্যক্রম। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক থেকে শুরু করে উচ্চতর ডিগ্রীধারী বিশেষজ্ঞরা পরামর্শও দিচ্ছেন। ক্লাবের সদস্যরা অনলাইনে শুধু নিজ নিজ উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনই করছেন না, বিনিময়ও করছেন। বিনিময় হচ্ছে গাছের চারা ও বীজ। নতুন কৃষিকাজে নেমে কেউ উচ্ছ্বসিত, আবার কেউবা মর্মাহত।

কেউ কাতর কণ্ঠে চাচ্ছেন পরামর্শ, জানতে চাচ্ছেন কেন গাছের প্রত্যাশিত বিকাশ হচ্ছে না? পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কী উপায় ? কেউ অভিযোগ করছেন- এতো কষ্ট করে নিজের বেবির মতো যত্ন করে চারাগুলোকে বড় করেছি- এখন কাঠবিড়ালী খেয়ে ফেলছে! খুঁজছেন কাঠবিড়ালী, খরগোশ কিংবা পোকার আক্রমণ থেকে নিজ বাগান রক্ষার কৌশল। যথাযথ পরাপর্শও পাচ্ছেন। কোন দোকানে কি ধরণের কৃষি উপকরণ পাওয়া যাবে- সে জাতীয় তথ্যের আদান-প্রদান হচ্ছে প্রতিদিন। কেউবা আবার স্ব-উদ্ভাবিত পন্থা শেয়ার করছেন। প্রতিটি বাড়ির ব্যাকইয়ার্ড এখন এক একটি কৃষি খামার। যার নিজস্ব ব্যাকইয়ার্ড নেই , তাদের বাড়ির ফ্রন্টইয়ার্ডেই চলছে সবুজ বিপ্লব। যাদের ব্যাকইয়ার্ড- ফ্রন্টইয়ার্ড কোনটাই নেই, অর্থাৎ যারা এপার্টমেন্ট বিল্ডিংএ থাকেন, তারা জানালার পাশে টব লাগিয়ে শরিক হয়েছেন চাষাবাদে। একজন তো প্লাস্টিকের বোল ও এলোমেনিয়াম ফয়েল পেপারের ট্রেয়ের মধ্যেই সাফল্যের সাথে সবজি ফলিয়েছেন। লাউ, কুমড়া, আলু, পটল, টমেটো, বেগুন, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনিয়া, সরিষা, করলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, শিম, বরবটি, ধুন্ধল, ঢেঁড়স, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটাশাক, লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, মূলা,তরমুজ, ক্ষিরা, শসা, পাটশাক থেকে শুরু করে তুলসী, পুদিনা, লেটুস সবই আছে। আমেরিকান, ক্যারেবিয়ান, চাইনিজ, ম্যাকক্সিকান শবজি ও ফলমূলও আছে। কোন দোকানে সস্তায় মাটি বিক্রি হচ্ছে, কোথায় কুন্তি-কোদাল পাওয়া যাচ্ছে- সব পাওয়া যাচ্ছে ঐ ক্লাবের ওয়েবসাইটে। সবুজ বিপ্লবে যুক্ত হয়েছে বাঙালি আমেরিকানদের সন্তানেরাও। নতুন প্রজন্ম অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মা-বাবাকে পরামর্শ দিচ্ছে। ইউটিউবে ভিডিও দেখে কৃষি তথ্য সংগ্রহ করে মা-বাবাকে সহায়তা করছে।

বলা বাহুল্য, এ সমস্ত আয়োজনের অগ্রসরমান তালিকায় রয়েছেন প্রবাসী কৃষাণীরা। ওয়াশিংটন থেকে কাজী স্বপন লিখেছেন, ‘আমার বউয়ের মাধ্যমে নর্থ আমেরিকান গার্ডেনার ক্লাবটির সন্ধান পেয়ে, আমিও ভর্তি হয়ে গেলাম। অনেক বিজ্ঞ বাগানীও আছেন। বুদ্ধি, পরামর্শ, বীজ, চারা সবই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। দুষ্প্রাপ্য ফল,হাতের তৈরি মজাদার খাবার পর্যন্ত চলে যাচ্ছে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে। এ যেন একটি ছোটখাট রাষ্ট্র হয়ে গেছে। পড়াশুনা, শিক্ষাদীক্ষাও চলছে। সে এক এলাহী কাণ্ড। যে নারী জীবনে কোনদিন কোদাল, ছেনিতে মাটি নিড়ানো তো দূরের কথা, কখনও হাত দিয়ে ফসলি মাটি স্পর্শ করেছেন কিনা সন্দেহ, তাঁরা এখন পুরোই বাগানী। সামারে তিন মাস ঘরের কাজের পাশাপাশি ফুল সবজি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। তাদের অন্তরে মননে বাজবে ফুল আর সবজির সানাই। সার, মাটি, চারার জন্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করছেন। সন্তান পোষার মতো বাগানের চারাগাছ পোষছেন। আর বেচারা স্বামীদের বউয়ের বাগানের উপকরণ সাপ্লাই দিতে দিতে জীবন কেরোসিন। গাছের চারা ঠিক আছে কিনা সে চিন্তায় গভীর রাতে কারও কারও ঘুম ভেঙে যাচ্ছে’।

লেখকের সাথে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন নিউইয়র্কের কৃষাণী মনিরা আকন্জি। রুটিন মাফিক সকাল বিকাল বাগানে পানি দেন। গাছের পরিচর্যা করতে করতে চেহারা পরিবর্তন করে ফেলেছেন, কিন্তু মুখে তৃপ্তির হাসি। ফেসবুকে বাগানের ছবি দিয়ে লিখেছেন, এই করোনাকালে বাগানই আমার বিনোদন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাগানটা ঘুরে না দেখলে ঘুম আসে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠে প্রথমেই ছুটে যাই বাগানে। ওদেরকে না দেখলে ভালো লাগে না।

অনলাইন এই গ্রুপটি বন্ধুত্ব ও সৌহার্দের দ্বারও উন্মুক্ত করেছে। নিউ ইয়র্ক থেকে একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘আহা কতোদিন জাম আলুর ভর্তা খাই না! কেউ কি আছেন যিনি মনোবাসনা পূর্ণ করাতে পারেন?
জবাবে জর্জিয়া থেকে একজন লিখেছেন, আপনার ঠিকানা ইনবক্স করুন। কিছুদিন পর দেখা গেলো ঐ ব্যক্তির বাসায় আলুর পাশাপাশি কাঁঠাল, বরই, আম, জামের সাথে মুরগির ডিমও পর্যন্ত ডাকযোগে পৌঁছে গেছে। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দেখে ভালোলাগায় মন ভরে যায়। অনুভব করা যায় বাঙালীর অতিথিপরায়ণতার সোনালি সৌরভ। সবজি ফলন শেষে কেউ নিজে ড্রাইভ করে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিলিয়ে দেবে। বাদ যাবে না প্রতিবেশীরাও।

কিন্তু এই সমাজের একটা শ্রেণী আছে যারা সব কিছু থেকেই বাদ পড়ে যায়। ভোগ বিলাসিতা তো দুরের কথা, ওরা মৌলিক চাহিদার সাথেও অপরিচিত। বিশ্বের অনেক শিশু এখনও রাতে না খেয়ে ঘুমাতে যায়। ১৫ কোটি মানুষ এখনও ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন, পাল ছেঁড়া নৌকার মতো উদ্বাস্ত হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। কৃষির আবিষ্কারের মাধ্যমে যে নারী সমাজ আমাদেরকে স্থায়ী জীবন উপহার দিয়েছে, তাদের জীবন ও সম্ভ্রমের কোন নিরাপত্তার নেই। কিন্তু কথা তো এমন ছিল না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল তো শুধু পয়সাওয়ালা মানুষের জন্য নয়। প্রকৃতির সম্পদে সকলের সম অধিকার। মানুষ মঙ্গল গ্রহে বসবাস করছে, সেই মানুষেই পৃথিবীতে ক্ষুধার্ত। অনেক আগেই কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন,
‘বিশ শতকের শেষপ্রান্তে এসে আমি লড়তে চাই না ভাতের জন্য। ভাতের জন্য সংগ্রাম করুক কাক-পক্ষী-বিড়াল-কুকুর…’

কবির অনুভূতি সত্য, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ক্ষুধার জ্বালায় এখনও মানুষ ডাস্টবিন থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আমেরিকায় বাঙালী নারীরা যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছেন, তা প্রকৃতিকে সবুজ ও সতেজ করবে কোন সন্দেহ নেই। আমিও চাই সবুজে সবুজময় হয়ে উঠুক এ বসুন্ধরা। সাথে এও চাই, সবুজের ছোঁয়ায় পরিবর্তন আসুক আমাদের মনোজগতেও; মনোজগতের পরিবর্তনে আসবে মানবিক পরিবর্তন, আর মানবিক মানুষদের পক্ষেই বিনির্মাণ করা সম্ভব ক্ষুধা ও বৈষম্যমুক্ত এক সুন্দর পৃথিবী।

২৬ মে ২০২১
নিউ ইয়র্ক।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বৃটানিকা, দৈনিক প্রথম আলো, Norman E. Borlaug, ‘The Green Revolution, Peace and Humanity।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.