পুরুষতান্ত্রিক অচলায়তন ভাঙার এক নিঃসঙ্গ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম

ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী:

আমাদের উইমেন চ্যাপ্টারের অষ্টম বর্ষপূর্তি!
হ্যাঁ, সুপ্রীতি দিদি উইমেন চ্যাপ্টারকে শুরু থেকে অগুনতি পাঠক – লেখকের (হোক সে নবীন বা প্রতিষ্ঠিত) হাতে এভাবেই তুলে দিয়েছেন যাতে অনায়াসে আমরা বলতে পারি – “আমাদের উইমেন চ্যাপ্টার”।

বয়সের হিসেবে উইমেন চ্যাপ্টার এখন আট বছরের ছটফটে এক বালিকা। মাত্র আট বছরেই সে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম! বাংলাদেশে নারীবাদ নিয়ে এতো আলোচনা – সমালোচনা বা বিতর্কের পথটা সামনে আনার ক্ষেত্রে উইমেন চ্যাপ্টারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমার কাছে উইমেন চ্যাপ্টার পুরুষতান্ত্রিক অচলায়তন ভাঙার এক নিঃসঙ্গ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দূরপাল্লার ট্রেনের মতো লেখাগুলো ছুটে আসে উচ্চকিত প্রতিবাদ নিয়ে – একেকটি লেখা যেন একেকটি দুরন্ত এক্সপ্রেস! কখনো বা ভারী মালবাহী ট্রেনের মতো যাপিত জীবনের ক্লান্তি ভুলে এক চিলতে আশ্রয়ের খোঁজে, একটুখানি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে। এই ট্রেনের টিকেটে কোনো প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণী নেই। বৈষম্য, অন্যায়, অনাচারের বিরুদ্ধে উইমেন চ্যাপ্টার সোচ্চার সদাসর্বদা। উইমেন চ্যাপ্টার আপোষহীন সমতা প্রতিষ্ঠা ও বাক স্বাধীনতার প্রশ্নে। এখানে তুমি গগনবিদারী চিৎকার কর, প্রতিবাদে মুখর হও, নির্জন বেঞ্চে একাকী বসে বিশ্রাম নাও – প্ল্যাটফর্ম তোমার জন্য উন্মুক্ত।

এই প্রতিবাদ, স্বাধীন মতবাদের জন্য লোকের চক্ষুশূল হতে হবে বলাই বাহুল্য। যুগে যুগে স্বাধীনচেতা নারী পুরুষতন্ত্রের চোখে “চরিত্রহীনতার” প্রতীক। উইমেন চ্যাপ্টারও এর ব্যতিক্রম নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রক্তচক্ষু গেলে দিতে দিনশেষের একলা লড়াইয়ে আরো অজস্র “চরিত্রহীন” প্ল্যাটফর্ম শামিল হোক।

শুভ জন্মদিন প্রিয় উইমেন চ্যাপ্টার! দুর্মুখের মুখে তুমি যত পারো ছাই দাও। সব ট্রেন ছেড়ে যাক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আবারো নতুন হুইসেল বাজবে। প্ল্যাটফর্মটা থাকুক।

শেয়ার করুন:
  • 68
  •  
  •  
  •  
  •  
    68
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.