বাংলাদেশের সাথে সকল চুক্তিতে মমতার ‘না’

Mamataউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: একসময় তিস্তা ও স্থল সীমান্ত চুক্তির পক্ষে থাকা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়ে সাফ নিষেধ করে দিয়েছেন।

মমতা তার ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, “কেন্দ্রের এতো তাড়া কেন, যে রাজ্য সরকারের মত না নিয়েই আমাদের জমি আমাদের জল দিয়ে দিতে হবে?”

স্থল সীমান্ত চুক্তি ও চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রটোকল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও দুইবার বিজেপি ও একবার মমতার বিরোধীতায় ভারত সরকার এ সংক্রান্ত বিলটি সংসদে উত্থাপন করতে পারেনি।

সম্প্রতি দীপুমনি ভারত সফরে গেলে স্থল সীমান্ত চুক্তি ও এ সংক্রান্ত প্রোটকল বাস্তবায়নের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ইতিবাচক মনোভাব দেখান। কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য দেশটির সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়জনীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা এককভাবে ইউপিএ সরকারের না থাকায় এটি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সফরে দীপুমনির বিজেপির সমর্থনের চেষ্টাও এ ব্যাপারে কাজে আসেনি।

মমতা শনিবার তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, “রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশকে ভূমি ছেড়ে দেয়ার এই প্রস্তাব কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।”
এর আগে ২০০৯ সালে মনমোহনের ঢাকা সফরে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বহু প্রত্যাশিত চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাও আটকে যায় মমতার আপত্তির কারণে।

অথচ ২০১১ সালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইকে লেখা পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের তৎকালীন মুখ্যসচিব সমর ঘোষের এক চিঠিতে মমতার স্থল সীমান্ত চুক্তির পক্ষে থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

মমতা ক্ষমতা নেয়ার ঠিক তিন মাস পরে স্থল সীমান্ত চুক্তিতে সায় দিয়ে পাঠানো ওই চিঠি শনিবার আনন্দ বাজার পত্রিকায় ছাপা হয়।

সমর ঘোষ ওই চিঠিতে লেখেন, “খসড়া চুক্তিতে রাজ্য সরকারের সম্মতির কথা আমি আপনাকে জানাচ্ছি।”

কিন্তু বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কোন এক রাজনৈতিক খেলার দিকে ইংগিত করে বিষয়টি থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন্দ্র সরকার এ কোন রাজনীতির খেলা খেলতে চাইছে?”

গত সপ্তাহে তৃণমূলের এক এমপি রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনের বিলটি তোলার চেষ্টা আটকে দেয়ার পর সালমান খুরশিদ আবারো মমতাকে বোঝানোর উদ্যোগ নিয়ে একটি বৈঠকের কথা বললেও সেই বৈঠক আর হবে না বলেই তৃণমূলের উচ্চ পর্যায় থেকে ইংগিত পাওয়া গেছে।

মমতা বলছেন, “ওই চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ মাত্র ৭ হাজার একর ভূমি পাবে। আর বাংলাদেশকে দিতে হবে প্রায় ১৭ হাজার একর ভূমি। ওই জমিতে যাদের বসবাস তাদের মত না নিয়ে এই চুক্তি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।”

শেষ মুহূর্তে কেন তিস্তা চুক্তিতে আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, খসড়া থেকে মূল চুক্তিটি একেবারেই আলাদা ছিলো।

এদিকে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার’ পরিকল্পনায় ওই সময় মমতাকে ২৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিতে রাজি না হওয়ায় তিস্তায় শোধ নেন এই তৃণমূল নেত্রী।

এদিকে শেষ মুহূর্তে ভারতের এমন ভূমিকা হতাশ করেছে সবাইকে। বিজেপির কয়েজন নেতা এই চুক্তিতে দলীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.