ধর্ষণের শিকার মেয়েদের কুমারিত্ব পরীক্ষা নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান কোর্ট

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক:

ধর্ষণের শিকার নারীর কুমারিত্ব পরীক্ষার কোন আইনি ভিত্তি নেই, এবং ভিকটিমকে অসম্মানিত করার জন্যই এতোদিন ধরে এই অনুশীলন চলে আসছিল বলে পাকিস্তানের লাহোর উচ্চ আদালত সোমবার এক আদেশে বলেছেন। বিচারক বলেছেন, ভিকটিমকে সন্দেহ করার প্রবণতা এবং যৌন সহিংসতার বিষয়টি থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই এই ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা চালু ছিল।

বিচারপতি আয়েশা মালিক রায়ে বলেন, কুমারিত্ব পরীক্ষা একজনের আত্মসম্মানের ওপর হামলাস্বরূপ, যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে মেডিকেল প্রটোকলের নাম করেই এ ধরনের পরীক্ষা চালানো হলেও বস্তুত এর পিছনে কোনরকম বিজ্ঞান তো নেই-ই, মেডিকেল প্রয়োজনিয়তাও নেই।

২০১৮ সালের জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ২০ টি দেশে যৌন সহিংসতার ঘটনায় নারীর হাইমেন পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এবং এক্ষেত্রে মেয়েটির কাছ থেকে কোনরকম অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন বোধ করে না। বিশেষ করে যৌনতা সহিংসতার অভিযোগ যদি আসে বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্কের বিষয়ে। পাকিস্তানে এখনও বিবাহপূর্ব যৌনতাকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং এরকম অভিযোগে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়ে থাকে।

লাহোর উচ্চ আদালতের এই রায়কে পাকিস্তানে দীর্ঘ কয়েক দশকের অ্যাক্টিভিজম এবং নারীবাদী আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে মেয়েদের কুমারিত্ব পরীক্ষার বিষয়টি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোরই অংশবিশেষ, যার মধ্য দিয়ে ভিকটিম নারীটি সত্যিই ‘ভিকটিম’ কিনা তা প্রমাণের মাধ্যমে নারীর চরিত্রের ওপর কলংকলেপনের কাজটি চলে আসছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা এখনও নারীদের জন্য অনেকটা অসম্ভব হলেও আদালতের এই রায় সেই প্রতিবন্ধকতা কাটানোর পথে অনেকটাই এগিয়ে দিল।

সূত্র: ইন্টারনেট

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.